
সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : বিজেপি‘র তল্পিবাহক ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে অগ্নীগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। ‘ককরোচ’দের বিক্ষোভে ধর্মভিত্তিক ক্ষমতাশীন দল বিজেপি ও পুলিশ বিপাকে পড়েছে।
দুপুর পর্যন্ত ১০০০-এর মত বিক্ষোভকারীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লির যন্তর মন্তর।


ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় গোটা দেশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিবিরের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দিল্লি থেকে পশ্চীমবঙ্গ-মুম্বইয়ে কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতি! এমন আবহে বাণিজ্যনগরীর শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টি আয়োজিত প্রতিবাদী কর্মসূচিতে শুক্রবার দুপুরেই যোগ দেন নাসিরুদ্দিন শাহ। খানিক বেলা বাড়তেই একে-একে শামিল হন শাবানা আজমি, বিশাল ভরদ্বাজ, রেখা ভরদ্বাজরা। সেখানেই প্রতিবাদী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘গো জ্ঞানু গো’ স্লোগানে ঝড় তুললেন বিশাল দাদলানি।


“সমস্ত ভারত কার্যত আন্দোলনকারীদের দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। একদিকে যখন মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি, তখন অন্যদিকে দেশের সব জেলায় জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বামপন্থী দল, কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোট। আটক করা হয়েছে সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আপ নেত্রী তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে। প্রসঙ্গত, এই নেহাই যন্তর মন্তরে আরশোলাদের আন্দোলনে গোড়া থেকে জুড়ে ছিলেন।
সরগরম রাজধানীর দিল্লি ও মুম্বাই। দু’জায়গাতেই জমায়েত এবং বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে বিরোধী দলগুলি। দেশের অন্যান্য জায়গাতেই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় এদিন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, শুক্রবার দিল্লিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আপ, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির কর্মীরা প্রতিবাদ সভার জানাতে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ জড় হন। যদিও দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের অনুমতি দিতে চায়নি। গোটা এলাকায় জারি ছিল কড়া বিধিনিষেধ। আন্দোলন চলাকালীন আম আদমি পার্টির (AAP) নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী এবং আপ-এর দিল্লি রাজ্য সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ-সহ প্রায় ১০০০-র মত বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মায়ানগরীতে জমায়েত শুরু করেছেন ‘আরশোলা’রা। সেদিন রাতেই বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। জমায়েতের জন্য কিছুক্ষণের জন্য থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকেকেও। যদিও খানিক বাদেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে ভারতীয় নাগরিক সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে এহেন জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


