রাকেশের মধ্যরাতের কান্না প্রায় ভেস্তে যাওয়া আন্দোলনে প্রাণ ফেরাল

সন্ধান২৪.কমঃ কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতের কান্না  আন্দোলন স্থল থেকে মুখ ঘোরানো শত শত  কৃষককে আবার আন্দোলনে ফিরিয়ে আনল  । এছাড়াও এই আন্দোলনে নতুন করে নতুন কৃষকরা যোগ দিতে শুরু করেছেন।

বিজেপি ষড়যন্ত্র করে বিক্ষোভ বন্ধ করে দিতে চাইছে। চোখের জলে ঘোষণা করেন, “কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এক পাও নড়ব না। প্রয়োজনে গুলি খাব। প্রয়োজনে অনশন করব। নিজের গ্রাম থেকে এনে জল খাব। রাকেশ টিকাইত আত্মহত্যা করবে, তবু বিক্ষোভ স্থল ছাড়বে না।”

টিকাইতের সেই আবেগঘন ভাষণ কৃষকদের জন্য টনিকের কাজ করে। রাতারাতি শ’য়ে শ’য়ে কৃষক নতুন করে গাজিপুরের বিক্ষোভস্থলে হাজির হন। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং হরিয়ানার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কৃষক ট্রাক্টরে চেপে গাজিপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল সারারাত কৃষক নেতারা গাজিপুরের বিক্ষোভস্থলে ‘জয় জওয়ান-জয় কিষাণ’ স্লোগান দেন। সেই সঙ্গে উড়তে দেখা যায় জাতীয় পতাকা। এরপরই কৃষক নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের ৩ কৃষি আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের বাড়িতে ফিরবেন না তাঁরা। 

 

রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার গাজিপুরে প্রতিবাদস্থলের পরিস্থিতি ছিল নাটকের মতোই টানটান। কৃষকরা সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে আন্দোলন আবার অগ্নীগর্ভ করে তুলছে।

রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় তাণ্ডবের পর থেকেই চাপের মুখে পড়ে যায় কৃষক আন্দোলনের নেতারা। বিজেপির যোগী প্রশাসন উত্তরপ্রদেশ-দিল্লির গাজিপুর সীমানা থেকে কৃষকদের সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল । বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই প্রচুর পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীও মোতায়েন করে যোগী। আন্দোলনকারীদের একাংশ যখন রণে ভঙ্গ দিয়ে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তখন পরিস্থিতি বদলে দিল ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের (বিকেইউ)-এর জাতীয় মুখপাত্র রাকেশ টিকায়েতের একটি সাংবাদিক বৈঠক। সেখানে আবেগতাড়িত কৃষক নেতা কেঁদে ফেলেন। সেই ভিডিয়ো মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় ইন্টারনেটে। সেই ভিডিও দেখে জ্বলে উঠে কৃষক।  কাঁদতে কাঁদতে প্রবীণ কৃষক নেতার আকুতি বদলে দেয় পরিস্থিতি। পুলিশকে উপেক্ষা করে  শত শত আন্দোলনকারীরা ফের জড়ো হতে থাকেন ধর্না চালানোর জন্য। রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে।

রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে হিংসার ঘটনায় রাকেশ টিকায়েত-সহ একাধিক কৃষক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের এই নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। প্রয়োজনে গ্রাম থেকে আরও কৃষক যোগ দেবেন প্রতিবাদস্থলে। গাজিপুর সীমানায় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রাকেশ বলেছেন, ‘‘দরকারে আত্মহত্যা করব। কিন্তু আন্দোলন বন্ধ করব না।’’ আন্দোলন ভেস্তে দিতে পুলিশের সঙ্গে বিজেপির গুণ্ডারা এসেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতেই রাকেশ টিকায়েত এবং তাঁর ভাই তথা সংযুক্ত কিসান মোর্চার অধ্যক্ষ নরেশ টিকায়েতের দ্বিমত সামনে এসেছিল। রাকেশ যখন পুলিশের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গাজিপুরেই কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছেন, তখন তাঁর ভাই নরেশ মুজফ্ফরপুরে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। গাজিপুরে আজকের প্রতিবাদ শেষ। পুলিশের হাতে মার খাওয়ার থেকে জায়গা খালি করে দেওয়া ভাল।’’ কিন্তু রাকেশের কান্না বদলে দেয় এই অবস্থানও। বৃহস্পতিবার রাতে টুইট করে নরেশ দাবি করেন, ‘হরিয়ানার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষক ভাইয়েরা গাজিপুর সীমানায় দিকে আসতে শুরু করেছেন। ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হলে তবেই তাঁরা বাড়ি ফিরবেন’। আনন্দবাজার পত্রিকা

Exit mobile version