নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’ উদযাপন

সন্ধান২৪.কমঃ বুধবার (২৮ জুন) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুসলমানদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন হয়েছে।
ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের মানুষের সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হয়।
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত। ঈদের নামাজ শেষে অনেকেই কোরবানি দিতে চলে যান।


অধিকাংশ ঈদ জামায়াত সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাললাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণ।
নামাজে যোগ দেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসী বাঙালিরা। এ সময় তারা দেশে থাকা স্বজনদের স্মরণ করেন।
বাংলাদেশীসহ মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঈদের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে একে ওপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সকলে। দেশে রেখে আসা স্বজনদের স্মরণে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।


নামাজ আদায় শেষে মুসল্লীরা একে অন্যের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুরো দিন স্বদেশে স্বজনদের ছেড়ে দূর দেশে আসা প্রবাসীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় অনেক স্বদেশীকে একসঙ্গে পাওয়ায় তাদের কাছে এ মিলনমেলা পরিণত হয়েছিল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
ত্যাগের মহিমা নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিউইয়র্কে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হয়েছে কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পক্ষ থেকে টমাস এডিসন হাইস্কুলের মাঠে। সকাল সোয়া ৮টার দিকে একসঙ্গে ৬-৮ হাজার মুসল্লি এখানে জামাতে নামাজ আদায় করেন। ঈদ জামাতে ইমামতি ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জেএমসি’র খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
এর আগে ঈদের জামাতের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বার ডেভিড ওয়েপ্রিন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. সিদ্দিকুর রহমান। পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক আফতাব মান্নান।

নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের নিকটবর্তী খোলা মাঠে (পিএস ১০৬, ২১২০ সেইন্ট রেমন্ডস এভিনিউ, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক ১০৪৬২।) বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিপুল মুসল্লী এই ঈদ জামাতে অংশ নেন।
ঈদ জামায়াতে ইমামতি করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ইয়াহইয়া।
মসজিদের সভাপতি ডা. আবদুস সবুরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লালন আহমেদের পরিচালনায় জামাতের পূর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্দেজ এবং উপদেষ্টা মোহাম্মদ এন মজুমদার।

জ্যামাইকার মসজিদ আল আলাফা (আরাফা ইসলামিক সেন্টার)-এর উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় স্থানীয় সুসান বি এন্থনী স্কুলের খোলা মাঠে। এতে ইমামতি করেন ইমাম মোহাম্মদ শোয়েব। এখানে সর্বস্তরের শত শত পুরুষ ও মহিলা জামাতে অংশ নেন।
জ্যামাইকার ‘হাজী ক্যাম্প মসজিদ’ নামে পরিচিত মসজিদ মিশনে ঈদুল আযহার ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৬টায়, সকাল সাড়ে ৭টা, সকাল সাড়ে ৮টা ও সকাল সাড়ে ৯টায়। জামাতগুলোতে ইমামতি করেন যথাক্রমে হাফেজ রফিকুল ইসলাম, হাফেজ তানভিরুল ইসলাম, মওলানা মঞ্জুরুল করীম ও হাফজ মারওয়ান।
ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদের উদ্যোগে মসজিদ ভবনে ঈদের দুটি জামাত হয় যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৮টায় ও সাড়ে ৯টায়।
এদিকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন, কুইন্স, ব্রঙ্কস, ব্রæকলিন, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, বাফেলোসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদুল আজহার নামাজ হয়েছে। এছাড়া নিউজার্সি, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, টেক্সাস, মিশিগান, আটলান্টা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভেনিয়াসহ যেসব রাজ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছেন, সেখানেও বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত হয়েছে।

Exit mobile version