সোসাল মিডিয়ায় কে কি বললেনঃ সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে চার বাংলাদেশির পরাজয়

সন্ধান২৪.কম: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে চার বাংলাদেশির ভরাডুবি হয়েছে। এই রকম সোচনীয় পরাজয়ে অনেকেই সোসালমিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।

এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত বাংলাদেশিরা প্রার্থীরা হলেন, মৌমিতা আহমেদ, সোমা এস সাঈদ, দিলিপ নাথ ও মুজিব ইউ রহমান। বহুল আলোচিত নির্বাচনে  জেমস এফ জেনারো শতকরা ৬৯.২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর চার জন বাংলাদেশি প্রার্থীর প্রাপ্ত যৌথ ফলাফল ৩০.৭২% মাত্র ।

জেমস এফ জেনারো

চারজন প্রার্থীর সোচনীয় পরাজয়ে নিউইয়র্ক বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একই পদে চার বাঙালীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা কেউই ভালো ভাবে গ্রহণ করছেন না। তারা মনে করছেন, এতে করে নিউইয়র্কে দিন দিন  অন্যান্য কমিউনিটির লোকজনের কাছে বাঙালীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে ।

কমিউনিটির একজন শীর্ষস্থানীয় সংগঠক  এই প্রতিবেদককে বলেন, এরা  নির্বাচনে  বিজয়ী হওয়ার জন্য দাড়ান না। দেশে ও প্রবাসে নিজেদের একজন গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ভোটে দাড়ান। তিনি বলেন. এরা নিউইয়র্ক বাঙালি কমিউনিটিকে আস্তে আস্তে পচনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে, এখানে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের বাঙালীদের জন্য ভবিষ্যত খুব খারাপ হচ্ছে । তিনি মনে করেন, এক্ষুণি এই সব অপসংস্কৃতিকে সবাই মিলে প্রতিরোধ না করলে, নিউইর্য়কে বাঙালী কমিউনিটির বসবাস করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।

বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন, একই আসনে চারজন বাংলাদেশী প্রার্থী হওয়ায় ভোটাররা বিরক্ত, বিভ্রান্ত হয়েছিল ! একজন প্রার্থী হলে এই আসনটিতে অনায়াসেই বাংলাদেশি কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারতেন তাদের ধারণা !  তারা মনে করেন, নিউইর্য়কের বাঙালি কমিউনিটির কাঁদা ছোড়াছুড়ি এবং পরশ্রীকাতরা পরিহার করতে হবে। এসব কাজে, কেউ হুট করে উড়ে এসে জুড়ে না বসে, সৎ.যোগ্য, শিক্ষিত ও সমাজে গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের অংশ গ্রহণ করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হক বলেন,আমেরিকান হবেন কিভাবে ! এখানে আমরা জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়নেরও পর্যন্ত সংগঠন গঠন করেছি ! আর প্রতিটি সংগঠনে আমাদের চিরাচরিত রূপটি ফুঁটিয়ে তুলছি একগ্রুপ আরেকগ্রুপের বিরুদ্ধে লেগে থেকে ।

মোঃ আবুল কাশেম মন্তব্য করেন- এ জন্যই আমাদের নাম বীর বাংগালি !!!

রেজাউল বারী বকুল বলেন, আহম্মক কাকে বলে জিতবে একজন দাঁড়ায় চার জন ? অতি লোভীদের দিয়ে কি হবে ?? সকল ক্ষেত্রেই ধান্ধাবাজী চেষ্টা করে ??? চারজনের মোট ভোট প্রাপ্তি সংখ্যা কত ???? ছিঃ লজ্জা !!!

মন্ডল আলীর বক্তব্য-এরা বাংলাদেশীদের কাছে পরিচিত নয়। মুলধারা রাজনীতিও তাদের দখল নাই। এরা  “ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধীরাম সরদার।”

জালাল ‍উদ্দিন রুমী মন্তব্য করেন- উনারা জিতার জন্য নির্বাচন করেননি | যে জন্য করেছেন তার সার্থসিদ্ধি হয়েছে |

সিরাজুল ইসলাম লিপন বলেন- ভালো ব্যবসা শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশীদের মধ্যে । নির্বাচন করলেই পকেটে টাকা ঢুকে । এদেরকে দিয়ে বাঙালি কমিউনিটির কোন কাজে আসবে না, তারা শুধু স্বার্থ নিয়েই এবং টাকা পকেটে ঢোকানো জন্যই নির্বাচন করছে।

ওয়াসী চৌধুরী মন্তব্য করেন-আগে ম্যাচিং ফান্ড শব্দটা মাথা থেকে বাদ দিতে হবে. তারপর সত্যিকার চিন্তা করা দরকার।

ফরিদা শিরিন খান বলেন – এক আসনে এতো স্বদেশী কেন?

