সন্ধান২৪.কম: অস্কার পুরস্কার দেয়া হয় মোট ২৪ টি ক্যাটাগরিতে। আর এবার নিউ ইয়র্কে ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন প্রায় ৩০ জন শিল্পী-কলাকুশলী। তার মানে, অস্কারের চেয়েও ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস পদক প্রদানের দিক থেকে ৬ কাঠি উপরে। যতই দিন যাচ্ছে অ্যাওযার্ডের সংখ্যাও তত বাড়ছে। দিন দিন এভাবে পদক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে অচিরেই তা শতকের ঘরে পৌঁছে যাবে এবং গ্রিনিচ বুকে স্থান পাবে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির ইভাঞ্জেল চার্চ সেন্টারে গত ১০ অক্টোবর সম্পন্ন হয়েছে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। মূলত এই আয়োজনের প্রতিষ্ঠাতা দক্ষ সংগঠক আলমগীর খান আলম বাংলাদেশে যাওয়ার পর ঢালিউড অ্যাওয়ার-এর আকর্ষন, জৌলুস,মযার্দা এবং এর গরিমা অনেকটা ম্লাণ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে ঢালিউড থেকে অনেক দর্শক-শ্রোত মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

মাঝে মাঝে এই আয়োজন নিয়ে কমিউনিটিতে নানা রকম প্রশ্নও উঠেছে। অনেক ফাঁক-ফোকড় ও গোঁজা মিলের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয় বলে অনেকের মুখে শোনা যায়। তার মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন হচ্ছে-এই অ্যাওয়ার্ডস কে দেয় ? আর কে নেয় ? পদকপ্রাপ্তদের নির্বাচন করে কারা?
অনুষ্ঠানের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়-‘বাংলার সংস্কৃতি’কে তুলে ধরতে এই আয়োজন। কিন্ত অনুষ্ঠানে যে ধরনের নাচ-গান পরিবেশন করা হয়, এতে করে বাংলার সুস্থ্য ধারার সংস্কৃতির ১২টা বাজানো হয় বলে অনেকেই মনে করেন।

ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আগে টিকেট বিক্রীর কৌশল হিসেবে অনেক তারকার অংশ নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও অনেক সময় দেখা যায় অনেকে অনুষ্ঠানে আসেন না। এ নিয়েও বেশ কয়েক বছর থেকে দশর্ক-শ্রোতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শো টাইম মিউজিকের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে এসে একজন দর্শক বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যাদেরকে পদক দেয়া হয় তাদেরকে বিচারকমন্ডলীর একটি প্যানেল নির্বাচিত করেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হলেও একটিবারের জন্য বিচারকদের নাম ঘোষণা করা হয় না। কারণ হিসেবে অনেকেই বলেন , কিছু প্রবাসী অতিথির কাছ থেকে পদক দেয়া বাবদ কিছু অর্থ নেয়া হয়। আবার যে অতিথিরা( প্রবাসী)পদক প্রদান করেন, তাদের কাছ থেকেও অর্থ নেয়া হয় বাজারে গুজব আছে ।এবং অর্থের পরিমান নির্দ্ধারণ হয়, কে কাকে পদক দিচ্ছেন বা নিচ্ছেন। গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে অ্যাওয়ার্ডস দিলে বা নিলে অনুদান বেশী দিতে হয় বলে শোনা যায়।
যে বিষয়ে নুন্যতম যোগ্যতা নেই এমন অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকেও পদক দেয়ার অভিযোগ আছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যক্তি নির্বাচন বেশ প্রশংসাযোগ্য,সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
আর একজন দর্শক অভিযোগ করে বলেন, নিউইয়র্কেও কমিউনিটিকে বিভিন্ন ভাবে যে বা যারা কুলষিত করেছে, তাদেরকেও এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। পদক অর্র্জনকারীদের নাম শো টাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট খাইরুল ইসলাম খোকন নিজেই নির্দ্ধারণ করেন বলে এই দর্শক মনে করেন।
একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, যদি সঠিক ভাবে বিচার করে যোগ্যব্যক্তিদের পদক দেয়া হতো তবে এই আয়োজন নি:সন্দেহে অভিনন্দন যোগ্য হতো। এটি দুইবাংলার বাহিরে একটি নান্দনিক ও উচ্চমাত্রার অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করতো।
আর একজন দর্শক বলেন, ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’তার জৌলস ও আবেদন দিন দিন হারাতে বসেছে। এত বেশী সংখ্যক মানুষকে ‘অ্যাওয়ার্ডস’দেয়ার ফলে অ্যাওয়ার্ডসের গুরত্বও কমে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের সিংহভাগ ব্যয় হয়েছে ম্যারাথন পদক প্রদান আর বক্তব্যে। যা ছিল খুবই বিরক্তিকর। ফলে অনেককে অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন ।
জনপ্রিয় বিনোদন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ‘শো টাইম মিউজিক’-এর ব্যবস্থাপনায় এই আসরটিতে দেশ ও প্রবাসের শিল্পীরা অংশ গ্রহন করে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে। এরপর উদ্বোধনী সঙ্গীতের সাথে নিউইয়র্কের নৃত্যশিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।
এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ মেগাস্টার শাকিব খানের কাছ থেকে উপস্থিত দর্শকরা বিশেষ কোনো পরিবেশনা বা অভিনয় আশা করেছিলেন, কিন্তু সে আশা পূর্ণ হয়নি। এছাড়া সংগীতাংশের পরিবেশনায় সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভিনের সাথে নিউইয়র্কের স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের নাচ ছিল কিছুটা অগোছালো।
এবারের আসরে বিভিন্ন বিভাগে সেরাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেন মেগাস্টার শাকিব খান এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার লাভ করেন রায়হান রাফি, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কৃত হয় ‘বরবাদ’ এবং শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে সম্মাননা পান শিশুসাহিত্যিক ও গীতিকার হুমায়ূন কবীর ঢালী। খলচরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন নন্দিত অভিনেতা মিশা সওদাগর।
চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য আরও বেশ কয়েকজন তারকা ও কলাকুশলীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এই তালিকায় ছিলেন অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন, অভিনেতা অমিত হাসান, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, নির্দেশক অমিতাভ রেজা, অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা, শারমিনা খান মাহি, শিরিন শীলা, দীঘি, ফাল্গুনি রহমান জলি, স্পর্শিয়া এবং অভিনেতা ইমনসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে ফোক, রক ও আধুনিক গানের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন ইবরার টিপু, কামরুজ্জামান বকুল, শাহ মাহবুব এবং বিন্দুকণার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা।
বাংলা মিডিয়া ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা শারমিনা সিরাজ সোনিয়া ও ফাহাদ সোলায়মান।এই আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন শো টাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট খাইরুল ইসলাম খোকন।
তবে শোটাইম মিউজিকের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর খান আলমের অনুপস্থিতি উপস্থিত কলাকুশলী, দর্শক ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনুভূত হয়।
মঞ্চে অভিনেতা অমিত হাসান ও ইমন, শিরিন শীলা, জনির সাথে নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। গত দুই দশকের বেশী সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’।
0000000


