শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের শক্তি ব্যবহারের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কূটনীতিক ও অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। দেশে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং তাতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া জনগণকে নিবৃত করার জন্য শুক্রবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে। আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমতায় থাকা তার পরিবারের অন্য সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করছেন। কিন্তু জনদাবির প্রতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাকে তিনি আঁকড়ে ধরে আছেন। শুক্রবার জরুরি অবস্থা জারি করে একই সঙ্গে পাবলিক সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স সক্রিয় করেছেন।
এর ফলে জননিরাপত্তার স্বার্থে, জনশৃংখলা রক্ষায় এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ রক্ষার ক্ষমতা ভোগ করবেন প্রেসিডেন্ট। এই জরুরি অবস্থার অধীনে প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে বিক্ষোভকারীদের আটক রাখতে পারবেন। সম্পদ জব্দ করতে পারবেন। যেকোনো বাসা বা স্থানে তল্লাশি চালাতে পারবেন। এমনকি তিনি যেকোনো আইন পরিবর্তন বা সাময়িক স্থগিত করতে পারবেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
জরুরি অবস্থা জারিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার টুইট করেছেন শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জুলি চুং।
তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবি শুনতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রীলঙ্কানরা যে বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখে এবং যেসব অভাবে রয়েছেন তা সমাধান করে দেশকে সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার পথে ফিরিয়ে নিতে হবে। সেটা করার জন্য জরুরি অবস্থা কোনো সাহায্য করবে না।
কানাডার দূত ডেভিড ম্যাকিনন বলেছেন, গণতন্ত্রের অধীনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অধিকার আছে শ্রীলঙ্কানদের। প্রথমে তাদের বিক্ষোভ কি জন্য প্রয়োজন সেটা অনুধাবন করতে হবে, তারপরেই আসে জরুরি অবস্থার বিষয়।
প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘট আহ্বান দোকানপাট, অফিস, ব্যাংক, স্কুল বন্ধ রাখা হয় শুক্রবার। এদিনই প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করেন। প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবার যদি ১১ই মের মধ্যে পদত্যাগ না করেন তাহলে তখন থেকে টানা ধর্মঘট করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো।
শনিবার সরকার বলেছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমফে, অন্যান্য এজেন্সি ও সরকারগুলোর সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতা ও ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে সমঝোতামূলক আলোচনা করা যাবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আবেগের বশে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে তাতে জননিরাপত্তা হুমকিতে। এ পরিস্থিতি শুধুই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে বিদেশিদের কাছে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ঘোষণা দেয়, বিদেশিদের ঋণ পরিশোধ আপাতত বন্ধ রাখছে। তাদের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৫ কোটি ডলারের নিচে চলে এসেছে। এ বছর তাদের ৭০০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো ঋণই তারা শোধ করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার কাঁধে এখন বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৫১০০ কোটি ডলার।
ওদিকে শুক্রবার পার্লামেন্টের কাছে দু’দফা বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। সেখানকার বিক্ষোভ থেকে ক্ষোভ জানানো হচ্ছিল আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে। কারণ, তারা প্রেসিডেন্ট ও তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তেমন কিছু করছেন না। বিক্ষোভকারীরা যখন রাজাপাকসে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য পার্লামেন্টে ভোটের আহ্বান জানাচ্ছে, তখন সরকার সমর্থিত ডেপুটি স্পিকারকে নির্বাচিত করেছেন আইনপ্রণেতারা। এ জন্য বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ উগড়ে পরে।
তাদের ওপর পুলিশি একশনের নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু তাতে কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে বাধা দিয়েছে। এটা মুক্তভাবে মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের বিরুদ্ধে বাধা।


