এ সঙ্কটের মধ্যেও আশার কথা হলো, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। আর বাংলাদেশের এ অর্জনের প্রশংসা সারা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। সর্বশেষ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারাই এর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
আম্পান সম্পর্কে বলা হচ্ছিল, এটি শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, যার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে। সরকার ইতোমধ্যে এগারো শ’ টাকা ক্ষয়ক্ষতির ঘোষণা দেওয়ার পর বরগুনায় সাড়ে ১১ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের খবর গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুস্পষ্ট না হলেও ধারণা করা যাচ্ছে এ অংক আরও বৃদ্ধি পাবে।
বস্তুত এ ধরনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পেতে কয়েক দিন লেগে যায়। এখন বাংলাদেশের উচিত হবে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তা মোকাবেলার পদক্ষেপ নেওয়া।
বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের যে সফলতা, সেটি এসেছে মূলত আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ থেকে। মানুষ ও গবাদিপশুকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া, তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং কেউ যেতে না চাইলে তাকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে মানুষ ও পশুর প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। উপকূলীয় মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতাও তৈরি হয়েছে বলা যায়।
বারবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানায় এ দুর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতাও সঞ্চিত হয়েছে উপকূলবর্তী মানুষের। তবে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোয় মূল চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো আঘাত-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।
আমরা আশা করব, করোনা মোকাবেলায় বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রণোদনা ঘোষণা করে কিছুটা চাপে থাকলেও ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পুনর্বাসনেও মনোযোগ দেবে সরকার। বর্তমানে করোনা মহামারী সৃষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাইরের দেশ থেকে সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজেদের সম্পদ দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে দুর্যোগ সৃষ্ট পরিস্থিতি। এক্ষেত্রে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে থাকতে হবে সতর্ক। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত যেন করোনাকবলিত দেশবাসীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা না দেয়- সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
দুটি বড় বিপর্যয় একক প্রচেষ্টায় কাটিয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে যে, এ দেশের মানুষ নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করার সামর্থ্য রাখে। বাংলাদেশ সেটা পারবে বলেও আমরা আশাবাদী।
একইসঙ্গে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, এনজিও এবং সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষের পুনর্বাসনে, তাদের সহায়তায় সর্বোত্তম চেষ্টা করা। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঈদের খুশি সবার মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ দুটি দুর্যোগই কাটিয়ে উঠতে পারবে- এটাই প্রত্যাশা।☆
