সন্ধান২৪.কম : গত সোমবার ছিল সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। তবে কর্মক্ষেত্রে নয়, এ দিন পথেই দেখা গেল হাজার হাজার কর্মীকে।এ দিন দেশজুড়ে ২০০টি শহরে ধর্মঘট সাড়া ফেলেছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

দাবি একটাই— বন্ধ হোক ‘পদ্ধতিগত বর্ণবাদ’। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের আবহে ৬০টি আলাদা কর্মী সংগঠনের ডাকে ‘স্ট্রাইক ফর ব্ল্যাক লাইভস’ নামের এই প্রচারে সাড়া দিয়ে ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন তাঁরা।
বর্ণবিদ্বেষের কারণে তৈরি বৈষম্য ঘোচানোর দাবিতে এ ভাবেই এক হল আমেরিকার বস্টন থেকে শুরু করে সান ফ্রান্সিসকো।
বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনও সহ এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিল ‘সার্ভিস এমপ্লয়িজ় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন-সহ আরও একগুচ্ছ মার্কিন কর্মী সংগঠন। ‘স্ট্রাইক ফর ব্ল্যাক লাইভস’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন আয়োজকেরা। সেখানে তাঁদের উদ্দেশ্য এবং দাবিগুলি স্পষ্ট ভাবেই উল্লেখ করেছেন আন্দোলনকারীরা। যার মধ্যে এক নম্বর ছিল — ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বা ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও যে দামী’ তা অদ্ব্যর্থক ভাবে ঘোষণা করুক বাণিজ্য, রাজনীতি এবং প্রশাসনের কর্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দিনের ধর্মঘটের জেরে এই প্রথম বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলন সরাসরি প্রভাব ফেলল মার্কিন অর্থনীতির উপর। আন্দোলনকারীদের তরফেও জানানো হয়, বাণিজ্য ক্ষেত্রে বর্ণবিদ্বেষ এবং সাদা চামড়ার আধিপত্যকে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়াও তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য। গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক শোষণ (এই করোনা আবহে যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের) বন্ধ করার পক্ষে কড়া পদক্ষেপের আর্জিও জানাচ্ছেন তাঁরা।
এ দিনের এই কর্মসূচিতে অত্যবশ্যকীয় পরিষেবায় কর্মরত মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। করোনা মোকাবিলায় প্রথম সারির যোদ্ধাদের অংশগ্রহণের হারও ছিল নজর কাড়া। যাঁরা গোটা দিনের জন্য আন্দোলনে যোগ দিতে পারেননি তাঁদের কমপক্ষে ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের জন্য কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন আয়োজকেরা। ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড— যে সময়টুকু কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের গলায় পা দিয়ে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার। যা থেকেই ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন ফের একবার মাথা চাড়া দিতে বাধ্য হয়েছে।