চিন ঢোকেনি? মোদীর মন্তব্যে স্তম্ভিত দেশ !

 

সন্ধান ২৪.কম ঃভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর  মন্তব্যে  স্তম্ভিত-হতভম্ব দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক মহল।পূর্ব-লাদাখের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা সেনার অনুপ্রবেশের ঘটনা যে ভাবে ‘খারিজ’ করেছেন নরেন্দ্র মোদী, তাতে স্তম্ভিত-হতভম্ব দেশ।

যে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ফায়দার জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে বারবার, সেই তিনি চিনের মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে চলতি সঙ্ঘাতের মধ্যেই কী করে এমন মন্তব্য করে বসলেন, তা নিয়ে বিস্মিত রাজনৈতিক মহলও। অস্বস্তি তাঁর সরকারের অন্দরেও। শুরু হয়েছে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা। শনিবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি জারি করেছে।

সর্বদল বৈঠকে শুক্রবারের ওই মন্তব্যে সরাসরি ‘স্থান’ এবং ‘পাত্রের’ নাম করেননি মোদী। বলেছিলেন, ‘‘ওখানে কেউ আমাদের সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে আসেনি। ওখানে আমাদের এলাকায় কেউ ঢুকেও বসে নেই। আমাদের কোনও পোস্ট (সেনা চৌকি) অন্য কারও দখলেও নেই।’’তথ্যসুত্র আনন্দবাজার পত্রিকা।

এর পরই শুরু হয়ে যায় শোরগোল। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি) পেরিয়ে এসে চিনের এই আগ্রাসী কাণ্ড নিয়ে যখন দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়, তখন দেশের খোদ প্রধানমন্ত্রী কী করে এমন মন্তব্য করে বসলেন, যা কার্যত শত্রুপক্ষের হাতেই অস্ত্র তুলে দিল!

প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে—

• চিনা ফৌজ যদি ভারতের এলাকায় না ঢুকে থাকে, তা হলে কেন শহিদ হতে হল ২০ জন ভারতীয় সেনাকে?

• উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট, গলওয়ান উপত্যকায় ঢুকে এখনও ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। সোমবার রাতের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের দু’দিন পরে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, ‘‘এলএসি’র এ পারে ভারতীয় এলাকাতেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।’’ প্রশ্ন উঠছে, গলওয়ান উপত্যকায় যে ভারতীয় ভূখণ্ড চিন দখল করে বসে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর, তাকে কি তবে চিনা এলাকা বলেই মেনে নিচ্ছে মোদী সরকার?

এর পর পরই অনিবার্য ভাবে যে প্রশ্ন উঠে আসছে তা হল—

• পূর্ব লাদাখের কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ডকে কি চিনের এলাকা বলে স্বীকার করে নেওয়ার এবং ভারতের মানচিত্র পরিবর্তনের পথে হাঁটতে শুরু করার ইঙ্গিত দিল প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য?

প্রাক্তন বিদেশসচিব এবং চিন-আমেরিকাতে নিযুক্ত প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নিরুপমা রাওয়ের ব্যাখ্যা, ‘‘আমার মনে হয়, চিনের সঙ্গে শক্তির ফারাকের কথা ভেবে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে, সরকার বাধ্য হয়েই এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুনর্গঠন প্রশ্নে চিন আগের চেয়ে অনেক কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গলওয়ান-সহ এলএসি-তে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা শুরুর ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনায় এসেছে।’’ পাশাপাশি টুইটারে তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্যাংগং লেক এবং ডেপসামের ক্ষেত্রেও কি একই পথে হাঁটা হবে? সে ক্ষেত্রে কিন্তু এলএসি নিয়ে ভারতের এত দিনের অনড় অবস্থানের বদল ঘটতে দেখব আমরা।’’

Exit mobile version