
সন্ধান২৪.কম: বাউল গানের অগ্রদূত লালন সাঁইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিউইয়র্কে হলো ‘সাধু মেলা’ ।
গত ৭ জুন জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে এটির আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মাটির গান’ । মানবতাবাদী সাধক লালনকে বেছে নিয়ে নিউইয়র্কে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করার পর এটাই তাদের প্রথম অনুষ্ঠান। শিল্পী ও উপস্থিত শ্রোতারা সাদা পোষাকে নীল আলোয় রাঙিয়ে লালন মগ্ন হয়ে উঠেছিলেন ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গানের অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই আলোক প্রজ্জ্বলন করেন যন্ত্রসংগীত শিল্পী দেবু চৌধুরী । উদ্বোধন করেন লালন সংগীত শিল্পী দীন আফরোজ রেবা । অডিও বার্তায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লালন আখড়ার অন্যতম খাদেম মোহাম্মদ আলী । উপস্থিত সুধীজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘মাটির গানে’র প্রধান বাউল শিল্পী শাহীন হোসেন।
অত্যন্ত নিষ্ঠা ও যত্নভরে শিল্পীরা সমবেত ও এককভাবে গান পরিবেশন করেন, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ‘কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা’, ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘সাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা’, ‘বিনা কার্যে ধন উপার্জন কে করিতে পারে’ ‘জাত গেল জাত গেল বলে’, ‘অপার হয়ে বসে আছি’ বিখ্যাত গানগুলি । মাটির গান তাদের প্রথম অনুষ্ঠানেই আলোকিত আনন্দযাত্রার অনাবিল সুরের আবেশে ভরিয়ে দিয়েছেন শ্রোতাদের। পরিবেশনে সবাইকে মনে হয়েছে অত্যন্ত প্রত্যয়ী শিল্পী।
শাহীন হোসেনের নেতৃত্বে সংগীত পরিবেশন করেন করিম হাওলাদার,মেরিয়ান রোজারিও, মলি দাস,তুলি বিশ্বাস, খালেদা পারভিন, তমালিকা নন্দীনী, কানিজ লুনা,খ্রিস্টেলা কুইয়া, সুশিল সিনহা। যন্ত্রসংগীতে ছিলেন দেবু চৌধুরী,স্বপন দত্ত,শফিক, রনজিত মন্ডল,রুবেল,শহীদউদ্দিন ও শাহীন হোসেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মাসুদ সুমন।
যন্ত্রসংগীত শিল্পী দেবু চৌধুরী তার বক্তৃায় বলেন, লালন সাঁইয়ের প্রাসঙ্গিকতা ক্রমেই বাড়ছে। তাঁকে নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। লালন সাঁইসহ আরও অনেক বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করা প্রয়োজন। মাটির গান সংগঠন সেই উদ্যোগ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহীন হোসেন স্বাগত বক্তব্য বলেন, লালন সাঁইকে দেখার জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেকটা পাল্টেছে। তাঁর দর্শন পশ্চিমা দার্শনিকদের মতোই জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা সম্ভব, আমরা সেই কাজটি করার চেষ্টা করবো।
‘আমি, আত্মা, পরম’, ‘দেহ, প্রকৃতি, প্রেম’ এবং ‘ভাষা, ভাব, উপলব্ধি’— লালন সাঁইয়ের এমন গানগুলো পরিবেশন করা হয়। এই মননশীলতার উপাদানগুলোকে যথাস্থানে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন তার জন্য শাহীন যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। শাহীন এককভাবে অনেকগুলো গান পরিবেশন করেন যা থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সঙ্গীতে তার শিক্ষার পরিচয়। তিনি লাললের গানের মর্মে প্রবেশ করতে পেরেছেন।
অন্যান্য শিল্পীরাও শ্রোতাদের প্রত্যাশা পুরণ করতে পেরেছেন। গানের সুরেও সমান অনুগত থাকতে পেরেছেন।
মাটির গানের প্রতিটি গান তিমিরবিনাশী আলোয় ভরে উঠুক নিউইয়র্কের সংস্কৃতি অঙ্গন,ভবিষ্যতের সেই প্রত্যাশা জাগিয়ে দিলেন শাহীন।
