সন্ধান প্রতিবেদন ঃ নিউইয়র্কের বাঙালি হোটেল-রেষ্টুরেন্টে পচা-বাসী খাবার পরিবেশনের ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সন্ধান২৪.কম‘র এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর জন্য সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিউইয়র্কের বাঙালির বেশ কয়েকটি হোটেল-রেষ্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা এসব হোটেলে তেলাপোকা, ইঁদুর ও অন্যান্য কীট-পতঙ্গ অবাধ বিচরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হোটেলের মালিকরা সস্তা দামে মেয়াদ উর্ত্তীণ মাছ-মাংস কিনে নিয়েও রান্না করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চলতি মাসে নিউইয়র্কের জ্যামাইকার খলিল বিরিয়ানী হাউস ও নবান্ন রেষ্টুরেন্ট নানা অনিয়মের কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়। জ্যাকসন হাইটসের আব্দুল্লাহ রেষ্টুরেন্টও বন্ধ হয়। এ ছাড়াও নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকার বেশ কয়েকটা রেষ্টুরেষ্ট বন্ধ হয়।
ছড়া
সনজীবন কুমার
পেঁয়াজ রসুন পটল মরিচ যায় না কিছু ফেলা
মাছ-মাংস মুরগী পচা লিষ্টি আছে মেলা।
তেল-শষ্য-ফল-আলু আর যে আছে কত
হচ্ছে এসব রান্না এখন নয়তো ফেলার মত।
গ্রোসারী থেকে এসব রান্না ঘরে যায়
সরল মনে তৃপ্তি করে বেশতো সবাই খায়।
কিন্তু সাথে ব্যামোটাকে নিচ্ছে কিনে ভুলে
দিতে হবে এর প্রতিদান কঠিন যে মাসুলে।
এসব খেয়ে পুষছে বুকে মরণব্যাধী সব
অসৎ ভাবে এই ব্যবসা চলছে যে নিবর।
ফেলার চেয়ে শাক-সবজী রান্না করা ভালো
সততারই মুখোশ পরে অসৎটাকে পালো।
মুনাফা-টাই বড় কথা একশত ভাগ সত্যি
এদের কাছে কাষ্টমারের দাম নেই একরত্তি।
একই সাথে যে যাদের রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারী আছে তাদের হোটেলগুলোতে যেসব খাবার পরিবেশন করা হয়, তার অনেক খাবার মানুষের খাওয়ার যোগা নয়-এমন অভিযোগও এসেছে। জ্যামাইকার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন-যাদের একই সংগে গ্রোসারী ও হোটেল আছে, তাদের সব খাবার মান সম্মত হয় না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্রোসারীতে যে পঁচা, বাসী, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বেঁচা হয় না, সেগুলো তারা তাদের নিজস্ব হোটেলে পাঠায়। আর এসব অখাদ্য জিনিস দিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন হোটেলে রান্না করা হচ্ছে নানা জাতের খাবার।
এ ছাড়া পঁচা ও বাসী টমোটো, পিয়াজ, মরিচ, লেটুস, শষা, গাজর দিয়ে করা হচ্ছে নানা রকমের সালাদ। যেহেতু সালাদগুলো কাঁচাই থাকে, তাই এগুলো আরও ভয়াবহ রোগের সৃষ্টি করতে পারে। আর পঁচা বাসি ফল-মূল, তরিতরকারী দিয়ে তৈরী করা কোন খাবার বা সালাদ বা পানীয় স্বাস্থ্যসম্মত তো নয়ই, একই সঙ্গে হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুর কারণ। রফিকুল ইসলাম তার নিজের দেখা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, যাদের গ্রোসারী কাম হোটেল রয়েছে, জ্যাকসন হাইটসের এমন একজন মালিক তার সমস্ত অচল মাল ভোরের দিকে সকলের নজর এড়িয়ে তাদেরই হোটেল চালান করেন। তার ধারণা, যাতে কেউ জানতে না পারে, তার জন্য ভোরে অথবা গভীর রাতে গ্রোসারী থেকে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, তরিতরকারী, ফলমূল, চাল-ডাল চলে যায় হোটেলে। প্রথমে পচা ও বাসী তরিতরকারী, ফলমূল বিক্রীর জন্য গ্রোসারীর মালিকরা তাদের দোকানের সামনে রেখে দেয়। তারপর বিক্রী না হলে এগুলো পাঠায় তাদের নিজের হোটেলে। এর সাথে থাকছে কয়েকদিনের পোড়া ও বাসী তেল। আর এসব দুষিত উপাদান দিয়ে তৈরী করা খাবার পরিবেশন করা হচেছ গ্রাহকদের কাছে। গ্রাহক সরল বিশ্বাসে সেই সব খাবার গ্রহন করছে।
