একসময়ের দাপুটে নেত্রী মাস্ক কেলেংকারির হোতা শারমিন গ্রেফতার

সন্ধান২৪.কম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্ক কেলেংকারির মূল হোতা শারমিন জাহান অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।

তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপি’র মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, রাতেই তাকে গ্রেফতার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রলীগের একসময় সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের মহিলা ও শিশুবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহসম্পাদক হন। সেইসব প্রভাব খাটিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ‘এন-৯৫’ মাস্ক সরবরাহের কাজ হাতিয়ে নেন। কিন্তু আসল মাস্ক সরবরাহের পরিবর্তে সরবরাহ করেন নকল ‘এন-৯৫’ মাস্ক। এ ঘটনায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন শারমিন জাহান নামে ওই নারী। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘এন-৯৫’ মাস্কের পরিবর্তে নকল ও ত্রুটিপূর্ণ মাস্ক সরবরাহ করায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। বিএসএমএমইউ’র প্রক্টর বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে আসামি করা হয়েছে। শারমিন জাহান সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের জন্য কর্তৃপক্ষ এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করে। কিন্তু চিকিৎসকদের মাস্ক দেওয়ার পর দেখা গেছে সেগুলো যথাযথ মানসম্পন্ন নয়। সবগুলো মাস্কই নকল। মাস্কগুলোতে লেখা ভুল, লট নম্বর নেই। পরে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়েও বুঝতে পারে এগুলো নকল। পরে কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। জবাবে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার শারমিন জাহান দুঃখ প্রকাশ করে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

 

Exit mobile version