বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ স্থায়ী কমিটির !

.সন্ধান২৪.কম :  বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মনে করছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ভবিষ্যত রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর গুরুত্ব অনেকাংশেই কম। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জামায়াতের সঙ্গে বিদ্যমান জোটগত সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মৌখিক ও লিখিতভাবে বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখার সঙ্গে এসব অভিমত জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। 


বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য  জানান , করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর আগে থেকে বিএনপির ভবিষ্যত রাজনীতি কী হবে—এ নিয়ে সরাসরি পরামর্শ চান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিনা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজেদের মতামত ও কৌশল উপস্থাপন করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ প্রক্রিয়াটি সাময়িক বন্ধ থাকায় আবার শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে সীমিত পরিসরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। 

দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান,  তারেক রহমান দলের ভবিষ্যত রাজনীতি ও কৌশল নির্ধারণে করণীয় সম্পর্কে মতামত চান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে। মতামতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সম্পর্কের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় কোনও কোনও সদস্য বলেছেন, দলটির সঙ্গে যে সম্পর্ক এখন বিদ্যমান আছে, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে আগামী দিনে ক্ষমতাকেন্দ্রিক অবস্থান তৈরি করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে ধর্মভিত্তিক শক্তিগুলোর অবস্থান নব্বই দশক ও তার পরবর্তী সময়ের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই। এছাড়া বাংলাদেশে ভোটভিত্তিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষত রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার আপাতত কোনও বাস্তবতা নেই। আর এই প্রেক্ষিত করোনাভাইরাসের কারণে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে এখন পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় কয়েকটি পরাশক্তির ওপর নির্ভর করে। আর এই সমীকরণে ধর্মভিত্তিক বা জামায়াতে ইসলামীর মতো বিতর্কিত সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব।

জামায়াতের বিষয়ে জোটগত সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি আবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শুরু হবে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।  সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছিলাম। এখন তো সেভাবে নেই।  করোনার সমস্যা সমাধানের আগে হবে না। তবে এটা করতে হবে। কারণ এখানে দুটো ব্যাপার আছে, আমরা মিশিয়ে ফেলেছি।  নির্বাচনি জোট এক জিনিস, আন্দোলনের জোট আরেক জিনিস। আমরা জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করেছিলাম, সারা দুনিয়াতেই এটা চলছে। 

স্থায়ী কমিটির সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে দেওয়া প্রস্তাবে ড. মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিনা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতের বিরুদ্ধে সংশয়ী অবস্থান ব্যক্ত করেন। তারা শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে বিতর্কিত দলটির সঙ্গে সম্পর্ক, মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগি ও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

তবে স্থায়ী কমিটির সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও নজরুল ইসলাম খান জামায়াতের সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক রক্ষার পক্ষে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ থাকলেও কোনও কোনও নেতার আগ্রহে ধানের শীষে প্রার্থিতা করে জামায়াতের প্রার্থীরা। এ বিষয়টিও নির্বাচনে পরাশক্তিদের কাছে বিএনপিকে নতজানু করেছে বলে দাবি করেন একাধিক সদস্য।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যাদের আগ্রহে জামায়াতকে জোটসঙ্গী করে বিএনপি, তাদের প্রায় সবাই মারা গেছেন। এখন আগ্রহীর সংখ্যা কম। তবে কোনও-কোনও পক্ষ রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করে রাখতে জামায়াতকে সেঁধিয়ে রাখতে চাইছে। সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়ার আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে তার অবস্থানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। একইসঙ্গে মায়ের পথ ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জোটসঙ্গীদের নিয়ে আগ্রহ দেখাননি। তথ্যসুত্র : বাংলা ট্রিবিউন ।

Exit mobile version