ইয়াসে লন্ডভন্ড উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ, দুই রাজ্যে পাঁচ জন নিহত

সন্ধান২৪.কমঃ ভয়ঙ্কর  ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওড়িশার বালেশ্বর এলাকা। ইয়াসের আঘাতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওড়িশায় দুই জন এবং পশ্চিমবঙ্গে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর, স্থাপনা, গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার সকালে ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বেগে উড়িষ্যায় আছড়ে পড়ে । আঘাত হানার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায় বালেশ্বর, ভদ্রক, জগদীশপুরসহ অসংখ্য অঞ্চলে। ইয়াসের আঁচ পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের দুই মেদিনীপুরেও। ঝড়ের আঘাতের পর বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা। উড়িষ্যায় ৫ লাখ ৮০ হাজার এবং পশ্চিমবঙ্গে ১৫ লাখ মানুষকে উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ

ওড়িশার বালাসোরের বিধ্বস্ত মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন এক ভক্ত

কারণে প্রাণহানি ঘটেনি তেমন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, তার রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১ কোটি মানুষ। শুক্রবার ও শনিবার হেলিকপ্টারে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ৩ জেলা পরিদর্শন করবেন তিনি।

তিনি বলেছেন, তিন দিনের আগে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেওয়া যাবে না। মমতা বলেন, ‘১৫ লাখ মানুষকে আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে পেরেছি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঝড় থেমে গেলেও এখনো বড় বিপদ আছে। সেটি হলো নদী ও গঙ্গায় জোয়ার। নদী ও গঙ্গার পানি প্রায় ৫ ফুট উঁচু হতে পারে।’

মমতা ব্যানার্জি তার মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম ও সোনাচূড়ায় অনেক কিছু ভেসে গেছে। সাগরদ্বীপে কপিলমুনি আশ্রমে জল ঢুকেছে। বাঁধ ভেঙে গেছে। সুন্দরবন ও দিঘায় বিদ্যুতের ক্ষতি হয়েছে।’

বাঁধ উপচে প্লাবিত সুন্দরবন :ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের দাপটে এবং বৃষ্টির জেরে সুন্দরবনের উপকূল এলাকার নদীতে ব্যাপক জলস্ফীতি। একাধিক জায়গায় বাঁধ টপকে পানি ঢুকে প্লাবিত হলো সুন্দরবনের গ্রামের পর গ্রাম। ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে কুলতলীর মৈপীঠেও। স্রোতের তোড়ে ভেঙে পড়ছে মাটির বাড়ি।

 

Exit mobile version