সন্ধান২৪.কম : দ্বিতীয় ধাপে ৬১ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রায় অর্ধশত বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে কঠোর বার্তা দিয়েও তৃণমূলে বিদ্রোহ ঠেকাতে পারছে না আওয়ামী লীগ।বেশিরভাগ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির প্রার্থীও আছেন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাইপর্ব শেষ হয়েছে, ভোট হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি।
আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিদ্রোহীদের বিষয়ে এখন খুবই কঠোর। স্থানীয় আওয়ামী লীগের যেসব নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের কাছে নেত্রীর কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় আছে। আশা করি কোন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।’

জানা গেছে, দিনাজপুরের তিনটি পৌরসভায় মেয়র পদে মোট ১৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিন পৌরসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মনোনীত তিন জন ছাড়াও স্থানীয় ৪ আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে দিনাজপুর সদরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজের পাশপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তহিদুল হক সরকারও স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিরামপুর পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আক্কাস আলী। এখানে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র আলহাজ লিয়াকত আলী সরকার টুটুল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিকুর রহমানও স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বীরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম নুর। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মোশারফ হোসেন বাবুলও এখনে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মতিউর রহমান মতির পাশপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর শাহী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মো. আলমগীরকে এ পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও সকালে কেন্দ্র থেকে মতিউর রহমান মতিকে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বাছাইয়ে মতিউর রহমানের মনোয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতা আবদুর রশীদ ফারাজীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জে ৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে বেলকুচি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বেগম আশানুর বিশ্বাসের পাশপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজা স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লাপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এসএম নজরুল ইসলামের সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আরিফ বিন হাবিব।
গাইবন্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ পৌরসভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতা দেবাশীষ কুমার সাহা ও মো. খয়বর হোসেন মওলা স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্র্থী পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা লিপন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা লিটন। তৃণমূল তালিকায় নাম না থাকায় এ দু’জনই জেলা কমিটির সুপারিশ নিয়ে কেন্দ্রে নাম পাঠান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান সেলিম রেজা।
কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভায় মেয়র পদে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এখানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. শওকত হোসেন ভুইয়ার পাশাপাশি চান্দিনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল বিভাগের বেশ কিছু পৌরসভায় মেয়র পদে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার মতে, কেন্দ্র থেকে যতই চাপ দেয়া হোক তৃণমূলে ব্যাপক পরিসরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিদ্রোহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে অতীতে বিদ্রোহীদের বিষয়ে কেন্দ্র নমনীয় আচরণ করলেও এবার সেটি হচ্ছে না। গতবারের অনেক বিদ্রোহী এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, যা আগামীতে উদাহরণ সৃষ্টি করবে।
দলের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, তৃণমূল থেকে কোন বিদ্রোহীর নাম তালিকায় না দিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনা রয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদকও একাধিকবার তার বক্তব্যে এই নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন। এরপরও কোন কোন এলাকার তালিকায় বিদ্রোহীদের নাম ঢুকিয়ে দেয়ায় বিব্রত পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড। বিদ্রোহীদের মদতদাতাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। ’
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া নির্বাচন উপযোগী পৌরসভার সংখ্যা ২৫৯টি। ইতোমধ্যে তিন ধাপে ১৫০টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি পৌরসভাগুলোতেও নির্বাচন হয়ে যাবে।
প্রথম ধাপে ২৮ ডিসেম্বর ২৫টি পৌরসভায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি ৬১টি পৌরসভায় এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ জানুয়ারি ৬৪টি পৌরসভায় ভোট হবে। প্রথম ধাপে সবগুলো পৌরসভায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম), দ্বিতীয় ধাপে ২৯টি পৌরসভায় ইভিএমে আর ৩২টি পৌরসভায় ব্যালট পেপারে এবং তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভার সবগুলোতে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ করা হবে।
এদিকে তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় ফরম বিতরণ ও জমা নেয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ যা আগামীকাল শেষ হবে। তফসিল অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে ৬৪ পৌরসভায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর। বাছাই হবে ৩ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ১০ জানুয়ারী । দৈনিক সংবাদ


