ভারতীয় উপমহাদেশে তুমুল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ী দেহ ত্যাগ করেছেন কিন্তু রেখেছেন কোটি কোটি ভক্ত, অনুরাগী সেই সঙ্গে রেখে গেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। আর তিনি ‘গোল্ড লাভার’ ছিলেন। তাই তার সংগ্রহে ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা।
২০১৪ সালে ভারতে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে হলফনামায় তিনি জানিয়েছিলেন, ৭৫৪ গ্রাম সোনা এবং ৪ দশমিক ৬২ কেজি রুপার গয়না রয়েছে তার কাছে।
তবে বাপ্পি লাহিড়ীর কাছে তার সোনাগুলি কেবল গয়না বা অলঙ্কার হিসেবে ছিল না। সোনাগুলিকে তিনি তার সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করতেন। ভ্যাটিকান সিটি থেকে হলিউড, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনি যা সংগ্রহ করতেন, সেগুলিকে সোনায় পরিণত করে গায়ে পরতেন। কিন্তু সেগুলি এখন কোথায়?
তার কালো চশমাটা তার সঙ্গে শেষযাত্রায় চলে গেছে কিন্তু তার প্রিয় সোনাগুলি? সে সব এখন কোথায়? বাপ্পির অনুপস্থিতিতে কোথায় জায়গা হয়েছে তাদের? এসব প্রশ্নের উত্তরে তার পুত্র বাপ্পা লাহিড়ী কথা বলেছেন গণমাধ্যমে।
বাপ্পার বলেন, ‘বাবা কোনও দিনও সোনা ছাড়া ঘরের বাইরে যাননি। যদি ভোর পাঁচটায় বিমান ফ্লাইট থাকতো, তাও তিনি সমস্ত সোনা সঙ্গে নিয়ে যেতেন। সোনা যেন ছিল তার মন-মন্দির, তার অসীম ক্ষমতা। মাঝে মাঝে মনে হতো আধ্যাত্মিক কোনও যোগাযোগ ছিল তার স্বর্ণের সঙ্গে।’
তিনি আরও বলেন, বাবার অনুরাগীরা যাতে তার সেই সোনাগুলি নিজের চোখে দেখতে পারেন, তাই বাবার সোনাগুলি সংগ্রহশালায় রাখা হবে। বেশ কয়েকটি সোনার জুতো, ঘড়ি, রোদচশমা, টুপি, গয়না রয়েছে বাড়িতে। সব কিছুই একত্র করে সংগ্রহশালায় জমা রাখা হবে। যাতে করে তার ভক্তরা সবাই দেখতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭০ থেকে ৮০-এর দশকে হিন্দি ছায়াছবির জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপ্পি লাহিড়ী। হিন্দিতে ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’, বাংলায় অমর সঙ্গী, আশা ও ভালোবাসা, আমার তুমি, অমর প্রেম প্রভৃতি ছবিতে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান। ২০২০ সালে তার শেষ গান ‘বাগি-৩’ এর জন্য। কিশোর কুমার ছিলেন বাপ্পির সম্পর্কে মামা। বাবা অপরেশ লাহিড়ি ও মা বাঁশরী লাহিড়ি দু’জনেই সংগীত জগতের মানুষ। ফলে একমাত্র সন্তান বাপ্পি ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। মা-বাবার কাছেই পান প্রথম গানের তালিম।
১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাপ্পি। তারপর দীর্ঘদিন বাংলা ও হিন্দি ছবির গান গেয়েছেন, সুর দিয়েছেন। প্রচুর সোনার গয়না পরতে ভালোবাসতেন। ছিল গায়কির নিজস্ব কায়দা, যা তাকে হিন্দি ছবির জগতে অনন্য পরিচিতি দিয়েছিল।
সূত্র : আনন্দবাজার
