উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন বন্দিশিবিরের শিক্ষিকা

সন্ধান২৪.কম : বছরের পর বছর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ওপর  । তাঁরা যেন জন্মদানের কোটা অতিক্রম না করেন, সে জন্য নারীদের গর্ভধারণ এড়াতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর নারীদের সন্তান জন্মদান নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে । 

শিবিরগুলোর সাবেক এক শিক্ষিকা কেলবিনুর সিদিক, চীন সরকারের হাতে জোরপূর্বক বন্ধ্যার শিকার ও শিনজিয়াংয়ে বন্দিশিবিরে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ।  যাকে শিনজিয়াংয়ে বন্দিশিবিরে আটকদের ক্লাস নিতে বাধ্য করা হতো। তিনি ৫০ বছর বয়সে চীনা সরকারের হাতে জোরপূর্বক বন্ধ্যা হতে বাধ্য হন। কেলবিনুর সিদিক জানান, শুধু সন্তানসম্ভাবনার নারীদের জোর করে বন্ধ্যা করা হয় না, যাদের সন্তান জন্মদানের বয়স পেরিয়ে গেছে তাদেরও বন্ধ্যা করা হয়।

২০১৭ সালের দিকে কেলবিনুর সিদিকের বয়স ছিল ৪৭ বছর। তখন তাঁর একমাত্র মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে আইইউডি নিতে জোরাজোরি করে। এরপর ৫০ বছর বয়সে তাঁকে বন্ধ্যা হতে বাধ্য করা হয়। 

 তাকে বলা হয়, আপনার জীবন নিয়ে জুয়া খেলবেন না, এটার চেষ্টাও করবেন না। আপনার জীবন শুধু আপনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আপনার পরিবারের সদস্য এবং আপনার চারপাশের আত্মীয়দের কথাও আপনাকে ভাবতে হবে। আপনি যদি আমাদের সঙ্গে লড়াই করেন এবং আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেন, তবে আপনকে থানায় নেওয়া হবে। আর সেখানে নিয়ে আপনাকে লোহার চেয়ারে বসানো হবে।

তিনি দ্বিতীয় যে শিবিরে কাজ করেছিলেন, যেখানে বেশির ভাগ তরুণী ছিলেন। বন্দিশিবিরের একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী তাঁকে বলেছিলেন, চীনা প্রশাসকদের দ্বারা বন্দিশিবিরে ধর্ষণ করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

জিনজিয়াং থেকে মুসলিম সংখ্যালঘুদের চীন ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি খুব কমই দেওয়া হয়। তবে উইঘুরদের তো কখনো নয় বলে জানান সিদিক। তিনি ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীন ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে কোথায় আছেন তিনি, তা প্রকাশ করেনি গার্ডিয়ান।  সূত্র : গার্ডিয়ান।

 

Exit mobile version