সন্ধান ২৪.কম:সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হতে হবে
গত ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নীতিমালায় দেশের রপ্তানিকারকদের শর্তসাপেক্ষে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বৈধভাবে বিদেশে কোনো পুঁজি নেওয়ার সুযোগ নেই। এতদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত একটি কমিটির মাধ্যমে এ ব্যাপারে অনুমোদন পাওয়া যেত।
নতুন নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে বিদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী কোনো উদ্যোক্তা যদি ঋণখেলাপি বা করখেলাপি হন, তাহলে তিনি এ সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা, অর্থায়ন এবং বিনিয়োগে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানবসম্পদ না থাকলেও বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া যেসব দেশে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স কর্তৃক যেসব দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশেও বিনিয়োগ করা যাবে না।
বহির্বিশ্বে বিনিয়োগ একদিকে যেমন বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রকাশ ঘটাবে, তেমনি এর ফলে নতুন নতুন বাজার দখলের পাশাপাশি মধ্যবর্তী প্রক্রিয়াকৃত পণ্য কম মূল্যে আমদানি ও বিদেশি প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের সুযোগও তৈরি হবে। তাছাড়া বিনিয়োগকৃত দেশের সম্পদ, কাঁচামাল এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার তৈরির প্রেক্ষাপটে নিজের দেশও নানাভাবে উপকৃত হবে।
এর বাইরে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত দেশের বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অবস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে, যার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ দেশের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকৃত দেশগুলো থেকে ব্যবসার মুনাফা প্রত্যাবাসন ও সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বিদেশে বিনিয়োগ প্রশ্নে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ।
বস্তুত দেশে শিল্পায়নের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন শিল্প যেমন গড়ে উঠবে না, তেমনি চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণও ঘটবে না। এর ফলে কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ টাকা বিদেশে নিতে চায়, তা দেশে বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান বাড়বে, যা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।
এর বিপরীতে বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ পাচারের আশঙ্কাসহ নানারকম ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ভুল পদ্ধতিতে কিংবা ভুল খাতে বিনিয়োগ করা হলে তা বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষতিসহ সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। এ কথা সত্য, দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টিকে একটি কাঠামোর আওতায় আনতে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে, যা পাশ কাটিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করি আমরা।


