নিউইয়র্কে “বাংলাদেশ ডে প্যারেড” নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষ সরব সোসাল মিডিয়া

সন্ধান২৪.কম : গতকাল  রবিবার নিউইয়র্ক সিটি’র জ্যাকসন হাইটসে  “বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।  এ প্যারেডে নিউইয়র্ক সিটি’র নির্বাচিত প্রতিনিধি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কমিউনিটির নেতা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। এবারের প্যারেডে কিশোর-তরুণ-যুবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

প্যারেড়ে সফলতার পাশাপাশি অনেক ব্যর্থতাও উপস্থিতিদের চোখে পড়েছে,যা নিয়ে অনেকেই সোসাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্থায়ী মঞ্চে প্রায় ৩০ জনকে বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। মঞ্চ থেকে ভিড় কমানোর জন্য বার বার সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলাইমান অনুরোধ করলেও কেউ তার কথার গুরত্ব দেন নাই। মূলধারার রাজনীতিক ও প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেয়ার জন্য আহবান জানালে তাদেরকেও বক্তব্য দেয়ার জন্য ঠিক মত জায়গা দেয়া হয় নাই বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

একজন দর্শক কৌতুক করে বলে,দাড়িয়ে দাড়িয়ে অস্থায়ী মঞ্চ দখলের প্রতিযোগিতা দেখছি। দেখি কে হারে আর কে জেতে !

“বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬” নিয়ে অনেকেই সোসাল মিডিয়ায় বিরূপ মন্তব্য করেছেন। সম্মানিত পাঠকের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হলো:

সাংবাদিক  Shahidul M Islam সোসাল মিডিয়ায় বলেছেন, “বাংলাদেশ ডে প‍্যারেড ২০২৬ ভালো হয়েছে। বাপাসহ অন্যান্য এনফোর্সমেন্ট সদস‍্য, বিপা, বাফা ও জ‍্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী প‍্যারেডকে প্রাণবন্ত রেখেছিল।

বাংলাদেশ সোসাইটি সহযোগিতা করলে হয়তো আরো ভালো হতো। শুভ্র দেব, সজল, তিশাসহ কয়েকজন সেলিব্রেটি গাড়িতে অনেকটা লুকিয়ে ছিলেন। বিষয়টি ফালতু মনে হয়েছে। ভলান্টিয়াররা দায়িত্বশীল ছিলেন না। আয়োজকদের শেষ মুহূর্তের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ!

ভিন্ন ভাষাভাষীরা সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে প‍্যারেড উপভোগ করেছেন। আয়োজকরা ভুলত্রুটি শুধরে নেবেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ডে প‍্যারেড আরো ভালো হবে আশাকরি।”

নজরুল এমডি কবির ফেসবুকে বিশাল এক মন্তব্য মন্তব্য করেছেন, ‘নিজের দেশে রাস্তায় প্যারেড শুধু পারফরমেন্স হলে অসুবিধা নেই কিন্তু ভীনদেশে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্যারেডের উদ্দেশ্য যে এক নয় একথা কি আয়োজক বা প্রতিষ্ঠানগুলো অনুধাবন করেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

নানা দেশের মানুষ এবং মিডিয়াগুলোর চোখে- কিছু কিছু দলীয় নৃত্যের সুন্দর কোরিওগ্রাফি এবং যার যার মতো দল বেঁধে নেচে গেয়ে হেঁটে এবং ট্রাকে করে গান বাজিয়ে, অথবা দেশের রাস্তায় যেভাবে ব্যানার ধরে মিছিল করা হয় সেভাবে কিছু ব্যানার, বৈশাখী প্লেকার্ড আর অপরিকল্পিত সমাবেশ ..!

মনে হলো উদ্যোক্তারা নিজেরা কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বা পরিশ্রম না গিয়ে বিভিন্ন সংগঠনকে আমন্ত্রণ করেছেন যাতে প্যারেড ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক দেখানো যায়। মাছের তেল দিয়ে মাছ ভাজার মতো।

আমেরিকান বাঙালি পুলিশ সদস্যদের বান্ড বাদন ছিল সুশৃংখল ও আকর্ষনীয়।

এটাই কি বাংলাদেশ ! ? নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়ে এবং প্রবাসী অনেক বাঙালি প্রস্তুতি নিয়ে আনন্দ যাত্রায় সামিল হয়েছেন, তারা অবশ্যই দিনটি উপভোগ করেছেন সেটাও ভাল লেগেছে।

আমরা নানা সময় নিউইয়র্কের রাস্তায় নানা দেশের প্যারেড দেখে থাকি, তাদের স্বকীয় অতিহ্য ও সংস্কৃতির ভিন্ন উপস্থাপন দেখে কৌতূহল জাগে, তাতে একটি দেশের বিশেষত্ব ফুটে ওঠতে দেখা যায়।

মনে হতো আমার বাংলাদেশের সংস্কৃতি কতনা বৈচিত্র ! কতনা অনন্য ! আমরা সেগুলো দেখাতে পারলে ভিনদেশী মানুষেরা অবাক বিস্ময়ে কৌতূহলী হতো আর বাংলদেশের পরিচয় উঠে যেত নতুন উচ্চতায় !

