রোববার জেবিবিএর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট গরমে উত্তপ্ত জ্যাকসন হাইটস

সন্ধান২৪.কমঃ ৯ জানুয়ারির জেবিবিএর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট গরমে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জ্যাকসন হাইটস। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ও বিতর্কিত দুইভাগে বিভক্ত জেবিবিএর একটি অংশের নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বি পরিষদই জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এখন জেবিবিএর মসনদে কে বসতে পারবে,সেই অপেক্ষার পালা। আর সেটা জানা যাবে আগামী ৯ জানুয়ারি রোববার ফল ঘোষণার পর।
বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন অব এনওয়াই‘র (জেবিবিএ) দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা হিসাব-নিকাশ সামনে আনছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, কে জিতবে আর কে জিতবে তা বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

প্রচারে গিয়াস-তারেক পরিষদ

৯ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক প্রস্ততি নিতে শুরু করেছে গিয়াস-তারেক ও টুকু-মুনির পরিষদ।
নয় জানুয়ারীর নির্বাচনের সেই মহাযুদ্ধ দিন ঘোষণা করার পর থেকেই এক বিন্দু সময় নষ্ট করেনি দুই প্রতি পক্ষ। বিনা যুদ্ধে জমি যে এক ইঞ্চি ছাড়তে রাজি না তা বুঝা যাচ্ছে তাদের প্রচার- প্রকাশনা,সভা,মতবিনিময় ও গণসংযোগের মধ্য দিয়ে।
দুটি পরিষদই জেতার বিশ্বাস নিয়ে লড়ছেন। সেই স্বপ্ন নিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছেন প্রার্থীরা । তারা প্রতিটি ভোটারের কাছে যাচ্ছেন, কথা বলছেন সেই সাথে দোয়া এবং ভোটও চাচ্ছেন।

