সন্ধান ডেস্ক : জীবনের ৭৪ বসন্ত পেরিয়ে ৭৫-এ পা দিলেন নন্দিত নায়িকা শবনম। আসল নাম ঝর্ণা বসাক হলেও তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে শবনম নামেই পরিচিত। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪০ সালের ১৭ আগস্ট তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে আজকের দিনটিকে ঘিরে তার কোনো উচ্ছ্বাস নেই, নেই কোনো আনন্দ। ছেলের সঙ্গেই কাটবে তার সারাদিন।
তিনি একজন হিন্দু অভিনেত্রী হিসেবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে বা ললিউডে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত একাধারে সক্রিয় অভিনয় চর্চা করে গেছেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বা ঢালিউডে অভিনয় করে যাচ্ছেন। ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী শবনম ঐ সময়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম – উভয় অংশেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন।

শবনম বলেন, ‘এই বয়সে আসলে জন্মদিনকে ঘিরে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস বা আনন্দ থাকে না। তবে যেহেতু দীর্ঘদিন ঘর থেকে বের হওয়াই হয় না, তাই একমাত্র ছেলে রনিকে সঙ্গে নিয়ে আজ বাইরে কোথাও একসঙ্গে ডিনার করার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’ ‘নাচের পুতুল’খ্যাত নায়িকা শবনম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নামকরা নায়কের বিপরীতে তিনি অভিনয় করে সুনাম অর্জন করলেও তৎকালীন সময়ে শবনম-রহমান জুটি ছিল আলোচনার শীর্ষে। শুধু নায়িকা চরিত্র দিয়েই দর্শকের মন জয় করেননি শবনম। সময়ের পরিবর্তনে তিনি মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেও সাড়া ফেলেন। এখন তিনি অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও ভালো গল্পের সিনেমায় কাজ করার অপেক্ষায় আছেন। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমাতে অভিনয়ের পর বিগত প্রায় বাইশ বছরে আর কোনো নতুন সিনেমাতে অভিনয়ে দেখা মেলেনি শবনমের।
অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় নায়ক রাজ রাজ্জাকের লিপে মাহমুদুন্নবীর গাওয়া ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন’ গানটি এখনো দারুণ জনপ্রিয়। এই সিনেমার নায়িকা ছিলেন শবনম।
আর অভিনয় জীবনের দীর্ঘ একটি সময় তিনি পাকিস্তানের সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। সেখানকার দর্শকের কাছে এক মহান নায়িকার নাম শবনম। সেখানে সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১১ বার নিগার অ্যাওয়ার্ড। কিন্তু এখনো শবনম বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করার জন্য প্রবল আগ্রহী।
এদিকে পাকিস্তানে একটি টিভি সিরিয়ালে কাজ করছিলেন শবনম। কিন্তু আপাতত সেই সিরিয়ালের কাজও বন্ধ আছে। কথা ছিল পাকিস্তানের একটি সিনেমাতেও কাজ করার। তার নিজের অভিনীত একটি সিনেমার রিমেকে অভিনয়েরও কথা ছিল। কিন্তু আপাতত সব প্রোজেক্টেরই কাজ স্থগিত আছে। করোনার এই দিনগুলোতে শবনম রাজধানীর বারিধারাতে নিজের বাসাতেই অবস্থান করছেন। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া একেবারেই বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। সঙ্গে আছেন তার একমাত্র ছেলে রনি।
স্বনামধন্য সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষকে শবনম বিয়ে করেন ১৯৬৪ সালে। তাদের সংসারে জন্ম হয় একমাত্র সন্তান রনি ঘোষের। ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রম্নয়ারি গুলশানের নিজ বাসভবনে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে মৃতু্যবরণ করেন রবীন ঘোষ।