কিন্ত আজ যা দেখলাম তাতে মনে হল আয়োজকরা নিজেরা পরিকল্পনা না করতে পারলে যোগ্য লোকেদের সম্পৃক্ত করতে পারতেন।

এদেশে সৃষ্টিশীল বাঙ্গালীর কি এতই অভাব ! যথাযথ পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা করলে বাংলাদেশের প্যারেড হতে পারত একটি ব্যতিক্রমী বিশ্বসেরা প্যারেড।

নিজের দেশকে বিশ্বদরবারে এভাবে দৈন্যভাবে উপস্থাপিত করার অধিকার কেউ কি রাখেন ?

ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠান যে কোন উদ্যোগ নিক তাতে প্রশ্ন নেই। কি টু যখন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয় তখন সেটি সেদেশের প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদার প্রশ্ন।”

অনেকে এই লেখার উত্তর দিয়েছেন।  Shaikh Siraj লিখেছেন- ‘কারণ সংগঠকরা সবজান্তা ন‍্যাতা ।যাদের ছোট্ট একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার যোগ‍্যতা রাখেনা অর্থের জোরে তথাকথিত নেইমার আর ফেইম দিয়ে তারা অগ্রভাগে এসে এই এলোমেলো কাজগুলো করে ফেলে”

Kanta Yeasmin– আপনাকে সহমত জানাচ্ছি। ভিডিও দেখার শুরুতে মনে করেছি না জানি আকর্ষণীয় কিছু একটা দেখব।কিন্তু শুধুই দেখলাম সামনের খালি রাস্তা,বিল্ডিং আর কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

আর নিজের চেহারা,চোখ,ঠোটের হাসি তুলে ধরছে। এবং এই একই রকম ভিডিও সবাই করেছে। বাংলাদেশের কি দেখা গেল??? ঐতিয্য মানে কি?

Ruhul Amin Ashrafi– সারা বিশ্ব দরবারে বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে আন্তরিকভাবে তুলে ধরতে হয় এর জন্য দরকার সুপরিকল্পনা এবং সংস্কৃতিক অভিজ্ঞ লোকদের সহযোগিতা।। যথাযথভাবে পরিকল্পনা নিয়ে আগামীতে সুন্দরভাবে উদযাপন হবে এ আশা রাখি

Rimon Islam– সম্পুর্ন একমত আপনার সাথে। শুধু হাটলে প্যারেড হয় না। বহু সংস্কৃতির নিউইয়র্কে নিজের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উন্নতি তুলে ধরতে হয়। এসব কিছুই ছিল না।

Panna Kabir– আমার মনে ও সংশয় জেগেছে ,বাংলাদেশের সংস্কৃতি ঐতিহ‍্য যে যার মত নেচে গেয়ে কতটুকু সমৃদ্ধ করতে পেরেছে॥

Sarqume Mohammed Kabir– আমি প্যারেডটা দেখলাম এখানে পুলিশ ব্যান্ড ছাড়া কিছুই তেমন আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি। আমাদের অনেক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এখানে তুলে ধরা যেতো। আমাদের সিলেটের অনেক লোক নিউইয়র্কে বাস করে তারা লোকজ সংস্কৃতি মুনি পুরি নৃত্য,হাসন রাজা,বাউল আবদুল করিমের গান তুলে ধরতে পারতো।

Mohammad Rakibul Islam– সহমত, পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাকি সবকিছুই ছিল বোগাস । তথাকথিত কিছু নট-নটি এনে তাদের দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করালেই তাতেই একটা দেশ ও জাতির প‍্যারেড হয়ে যায় না ! এমন একটা ভাবছিল অংশগ্রহণকারী স্টারদের, মনে হয় তাদের দেখলেই সবাই বিমোহিত হয়ে যাবে আর কিছুই লাগবে না !

কাজী রাহনুমা নূর– এসব দেশে এসে একটা জিনিস বুঝেছি যোগ্যদের কিছুতেই সুবিধাবাদী শ্রেণি উঠতে দিবে না।

Saki Choudhury– আপনি সক্রিয়ভাবে যোগদান করে বিষয়টি সুন্দরভাবে উত্থাপন করলেন না কেন ? নিজে কিছু করবেন না আর যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করে তাদের সমালোচনা করার অপেক্ষায় থাকবেন ! এটা কেমন কথা ?

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক গিয়াস আহমেদ ফেসবুকে প্যারেডের প্রসংশা করে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের New York City-এর প্রাণকেন্দ্র Jackson Heights-এ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে “বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬” সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো জ্যাকসন হাইটস পরিণত হয় এক টুকরো বাংলাদেশে।

এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবিদদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, এসেম্বলি মেম্বার ও সিটি কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশাত্মবোধক সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায় পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি এই প্যারেড প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

 

Exit mobile version