সন্ধান ২৪.কম : ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাসায় ফিরছেন স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের পথ রোধ করেন কথিত পুলিশের সোর্স মো. শফি। বিয়ের প্রমাণপত্র দেখতে চান তিনি। যেহেতু স্বামী স্ত্রীর হাতে কাবিননামা নেই। তাই শফি বললেন, ‘কোন হুজুর বিয়ে পড়িয়েছে, সেই হুজুরের কাছে নিয়ে যেতে হবে। প্রমাণ করতে হবে তোমরা স্বামী-স্ত্রী।’
বিপদ বুঝে স্বামী ফোন করলেন বন্ধু জাবেদকে। কিছু সময় পর তিনি পৌঁছলেন ঘটনাস্থলে। এরপর অটোরিকশায় করে হুজুরের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা। কিন্তু হুজুরের বাড়ি খুঁজে পাওয়া গেল না। এবার একটি কলোনির সামনে থামানো হলো অটোরিকশা। স্বামীকে অটোরিকশায় বেঁধে রেখে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন জাবেদসহ পাঁচজন । ঘটনাটি গত শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন মোড়ে। কালের কন্ঠ
স্ত্রীর ওপর যখন নিপীড়ন চলছিল, তখন বাঁধা অবস্থায়ই কৌশলে নিজের মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন স্বামী। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে উদ্ধারসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গৃহবধূর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরো দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক ফাঁকে পালিয়ে যান শফি।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. বাদশা মিয়া (৩৬), মো. জাবেদ (২৮), মো. রবিন (১৯) ও মো. ইব্রাহীম (৩০)। এঁদের মধ্যে ইব্রাহীম ছাড়া শফিসহ সবাই অটোরিকশাচালক। ইব্রাহীম পেশায় দারোয়ান। এই চার আসামির মধ্যে তিনজন গত রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের কথিত সোর্স শফি গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিন্টন সরকার বলেন, ‘মো. শফি নামে বায়েজিদ থানা পুলিশের কোনো সোর্স নেই। সে মূলত রিকশাচালক। কখনো কখনো অটোরিকশা চালায়। আর নিজেকে নাকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয় দেয়। অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।’
বায়েজিদ জোনের সহকারী কমিশনার বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান শুরু করে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার এবং চার ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
