সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন ঃ নিউইয়র্কে অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)। সোসাল মিডিয়াতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন বিভ্রন্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে ।এর ফলে অনেক আইনজীবির ‘আয়-ইনকাম’ বাড়ছে বলে জানা যায়।
এমন গুজব ছড়ানো ফলে নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

‘নিউ ইয়র্কে আইএস অভিযান জোরদার করার হুঁশিয়ারি’, ‘নিউইয়র্কে গণহারে গ্রেপ্তার চলছে’, “কাগজ-পত্রহীন”, “অবৈধ অভিবাসী সাবধান”, “গ্রেপ্তার এড়াতে আইনজীবির কাছে পরামর্শ নিন” সোসাল মিডিয়ায় এমন উদ্দেশ্যমূলক কিছু খবর ছাপা হচ্ছে । এর ফলে অনেক আইনজীবির আয়-ইনকাম বাড়ছে বলে জানা যায়।
‘নিউইয়র্কে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার’এমন খবর প্রচার হওয়ার সাথে সাথেই দুই/একজন আইনজীবিকে ফেসবুকে ‘অভয়বাণী’ দিতে দেখা যায়। ল-ইয়াররা সকল সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের সাথে দেখা করার পরামর্শ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের চায়না টাউন থেকে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার অন্তত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। নকল পণ্য বিত্রিু, জালিয়াতি, মাদকদ্রব্য পাচার,আইন শৃঙৃ্খলা পরিস্থিাতিকে অশান্ত করার মত অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং ২৪ ঘন্টা পর তাদেরকে ছেড়েও দেয়া হয়। অথচ বাংলাদেশী সোসাল মিডিয়ায় খবর প্রচার করা হয় ‘কাগজ-পত্রহীন’ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যা সম্পূর্ণ ভূঁয়া তথ্য ছিল।
এ দিকে নিউইয়র্কে বাঙালির রাজধানী হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটস থেকে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্ত কি কারণে,কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা এখনও জানা যায় নাই। কিন্ত সোসাল মিডিয়ায় বলা হয়, এদেরকে আইএস গ্রেপ্তার করেছে । ‘ইউটিউবার’ ও ‘ফেসবুকার’ এমন ভাবে শিরোনাম লেখেন তা দেখে পাঠকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন।
আইএস গ্রেপ্তারের কিছু খবর সঠিক নয়, বরং অতিরঞ্জিত ছিল বলে জানা গেছে। কমিউনিটির একজন সমাজ সেবক এই প্রতিবেদককে বলেন, অমুক বাঙালিকে আইএস ধরে নিয়ে গেছে- অনেক সময় এমন খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, নিউইয়র্কে কেমন করে শুধু বাঙালি অ্যারেস্ট হয় ? না কি এমন আজগুবি খবর প্রচার করা হয় কাগজ বিক্রি করার ফন্দিতে ? তিনি বলেন, আমি জেনেছি বাঙালি বেশ কয়জন ল-ইয়ার অসহায় অবৈধ্যদের ভয় দেখিয়ে কিছু টাকা কামানোর জন্য ধান্ধা শুরু করেছে।আইনজীবিরা বলছে অবৈধদের ধরে জেলে অথবা দেশে পাঠিয়ে দেবে। তাই জলদি করে আমাদের কাছে আসেন, কাগজ ঠিক করে আবেদন করেন।
নিউইয়র্কের একজন বাংলাদেশী বলেন, যারা অবৈধ, বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সাথে জড়িৎ, আদালত যাদের পূর্বেই চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তাদেরই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করছে।”
গত কয়েক দিনে নিউইয়র্ক থেকে বেশ কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এর আগেও শহরের বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা ।এর মধ্যে কিছু গ্রেপ্তার ছিল কাগজপত্র হীন অবৈধ অভিবাসীদের। আর কিছু ছিল নিয়মিত অভিযানের অংশ ছিল।
এছাড়া পুলিশ কিছু কিছু ব্যাপারে গ্রেপ্তার করছে, কিন্ত তারা বুঝতে পারেন না তাদেরকে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, না অন্য কোন অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইস প্রধান ডডল্যানড বলেছেন, শহরে এই ধরনের অভিযান আরে চালানো হবে। সম্পুর্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচেছ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিগগিরই বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা টম হোমান। সাম্প্রতিক একাধিক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নিউইয়র্কে “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক আইস এজেন্ট” মোতায়েন করা হবে এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির জোহরান মামদানি ফেডারেল সরকারের কঠোর অভিবাসন অভিযানের সমালোচনা করেছেন। অঙ্গরাজ্য সরকার সম্প্রতি এমন কিছু আইনও কার্যকর করেছে, যার উদ্দেশ্য অভিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং আইস এর কিছু কার্যক্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।