সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের কারণে সৃষ্ট জলবায়ুগত পরিবর্তন নিয়ে আসছে এল নিনো (El Niño)। এর প্রভাবে নিউ ইয়র্কে চরম ও অস্বাভাবিক আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।
শুধু নিউইয়র্ক নয় মূলতঃ এটি গোটা পৃথিবীতেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে |
আবহাওয়াবিদদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বা “সুপার এল নিনো” (Super El Niño) তৈরি হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিউ ইয়র্কের ঋতুভিত্তিক স্বাভাবিক আবহাওয়াকে ওলটপালট করে দিতে পারে।
নিচে এর আগমন, প্রভাব, স্থায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
১. এটি কখন এবং কীভাবে আসবে?
কীভাবে আসে:
স্বাভাবিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুপ্রবাহ উষ্ণ পানিকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনোর সময় এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহ বা ‘জেট স্ট্রিম’ (Jet Stream)-এর গতিপথ পরিবর্তন করে নিউ ইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় আবহাওয়ার বিপর্যয় ঘটায়।
কখন আসবে: ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে।
২. নিউ ইয়র্কের আবহাওয়ায় কী ধরণের প্রভাব পড়বে?
এল নিনো সক্রিয় হলে নিউ ইয়র্ক প্রধানত দুটি বড় ধরণের পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে:
তীব্র ও রেকর্ডভাঙা গরম (গ্রীষ্মকাল):
এল নিনোর প্রভাবে নিউ ইয়র্কবাসীকে চরম তাপদাহ বা ‘হিট ওয়েভ’ সহ্য করতে হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রা যুক্ত দিনের সংখ্যা স্বাভাবিকের (গড়ে ১৮ দিন) চেয়ে অনেক বেড়ে ২২ দিন বা তার বেশি হতে পারে। একই সাথে তীব্র বজ্রঝড় ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে।
অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং তীব্র ঝড় (শীতকাল):
এল নিনোর বছরগুলোতে সাধারণত শীতকাল তুলনামূলক কম ঠান্ডা বা উষ্ণ হয় | (এমনকি ডিসেম্বরের শেষেও তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে)। তবে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ ‘নরইস্টার’ (Nor’easter) বা তীব্র শীতকালীন ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা এক বা দুটি ঝড়েই রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত ঘটাতে পারে।
আটলান্টিক হ্যারিকেন হ্রাস:
ইতিবাচক দিক হলো, এল নিনোর শক্তিশালী বায়ুর কারণে আটলান্টিক মহাসাগরে হ্যারিকেন বা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা কিছুটা কমে আসে।
৩. এটি কতদিন থাকবে?
সাধারণত একটি এল নিনো চক্র ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হলেও, শক্তিশালী বা সুপার এল নিনোর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। বর্তমান প্রজেকশন অনুযায়ী, এই এল নিনোটি আগামী শীতকাল পেরিয়ে টানা ১৮ মাস বা আগামী বছরের (২০২৭) মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
৪. কী কী প্রিকশান বা সতর্কতা নেওয়া দরকার?
গ্রীষ্মকালীন তাপদাহের জন্য প্রিকশান:
ইনডোর কুলিং নিশ্চিত করুন:
গরম শুরু হওয়ার আগেই ঘরের এসি (AC) বা ফ্যান সার্ভিসিং করিয়ে রাখুন। তীব্র গরমে নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক কুলিং সেন্টারগুলোর অবস্থান জেনে রাখুন।
হাইড্রেটেড থাকুন:
বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইট সাথে রাখুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পরিহার করুন।
সান প্রোটেকশন: তীব্র রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং ছাতা বা হ্যাট ব্যবহার করুন।
শীতকালীন ঝড় ও আকস্মিক বন্যার জন্য প্রিকশান:
ড্রেনেজ ও বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার:
ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ে পানি জমে যাওয়া আটকাতে বাড়ির সামনের ড্রেন, নর্দমা ও লিফ-গাটার (Leaf Gutters) পরিষ্কার রাখুন। উপকূলীয় নিচু এলাকায় থাকলে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য বালির বস্তা (Sandbags) প্রস্তুত রাখতে পারেন।
জরুরি কিট (Emergency Kit) তৈরি রাখুন:
আকস্মিক ঝড় বা নরইস্টারের কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় (Power Outage) হতে পারে। তাই ঘরে অন্তত ৩ দিনের শুকনো খাবার, পানি, ফার্স্ট এইড বক্স, ফ্ল্যাশলাইট এবং অতিরিক্ত পাওয়ার ব্যাংক মজুত রাখুন।
আবহাওয়ার আপডেট রাখুন: মোবাইলে Notify NYC অ্যাপটি ইনস্টল করে রাখুন অথবা National Weather Service (NWS) New York থেকে নিয়মিত আবহাওয়ার সতর্কতা বা ‘অ্যাডভাইজরি’ ফলো করুন।


