সন্ধান২৪.কম: নিউইয়র্কে বাড়ি বা দোকানের কনস্ট্রাকশন কাজ করাতে গিয়ে প্রতারক কন্ট্রাক্টরদের খপ্পরে পড়ে অর্ধ লক্ষ থেকে এক লাখ ডলারের মতো অর্থ খুইয়েছেন অনেক মালিক। দিনদিন এমন প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাবার কারণে বাড়ি বা দোকানের কাজ করাতে গিয়ে মালিকরা রিতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।
কুইন্স, ব্রæকলিন, ম্যানহাটন এবং ব্রঙ্কস-এ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরিকল্পিত প্রতারক হিসেবে গজিয়ে উঠেছে কিছু বাংলাদেশি এবং স্পেনিশ কন্ট্রাক্টর। যারা কাজের শুরুতে চুক্তির বেশিরভাগ টাকা নিয়ে কাজ শেষ না করেই আত্মগোপনে চলে যায়। তারা নিজেদের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন করে ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করে। তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে বাড়ি বা দোকানের অসাপ্ত কাজ শেষ করতে মালিকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ।
‘আজকাল’ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ম্যানহাটনের একজন ব্যবসায়ি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার বলেন, বাংলাদেশি কন্ট্রাক্টরকে পেয়ে প্রথমে খুশি হয়েছিলাম। কুইন্স ভিলেজে আমার বাসার কাজ এবং ম্যানহাটনে দোকানের কাজ করাতে গিয়ে আমার এক লাখ ডলারের মতো অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানের কাজ শুরু করার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি। ৬ মাস ধরে ম্যানহাটনে আমার ব্যবসা বন্ধ। অথচ গত ৬ মাস ধরে প্রতি মাসের ভাড়া হিসেবে ৭ হাজার ৫শ’ ডলার করে পরিশোধ করে চলেছি। কিন্তু দোকানের কাজ শেষ না করেই ওই বাংলাদেশি কন্ট্রাক্টর চলে গেছেন।
কোনভাবেই তাকে না পেয়ে বহু কষ্টে তার ঠিকানা বের করে ব্রæকলিনে তার বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি। ৭ হাজার ডলারের কাজের চুক্তি হবার পর ৩ হাজার ৫শ ডলার নিয়ে কাজ শুরু করে আবার পেমেন্ট নিয়ে সে আর আসেনি। তিনি জানান, এসব কন্ট্রাক্টররা শুরুতেই ক্যাশ ডলার নিতে চায়। কোন চেক-এ তারা পেমেন্ট নিতে চায় না বলে জানান তিনি। দ্বিতীয় আরেকজন কন্ট্রাক্টরকে ১২ হাজার ডলারের চুক্তিতে কাজ শুরু করার পর এখনো তা চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ লাখ ডলারের মতো অর্থ কন্ট্রাক্টরের কারণে নষ্ট হয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ি। ‘আজকাল’কে এই ব্যবসায়ি জানিয়েছেন, আমার মতো আরও অনেক ভুক্তভোগি রয়েছেন। যাদেরকে আমি চিনি। তারা প্রতারক কন্ট্রাক্টরদের দ্বারা আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেকে বাড়ির কাজ করাতে গিয়ে মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে কন্ট্রাক্টরকে ডলার দিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে জ্যামাইকায় ব্রায়ার রোডে আরেকজন বাড়ির মালিক তার স্টোর রুমের কাজ করাতে গিয়ে কন্ট্রাক্টরের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশি এই বাড়ির মালিক বাংলাদেশি এক কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে ৬০ হাজার ডলারের কাজের চুক্তি করেন। কাজের শুরুতেই ওই বাংলাদেশি কন্ট্রাক্টর ৪০ হাজার ডলার নিয়ে যান। ডলার নেওয়ার পর ওই কন্ট্রাক্টর কাজ করবেন না বা কাজ কিছুদিনের মধ্যে শেষ করবেন এমন কোন কিছু না জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এমন অবস্থায় আদালতের স্মরণাপন্ন হন বাড়ির মালিক। তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, শুনানি শেষে কন্ট্রাক্টরকে ২৪ হাজার ডলার আমাকে ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বাড়ির মালিক ‘আজকাল’কে বলেন, এসব কন্ট্রাক্টররা বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন মানুষের নাম ব্যবহার করে কাজ নিয়ে থাকে। এই কন্ট্রাক্টর বাংলাদেশ সোসাইটির এক কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করেন। কিন্তু পরে কাজ শেষ না করেই বেশিরভাগ ডলার নিয়ে আর কাজ শেষ করেন না। এমনভাবে একাধিক মানুষের কাছ থেকে কাজের কথা বলে তারা হাজার হাজার ডলার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বাড়ির মালিক গত বুধবার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনার পরও ওই বাংলাদেশি কন্ট্রাক্টর ২৪ হাজার ডলার এখনো ফেরত দেননি। বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত বিব্রতকর অবস্থায় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এমন প্রতারকদের এখন ছড়াছড়ি। একটু সাবধান না হলে তাদের দ্বারা অনেক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশি একজন রিয়েল স্ট্রেট ব্যবসায়ি তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল জানিয়েছেন, প্রতারক কন্ট্রাক্টরদের উৎপাতে জ্যাকসন হাইটস-এ সংবাদ সম্মেলনও করতে হয়েছে বড়বড় ব্যবসায়িদেরকে। তারপরও কেউ না কেউ তাদের প্রতারণার খপ্পড়ে পড়ছেন। আদালতে মামলা করার পর তা নিয়ে আরও সময় এবং অর্থ নষ্ট হচ্ছে। প্রতারক কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে কমিউনিটির ব্যবসায়ি ও বাড়ির মালিকদের কাজের শুরুতেই সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।
##