ধর্ম অবমাননা: সাতক্ষীরায় যুবককে পিটুনি,হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর,পরে মৃত্যু

সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : বাংলাদেশর সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার দফায় দফায় পিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। প্রথম দফায় পিটুনির পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। রাতে সেখান থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি অডিও কথোপকথনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল আলম বলেন, শামীমের কয়েকটি অডিও কথোপকথন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব কথোপকথনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন মন্তব্য শোনা যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শামীম মাটিতে পড়ে আছেন। তাঁকে ঘিরে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন। কয়েকজন মুঠোফোনে ভিডিও করছেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নিহত যুবকের শাস্তির দাবিতে দেবহাটা উপজেলা সদরে একদল মানুষকে মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিল থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাঁরা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে যুবক যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, উপস্থিত লোকজনকে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানাতেও শোনা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে রাতে দেবহাটা উপজেলা সদরে একদল মানুষকে মিছিল করে শামীমের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। মিছিল থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ভিডিওতে লোকজনকে শামীম যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানাতেও শোনা যায়।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শামীমকে মারধরের খবর পেয়ে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর করেন। পরে সাতক্ষীরায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

তবে শামীমের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, কয়েক দিন ধরে শামীম অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, শামীম মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। কয়েক দিন আগে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে মারধর করছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ছিল, শামীম ধর্ম অবমাননা করেছেন।

ওসি আরও বলেন, রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দুই থেকে আড়াই শ লোক হাসপাতালে গিয়ে শামীমকে চিকিৎসা দিতে বাধা দেন। পুলিশ, আনসার সদস্য ও চিকিৎসকেরা বাধা দিলেও তাঁরা শোনেননি। একপর্যায়ে পেছনের দরজা ভেঙে ওয়ার্ডে ঢুকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার সকালে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথম দফায় মারধরের পর শামীমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতে শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে অন্য রোগীদের সামনে ওয়ার্ডের ভেতরে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আবার মারধর করা হয়। এতে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি এইচ এম শাহীন।

 

Exit mobile version