সন্ধান২৪.কম : শিগগির কুলাউড়ার সরকারী দল আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হতে চলেছে। সিলেট বিভাগের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য সব চেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক সচেতন এলাকা হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া। কেন্দ্রের নির্দেশে প্রায় ১৫ বছর পরে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক চলতি মাসের ৩০ তারিখের ভেতরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে তালিকা জমা দেবার নির্দেশনা প্রদান করেন । এখন কমিটি গঠনের পালা । তাই দীর্ঘদিন পর আবারো নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপে সরগরম হয়েছে সরকারি দলের রাজনৈতিক ময়দান।

রাজনৈতিক সচেতন হিসেবে এই কুলাউড়া দেশের মধ্যে আলোচিত একটি এলাকা। এখান থেকে যেমন এক সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পদে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এক সময়ের ডাক সাইটের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ (বর্তমান সাংসদ, ঐক্যফ্রন্ট) আবার বর্তমানেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
সম্মেলনের দশ মাস পর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে । কমিটির খসড়া তালিকায় স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ঘরানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ নিজের স্থান করে নিতে অবসরপ্রাপ্ত সচিব থেকে শুরু করে ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রবাসীরাও জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা থেকে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।
কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কোন্দলে বিগত সময়ে সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর চরম ভরাডুবির ইতিহাসও রয়েছে। তবে স্থানীয় ও তৃণমূল আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খীরা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সৎ, ত্যাগী ও দলের জন্য নিবেদিত কর্মীরা কমিটিতে স্থান পেলে এবং অতীতের সকল বিভেদ ও গ্রুপিং দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে একটি স্বচ্ছ ও আদর্শিক নেতৃত্বের কমিটি গঠন হলে কুলাউড়া তাঁর হারানো দিনের নৌকার ঐতিহ্য ও জৌলুস ফিরে পাবে।
দীর্ঘদিন থেকে কমিটি না হওয়ায় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতানৈক্য, গ্রুপিং ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কুলাউড়া আওয়ামী লীগের ছন্দপতন হয় নেতৃত্বে। যার প্রভাব পড়েছে ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর। সেই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী (সুলতান মনসুর) জয়ী হলেও ২০০১ সালের পর থেকে নৌকার ভরাডুবি ঘটে বিভিন্ন নির্বাচনে।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের উপস্থিতিতে সম্মেলন এবং কাউন্সিল অধিবেশনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিছবাউর রহমানের কাছে উপজেলার কাউন্সিলাররা কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিলে জেলা নেতৃবৃন্দ কুলাউড়া আ. লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেণুকে সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, যুব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি ও সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিনকে সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েলকে সদস্য করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। তিন মাসের ভেতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও করোনা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে গত দশ মাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভবপর হয়নি।
স্থানীয় এবং সাবেক একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ৭১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট ৬৬ পদে ৮টি সহ-সভাপতি, ৩টি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৩টি সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য সম্পাদকীয় পদ ও সদস্য পদে স্থান করে নিতে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত সচিব মিকাইল শিপার, মো. আব্দুর রউফ, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, সিনিয়র সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, ডা. রুকন উদ্দীন আহমদ, মবশ্বির আলী, ফারুক আহমদ, অধ্যাপক মো. শাহজাহান, অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু, গৌরা দে, শফিউল আলম শফি, অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদির, ফজলুল হক ফজলু, মনসুর আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক সিএম জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রব মাহবুব, আব্দুল মজিদ মনু, আলহাজ্ব মছদ্দর আলী, খোরশেদ আলী, আব্দুর রউফ তুতি, আব্দুল বারী, খালেদ পারভেজ বখ্স, আইয়ুব আলী, লুৎফুর রহমান চৌধুরী, মো. ইউনুছ আলী, কামাল হাসান, মো. আব্দুল মালিক, নুরুল ইসলাম খান বাচ্চু, খায়রুল ইসলাম সুন্দর, তফাজ্জল হোসেন চিনু, ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপি, মো. মমদুদ হোসেন, বদরুল ইসলাম বদর, অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, আব্দুল মালিক, আকবর আলী সোহাগ, মনির আহমদ চৌধুরী, জাফর আহমদ গিলমান, এম এ রহমান আতিক, সেলিম আহমদ, আব্দুল আহাদ, সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম, নছিমুর রহমান নসিম, নবাব আলী সাজ্জাদ খাঁন, ফয়জুর রহমান ফুল, আব্দুল আজিজ, তাজ খাঁন, মুহিবুল ইসলাম আজাদ, নজরুল ইসলাম, আব্দুস সহিদ, ময়নুল ইসলাম সবুজ, বিদ্যাসাগর গোয়ালা, সত্য নারায়ণ নাইড়–, সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান মান্না, মোস্তাক আহমদ, জামাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী তরিক, মো. জীবন রহমান, আহসান মিরাজ, সৈয়দ আশফাক হোসেন। কালের কন্ঠ।