প্রচারে টুকু -মুুুনির পরিষদ

নির্বাচনকে বেশ আমলে নিয়ে নড়েচড়ে বসছে গিয়াস-তাকের এবং টুকু- মুনির পরিষদ ও তাদের কর্মীরা। মাঠ গোছানোর জন্য কেবল বর্তমানে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়েই তারা মাঠে নামছেন না, পুরনো এবং অভিমানী নেতা-কর্মীদের দলে ভিড়িয়ে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টাও করছেন মাঠে নামা দুই পরিষদ।
দুই পক্ষের মধ্যে কে কতটা ফেভারিট, তা নিয়েও চলছে চলছে নানা আলোচনা, চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রচারের দিক থেকে দলবদ্ধভাবে গিয়াস-তারেক পরিষদ এগিয়ে আছে। তারা পুরো পরিষদকে নিয়ে ভোটারের কাছে যাচ্ছেন। অপর দিকে টুকু-মুনির পরিষদের প্রার্থীরা ব্যক্তিগত ভাবে সবার কাছে গিয়ে ভোটারকে তাদের নিজেদের পক্ষে টানার কৌশল অবলম্বন করেছেন। প্রতিযোগিতার দৌড়ে আগে থাকার নীতি অবলম্বন করে গত ৩০ ডিসেম্বর গিয়াস-তারেক পরিষদ তাদের পরিচিতি অনুষ্ঠান সেরে ফেলে। অপর দিকে বুঝে-শুনে ধীরে চলো নীতি নিয়ে গত ৩ জানুয়ারী টুকু-মনির পরিষদ পরিচিতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সব দিক মিলে দুই পরিষদই খুব সর্তক ভাবে সামনে পা ফেলছেন। সে দিক দিয়ে বলতে গেলে এবারের নির্বাচন দুই পক্ষের জন্যই কঠিন হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তবে অনেকেই মনে করছেন, যে পরিষদ তাদের গাঁটের পয়সা খরচ করে ভোটার বানিয়েছেন, জয় তাদেরই হবে।
এদিকে জেবিবিএর কয়েকজন ব্যবসায়ী আজকালের প্রতিনিধিকে বলছেন তাদের দুঃখের কথা। তাদের ভাষায়, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা ও পরিষদ নানা রকম মিষ্টি মিষ্টি প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসিয়ে দেন জ্যাকসন হাইটস। কিন্ত ভোট ফুরোলেই কারো পাত্তা মেলে না। তখন তারা ‘বড় নেতা’ হয়ে যান, সাধারণ ভোটারদের সাথে নুন্যতম যোগাযোগ টুকুও রাখেন না। যার ফলে এবার বেশ কয়েকজন ভোটার আজকালের প্রতিনিধিকে জানান, ভোটের আগে যে সব প্রতিশ্রুতি দুই পরিষদ দিয়েছে, নির্বাচিত হলে অন্তত সেই প্রতিশ্রুতিগুলো যেন বাস্তবায়ন করে। ব্যবসায়ীদের বিপদে-আপদে যেন পাশে থাকে।
এবার যে দুটি প্যানেলে নির্বাচন হচ্ছে, তার একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সভাপতি পদে মূলধারার রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান। অন্য প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি পদে সংগঠনের সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ মাহবুবুর রহমান টুকু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মুনির হাসান।
এদিকে গিয়াস-তারেক পরিষদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন, টুকু-মুনির পরিষদের ৬জন প্রার্থী সংগঠনের গঠনতন্ত্র না মেনে প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে টুকু-মুনির পরিষদের সভাপতি প্রার্র্থী মাহবুবর রহমান টুকু অভিযোগের সুরে বলেন, গিয়াস-তারেক পরিষদের কয়েকজন ব্যবসায়ী নন, তবুও তারা জেবিবিএর সদস্য হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন আব্দুর নূর বড় ভূঁইয়া বলেন, প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কোথাও গঠনতন্ত্রের কোন ব্যতয় ঘটে নাই, সব কিছু ঠিক আছে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫টি পদে ৩০ জন প্রার্থী এবারের ভোট লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এ দিকে ২৬ ডিসেম্বর প্রার্থীদেও যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন, সেখানে প্রার্থী তালিকায় আছেন গিয়াস-তারেক প্যানেলের সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সহসভাপতি মোল্লা এম এ মাসুদ, সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান জিলানী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তারেক এইচ খান, সহসাধারণ সম্পাদক এমডি মফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ এস এম আবুল হাসান, অফিস সেক্রেটারি এমডি জি রহমান (আকাশ রহমান), কালচারাল সেক্রেটারি জাফর উল্লাহ মিলন, পাবলিসিটি সেক্রেটারি বেলাল আহমদ এবং নির্বাহী সদস্য রকি আলিয়ান, বর্ণালী হাসান এমডি, খালেদ আকতার, আব্দুল আলিম ও এস কিউ আলম।
অন্য দিকে ‘টুকু -মুনির প্যানেল’র সভাপতি এমডি মাহবুবুর রহমান টুকু, সহসভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান আলী, সহসভাপতি সুলতান আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, সহসাধারণ সম্পাদক এমডি এল ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক এমডি দেলওয়ার হোসেইন, কোষাধ্যক্ষ এমডি এস হোসেন, অফিস সেক্রেটারি রাম কে সাহা (অপু), পাবলিসিটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহিন ভূঁইয়া, কালচারাল সেক্রেটারি শেখ এইচ আলী এবং নির্বাহী সদস্য পদে শামীম মনির, নজরুল আই মিয়া, জহিরুল ইসলাম জয়, মাসুদ আহমেদ এবং আব্দুল হাই।
ভোটের এই লড়াইয়ে কে জিতবেন আর কে হারবেন তা ফয়সালা হবে নয় জানুয়ারী নির্বাচনের পর।
প্রসঙ্গতঃ জেবিবিএ দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে, কেউ কাউকে মানছে না। ফলে এক হওয়ার আশাও ক্ষীণ বলে মনে করছেন অনেকে। আরেকটি অংশের বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ পিয়ার এবং হারুণ ভূঁইয়া।

Exit mobile version