এস.কে. সরকার ঃ
‘প’ ‘ফ’ ও ‘ব’ তিনটি সংগঠন নিউইয়র্ক কমিউনিটিতে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। ‘প’ (প্রেসক্লাব) ‘ফ’ (ফোবানা) ও ‘ব’ ( বাংলাদেশ সোসাইটি) সংগঠনকে মানুষ না পারছে গিলতে, না পারছে উগলে দিতে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার সংগঠন হিসেবে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছেও ‘বাঙালিদের চিরাচরিত নোংরা স্বভাব’ বলে চিহ্নিত হচ্ছে।

প্রেসক্লাব ঃ
ডাক্তাররা বলেন,শষা পাকস্থলিতে গিয়ে নিজে হজম হয় না, কিন্ত অন্য খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে। আমাদের নিউইয়র্কেও সাংবাদিকদের হয়েছে সেই অবস্থা। এরা নিজে হজম হন না কিন্ত অন্যদের ছবক দেন। কোন সংগঠন ভেঙ্গে একাধিক হলে এরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে প্রশ্ন করে এবং সংবাদ লেখে। অথচ আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে না বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ৭ টি সংগঠন। একটি ভেঙ্গে ৭ টি হয়েছে। সদস্য সংখ্যা নাকি দুইশতাধিক।
৭ টি সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদককে যদি জিজ্ঞেস করা হয় ,নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কয়টি প্রেসক্লাব আছে ? কেউ চট করে এর উত্তর দিতে পারবে না। অনেক ভেবে-চিন্তে,হাতের আঙ্গুলে গুনে তবে হয়তো বলতে পারবেন।
কাউকে যদি বলা হয়,আপনার সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কত, কার্যকরী কমিটিতে কয়জন ও কে কে আছেন। এরও উত্তর সাধারণ সদস্যরা তো দূরের কথা ,শীর্ষ নেতারাও দিতে হিমশিম খেতে হয়।
প্রেসক্লাবের ভোট আসলে দেখা যায়, যারা বিভিন্ন পদের প্রার্থী হন,তারা তাদের কমিটির অনেককে চিনেন না। অন্য ষ্টেটে আছেন, কোন দিন দেখেও নাই। ফোন নম্বরও নাই। হয়ত এমন সদস্যও কমিটিতে আছেন,যিনি কোন প্রাগঐতিহাসিক কালে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়েছেন, তবু তিনি ভোটার।
কমিটিতে প্রকৃত সাংবাদিকের চেয়ে ‘ভূয়া; সাংবাদিকই বেশী। বাগানে যেমন ফুলের চেয়ে আগাছা বেশী হলে,নষ্ট কীটে ভরে যায়, এই প্রেসক্লাবগুলোতে নষ্টকীটে ছয়লাব হয়েছে। যার জন্য নিউইয়র্কে অপসাংবাদিকতার চাষ-বাস বেশী হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ ধারণার জন্ম নিচ্ছে।

ফোবানা ঃ
যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত চারটি ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা ) জন্ম নিয়েছে।
এর মধ্যে একটি বিএনপি সমর্থিত,একটি আওয়ামী লীগ ঘরানা ও দুটি বিভিন্ন দল-মতের মানুষদের মিলে-মিশে গঠন করা হয়েছে।
প্রেসক্লাবের মত যদি কেউ বলেন,আগামীতে ফোবানার সম্মেলন হচ্ছে, তা হলে প্রশ্ন আসে কোন ফোবানা ? সেটির হয়ত উত্তর দেয়া সম্ভব হয়। কিন্ত যদি বলা হয়,আমেরিকায় কয়টি ফোবানা ? তাহলে ঘোর বিপদ নেমে আসে। আমেরিকার শতকরা ৯৯.৯ জন বাঙালিই জানেনা ফোবানা কয়টি ? ফোবানা কি ? খায় না মাথায় দেয়?
অনিয়মের নানা ইতিহাস সৃষ্টি করা ফোবানার কথা শুনলেই অনেকের গায়ে জ্বর আসে। ফোবানার জন্ম থেকে শিল্পীদের অর্থ না দেয়া, আদম ব্যবসা, কমিটি গঠনে বানিজ্যের মত নানা অভিযোগ শোনা যায়। এ ছাড়া একটি ফোবানা অপর ফোবানার প্রতি বিষদগার, কুৎসা রটনা, অপপ্রচারের মত বিষয়গুলো চিরাচরিত প্রথা হয়ে দাড়িয়েছে।
সামারে ফোবানার মৌসুম আসলেই সংগঠনগুলো সমুদ্রের জোয়ারের মত ফুলে উঠতে শুরু করে। তারপর সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়,চার ফোবানাকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্ত যে লাউ,সেই কদু। বরং দিন শেষে দেখা যায়, ্ঐক্য তো দূরের কথা তার বদলে পরস্পরের মধ্যে বিভক্তি,দ্বন্দ্ব, বিভেদ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এসব দেখে কমিউনিটি এখন ফোবানাকে ‘ফোবা-না’ বলতে শুরু করেছে। অর্থ্যা কমিউনিটির মানুষ ফোবানার কথা শুনতে চায় না,ফোবানার সার্কাস থেকে মুক্ত থাকতে চায়।
এবার এই চারটি ফোবানা নিউইয়র্ক, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া এবং মিশিগানে পৃথক আয়োজনে ৩৮তম ফোবানা সম্মেলনের আয়োজন করছে। অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে শুক্র, শনি ও রোববার লেবার ডে উইকেন্ডে।

বাংলাদেশ সোসাইটি ঃ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি-ই একমাত্র একমাত্র সংগঠন, যেটি একখনও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয় নাই। তবে নিন্দুকেরা বলেন, সোসাইটির যদি নিজস্ব ভবন না থকতো,তবে এটির ভাগ্যেও হয়তো বিভক্তির চিহ্ন ফুটে উঠতো।
অনেকেই বাংলাদেশ সোসাইটিকে ‘মামলাবাজ’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ নির্বাচনের আগে না হয় পরে কোন না কোন অভিযোগ তুলে সংগঠনটিকে আদালতে তোলা হয়। এবং সেই মামলা লড়তে সোসাইটিকে কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করা হয়। ফলে সোসাইটির সাংগঠনিক কাজ ও উন্নয়নে মারাত্মক ব্যহত হয়।
এছাড়া নির্বাচনের সময় অধিকাংশ প্রার্থীদের কোন সাংগঠনিক যোগ্যতা,দক্ষতা ও সক্ষমতা দেখে প্যানেল তৈরী করা হয় না। প্রার্থীদের মূল যোগ্যতা নির্দ্ধারণ হয়, প্রার্থীরা প্যানেলে কত অর্থ দিতে পারে এবং নিজের পকেটের টাকা খরচ করে কে কত ভোটার বানাতে পারে। ফলে অর্থের জোরে অবৈধভাবে ভোটার বানিয়ে নির্র্বাচিত প্রার্থীরা সোসাইটিতে কোন সৃজনশীল ভূমিকা রাখতে পারেন না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। যার জন্য এই সংগঠনটি দিন দিন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।


