এই ঘটনায় জেলা শহর গাইবান্ধায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ-এর সর্বানন্দ ইউনিয়নের ধনিয়ার কুড়া গ্রামের মহাথিবর বাঁশফোরের একমাত্র মেয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বাড়ি থেকে বের হয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুরে তার নানার বাড়িতে যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় সর্বানন্দ ইউনিয়নের হায়দার মেম্বরের বাড়ির সামনের রাস্তায় এলে সেখান থেকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ করা হয়। রাতভর হায়দার মেম্বর, আবদুল মোতালেব, আবদুল মতিন ও মোজাম্মেল হক এই চারজন মিলে ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। পরে মেয়েটির জ্ঞান ফিরে এলে সে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি খুলে বলে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ চিকিৎসা দেয়া হয়।
শুক্রবার মেয়ের বাবা মহাবির বাঁশফোর মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চেয়ে গ্রামবাসীর কাছে যায়। তারা বিচারের নামে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু মেয়ের মা ও বাবা গ্রাম্য সালিসে বিচারের নামে টাকা নিয়ে ব্যবসা করার বিষয়টি মেনে নেয়নি। তারা তার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করে সুন্দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে ইউপি মেম্বরসহ চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাসি চালানো হয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় শহরের ডিবি রোডে হরিজন, আদিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা গণধর্ষণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।
আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম, বাংলাদেশ বাঁশফোর (হরিজন) কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম), নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের সভাপতি সুনিল রবিদাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ও আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাহাঙ্গীর কবির তনু, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র জিএম চৌধুরী মিঠু, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সদস্য সচিব ও অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, মানবাধিকার কর্মী অঞ্জলী রানী দেবী, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম, বাংলাদেশ বাঁশফোর (হরিজন) কল্যাণ পরিষদের সভাপতি কৃর্তন বাঁশফোর, দলিত নেতা খিলন রবিদাস, কৈলাশ রবিদাস, দুঃখু রবিদাস, সভাপতি বিআরএফ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, সুজন রবিদাস, নয়ন ভুঁইমালী, বাবলু রবিদাস, সুজন রবিদাস, টুকু রবিদাস, দিপলাল রবিদাস, অধীর রবিদাস, মনোজ প্রসাদ প্রমুখ।
