সন্ধান২৪.কম: ‘বিপর্যস্ত মানবতা,সংকটাপন্ন স্বাধীনতা প্রতিবাদে কন্ঠ মেলাই,প্রতিরোধে ঐক্য গড়ি’ স্লোগানকে ধারণ করে নিউইয়র্কে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
সাম্য, মানবিকতা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রত্যয়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সুনির্দিস্ট ও শুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে শেষের দিকে অনুষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণহীন, অগোছালো ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
গতকাল শনিবার ৩১ অক্টোবর বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা বাষির্কীর অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি ক্লারা রোজারিও‘র সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানা‘র প্রাক্তণ প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক বাঙালী‘র সম্পাদক কৌশিক আহম্মদ,সাবেক ছাত্র নেতা জূলফিকার হোসেন বকুল ও প্রোগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র‘র সভাপতি হাফিজুল হক।

এছাড়াও উদীচীর জন্মদিনকে শুভেচ্ছা ও উপস্থিত সুধীজনদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন,সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ,প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাবুল আচার্য্য,জামাইকা উদীচী শাখার সভাপতি আশীষ রায় ,ব্রঙ্কস শাখার সভাপতি শেলি শামস, প্রোগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র‘র সাবেক সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম প্রমুখ। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন উদযাপন কমিটির সদস্য জাকির হোসেন বাচ্চু।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র উদীচী, জামাইকা উদীচী ও ব্রঙ্কস শাখার উদীচীর শিল্পীরা সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়াও একঝাঁক শিশু শিল্পী চিত্রাংকন,নৃত্য ও কবিতা পাঠে অংশ নেন। অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন শাহীন আলম ও তার দল, দীলিপ মোদক,নিগার নাঈম তমা প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংস্কৃতিক চর্চা, মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তরা বলেন,১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত সত্যেন সেনের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি সাধারণ মানুষের অধিকার, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আসছে। সংস্কৃতিকে মানুষের মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে সংগঠনটি।
বক্তরা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তচিন্তা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে নিউইয়র্কে উদীচীর মতো সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

শুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দক্ষতার অভাবে শেষের দিকে অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণহীন ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
সময়ের সল্পতার কারণে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ পর্বটি দায়সারা ও তড়িঘড়ি করে শেষ করা হয়। এতে করে শিশুদেরকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়েছে বলে,প্রতিযোগিতায় উপস্থিত শিশুর একজন অভিভাবক এমন অভিযোগ করেন।

এছাড়া সাপ্তাহিক ঠিকানা‘র প্রাক্তণ ‘প্রধান সম্পাদক’ মুহাম্মদ ফজলুর রহমানকে বার বার ‘সম্পাদক’ হিসেবে পরিচয় করে দেন। এ ব্যাপারে উপস্থিত একজন বলেন,আয়োজকরা জানেনও না সাপ্তাহিক ঠিকানায় ফজলুর রহমানের ‘পদবী’ ছিল ‘প্রধান সম্পাদক’। এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে ভুল বার্তা চলে যায়,যা মোটেও সমুচিত না। এ ছাড়া উপস্থাপক অনুষ্ঠানে দুই/একজন অতিথি আলোচকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। এতেও বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, উদীচীর অনুষ্ঠানে অতিথিকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করা নান্দনিক রুচির পরিচয় বহন করে না। আয়োজকদের এ ব্যাপারে আরও যত্নশীল ও সর্তক হতে হবে।


