সালিসের নামে যুবককে পিঠমোড়া বেঁধে গ্রাম ঘুরান মাতব্বররা!

সন্ধান২৪.কম : তুচ্ছ ঘটনায় গ্রাম্য সালিসে আব্দুল মোতালেব নামের এক যুবককে পিঠমোড়া বেঁধে গ্রাম ঘুরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় মোবাইলে ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতবর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এ  ঘটনার পর থকেই আব্দুল মোতালেব সামাজিকভাবে লজ্জিত হয়ে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।  

উপজেলার চন্ডিগর ইউনিয়নের ধানশিরা গ্রামের ভুক্তভোগী মৃত ইমান আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগ দাখিলের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক আব্দুল হালিম।

 জানা গেছে, ইউনিয়নের ধানশিরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কথা কাটাকাটির ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিনমজুর মোতালেবের বাড়িতে হামলা করে। এতে মোতালেবের মাথা, পিঠসহ বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনদিন চিকিৎসার পর বাড়িতে না যেতে হুমকী প্রদর্শন করে মোহাম্মদ আলী। এই ভয়ে আটদিন বাড়িতে ছিলেন না তিনি।

এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বর স্বপন মুন্সি, সাইফুল ইসলামের মধ্যস্থতায় ওই এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়িতে গত ২৮ জুলাই গ্রাম্য সালিসের বৈঠক বসে। মারপিটের শিকার আব্দুল মোতালেবকে পিঠমোড়া বেঁধে রাখলে গ্রাম্য সালিসে বসবেন বলে জানান। তার কথায় পিঠমোড়া দেয়ার রফা করেন মাতবররা। দুই হাত পেছনে নিয়ে রশি দিয়ে পিঠমোড়া বেঁধে আর কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে টেনে ইফসুফ আলীর বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায়। এ দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিলে মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার পর লজ্জায় আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছিলেন ওই যুবক। নির্বাক গ্রামবাসী দলবদ্ধ হয়ে এ দরিদ্রের শুধু কান্না দেখেছে। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। নিরবে সহ্য করেছে সালিসে উপস্থিত অনেকেই। এ জঘন্যতম অপরাধের সাথে জড়িত মোহাম্মদ আলী গংদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান ভুক্তভোগী আব্দুল মোতালেব। এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রাম্য সালিসের নামে পিঠমোড়া বেঁধে দিয়ে গ্রাম ঘুরানোর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অচিরেই গ্রেপ্তার করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

Exit mobile version