এ ব্যাপারে একজন ডাক্তার বলছেন, খাবার প্রস্তুতে পচাঁ, বাসী, মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাদান ব্যবহারে মরণব্যধি ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় এবং আয়ুষ্কাল হ্রাস পায়। গবেষকরা দাবি করেছেন, দেহকোষের দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে পুরনো খাবার। আর দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আয়ুষ্কালও ফুরিয়ে আসে তাড়াতাড়ি। দেহকোষের ক্ষয় বদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যৌবনও কমিয়ে আসতে থাকে। ধীরে ধীরে শরীরে ডিএনএ-প্রোটিন সংযোগও ক্ষয় পেতে থাকে। শা¦সক্রিয়া ও কোষের এনজাইম ফাংশনও ধীর হয়ে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, ফুরিয়ে যায় আয়ু। মানুষ পতিত হয় মত্যুমুখে।
ফুড পয়জনিং হলে পেটে ব্যথা, হজমে সমস্যা, ডায়রিয়া, বমি অনেক ক্ষেত্রে জ্বর হতে পারে। অভিযোগে জানা যায়, যেসব খারার প্যাকেটে ভরা বা বোতলজাত করা থাকে সেগুলোর এক্সপায়ারি ডেট- বা নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলেও সেগুলো খাবাবের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পণ্য ফেলে না দিয়ে রান্না বা খাবারের কাজে লাগালে লোকসান কম হয়। যা রীতিমত অন্যায় ও অসততার কাজ।
উল্লেখ্য, জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ওজন পার্কে একই মালিকের গ্রোসারী ও হোটেল সংযুক্ত কয়েটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান আছে। শুধুমাত্র পচা-বাসী খাবার তৈরীই নয়, তাদের খাবার পরিবেশনের পদ্ধতি ও মান বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
হাতে গ্লোলভস না লাগিয়ে, থাল-গ্লাস ভালো ভাবে পরিষ্কার না করে সেবার নামে অনৈতিক ব্যবসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। খোলা অবস্থায় খাবার মজুত করে রাখা হয়েছে বলে দেখা গেছে খাবারগুলো মাছি, পোকামাকড় বা ধূলোবালি থেকে অরক্ষিত পড়ে থাকে। যাতে মাছি, ইঁদুর এবং তেলাপোকা আকৃষ্ট হচ্ছে। এমন অভিযোগে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলি এস্টোরিয়াসহ অন্যন্য এলাকায় মাঝে মাঝে খাবারের হোটেল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পিকনিক বা অনুষ্ঠানে যে খাবার পরিবেশন বা ক্যাটারিং করা হয় সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা স্বাস্থ্যগত মান রক্ষা করা হচ্ছে না। এছাড়া জগে বা গ্লাসে যে পানীয়ের জন্য যে পানি ব্যবহার হচ্ছে তা বিশুদ্ধ নয়। আবর্জনার পাত্রগুলো খুলে রাখা হয়, এ গুলো নিয়মত পরিষ্কার করা হয় না। ল্যাট্রিন একেবারেই ব্যবহারের অনুপযুক্ত ও অসাস্থ্যকর হয়ে থাকে। ফলে সার্বিক ভাবে হোটেলের কাষ্টমাররা নিরবে ও ধীরে ধীরে নানা রকম ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ওজন পার্ক, ব্রুকলিন, এ্যাস্টোরিয়া, ব্রঙ্কসসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঙালী গ্রোসারীগুলো পঁচা ও বাসী তরিতরকারী, ফলমূল তাদের দোকানের সামনে ফুটপাতে বিক্রীর জন্য রেখে দেন। যা অনৈতিক ও অন্যায় বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন।
…………
