সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। জাতিসংঘে ট্রাম্পের ছিল ভুল আর ভুলে ভরা, ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি অতিরঞ্জন !
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণে বেশ কিছু অতিরঞ্জন বা অসত্য দাবির কথা তুলে এনেছে। ৩৮ মিনিটের ভাষণে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প তার একটি প্রায়শই করা মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আটটি যুদ্ধের সমাধান করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল।’
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা বলছেন এবং তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন যে তাঁর অবসান ঘটানো অন্য দুটি যুদ্ধ ছিল— গত বছরের ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাত এবং মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার একটি কথিত যুদ্ধ।
ট্রাম্পের এই ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি স্পষ্টতই একটি অতিরঞ্জন। তার তালিকায় এমন দুটি পরিস্থিতির কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তার কার্যকালে আসলে কখনোই যুদ্ধ ছিল না। মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার পরিস্থিতিটি ছিল একটি ইথিওপিয়ান বাঁধ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ, কোনো যুদ্ধ নয়। সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে যে রহস্যময় কথিত সমস্যার তিনি সমাধান করেছেন বলে দাবি করছেন, সেটিও কোনো যুদ্ধ ছিল না।
ট্রাম্প অবশ্য ২০২৫ সালে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাতটির অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধ শুরু করতে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়।
ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানের সাথে যুদ্ধের পক্ষে দীর্ঘক্ষণ সাফাই গেয়েছেন। এবং তিনি দাবি করেছেন, ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহীরা বলতে পছন্দ করবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু তা সত্যি নয়। আমাদের কাছে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, যা আমরা কখনো ব্যবহার করার কথা ভাবতেও পারি না এবং আমরা এমন স্তরে এগুলো তৈরি করছি যা আমরা আগে কখনো করিনি।’
মার্কিন গোলাবারুদের মজুদের বর্তমান সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কিত গোপন তথ্যে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই এবং ট্রাম্প কাদের ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহী’ বলছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধ যে মার্কিন গোলাবারুদের অন্তত কিছু স্তরের মজুদ কমিয়েছে; তা কেবল গণমাধ্যমই রিপোর্ট করেনি; প্রতিরক্ষা বিভাগ তদারকি করা ফেডারেল ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং ফেডারেল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসও গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে মূলত একই কথা বলেছে।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধের হার কমার যে চিত্র, তা আবারও বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘গত বছরের ২০ জানুয়ারি আমি যখন ওয়াশিংটন, ডিসি-তে এসেছিলাম, তখন এটি অপরাধে জর্জরিত ছিল এবং এখন অপরাধের হার ৮৭ ভাগ কমে গেছে এবং আমরা এটিকে শতভাগে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ এই ৮৭ ভাগ কমার দাবিটি মোটেও সঠিক নয়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গত আগস্ট মাসে এক প্রতিবেদনে জানায় যে, দেশের রাজধানীতে অপরাধের হার ৮১ ভাগ, ৮৮ ভাগ বা ৯২ ভাগ কমে গেছে বলে ট্রাম্প যে দাবিগুলো করেছেন, হোয়াইট হাউস তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। কালের কণ্ঠ ডেস্ক