মোশাররফ সবুজের বক্তব্য-বাংলাদেশি এবং বাঙালি এই দুটো জাতি কোন দিনই একজন আর একজনের ভালো চায় তেমন উদাহরণ খুবই কম। একজন উপরে উঠতে চাইলে অন্যজন অর্থাৎ যে উপরে উঠতে চায়, তার পা ধরে টেনে কিভাবে নিচে নামানে যায় সব সময় এই চেষ্টাটাই করে । তার জ্বলন্ত প্রমাণ, গত কয়েক বছরের এখানে যত গুলো লোকাল নির্বাচন হয়েছে সবখানে বাংলাদেশিরা একই এলাকায় একই সিটের জন্য দুজন থেকে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। যার কারনে অনেকের চরম ভাবে নির্লজ্জভাবে পরাজয় হয়েছে. এই সকল লোকজনের মন-মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া উচিত।

হক রোজা মোহাম্মদ -বাকি সবাই কি আসলেই পাশ করার জন্য নির্বাচন করেছেন নাকি টুপিছ কামানোর জন্য ২/১ জন ছাড়া।

সালেম সুলেরী- বিজয়ী জেম জেনারো একাই পেয়েছেন ৩২৫২ ভোট। আর তিন (বাংলাদেশি) বাঙালি প্রার্থী মিলে পেয়েছেন >> ১৪৫৪ ভোট। অর্থাৎ পরাজয়ে বাঙালিদের বিভাজনই প্রধান কারণ নয়। সেটি একটি শ্লোগানধর্মী মূল্যায়ন মাত্র। প্রার্থীর যোগ্য হয়ে ওঠা ও ভোট আহরণের কৌশলটাই মুখ্য। নিজস্ব ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে না পারলে নির্বাচন লড়ে লাভ নেই। একটু সুদূরপ্রসারী ও গঠনমূলক হলে বিজয় অর্জন সম্ভব। আমি কিন্তু নিউ জেনারেশন প্রর্থীদের বিষয়ে আশাবাদী 

কাজী হোসাইন বলেন-প্রথম থেকে সবাইকে বলে আসছি, আপনারা মেইন স্টিম এ লোকাল স্কুল , ওয়াড, কমিউনিটি বোড এর সদস্যদের সহযোগিতা নিন, যেন স্থানিয় সাদা- কালো সবার লোকালয়ে গিয়া এবং চার্চ , সিনাগগ এ মিটিং করে আপনাদের যোগ্যতা প্রমান করতে পারলেই সফলতার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু তার ঢাকে পাছে ও কেউ যেতে পারেন নাই।

উপম বড়ুয়ার মত হচ্ছে-বাংলাদেশী সবাই মিলে তো একজন জেমস এর সমান ভোট পেলো না। এটা ত আমাদের লজ্জা!

ফকির ইলিয়াস বলেন- নালায়েকগুলো ইলেকশন করে ক্যা? এদের শরম নাই !

নির্বাচনে ১টি পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি, ২ জন ভারতীয় ও ২ জন মার্কিনী। 
স্থানীয় সময় মঙ্গবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সিটি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ এর কাউন্সিলর হিসেবে জেমস এফ জিনারিওকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৬টি।
মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৫ শত ৩৩ টি। এর মধ্যে জেমস এফ জিনারিও পেয়েছেন ৩ হাজার ৩০৬ ভোট, মৌমিতা আহমেদ পেয়েছেন ৮শত ৬২ ভোট, সোমা এস সাঈদ ৪ শত ৭৫ ভোট, দীপ্তি শর্মা পেয়েছেন ২ শত ৭৪ ভোট, দিলিপ নাথ ২ শত ৪০ ভোট, নীতা জাইন পেয়েছেন ১ শত ৭২ ভো্‌ মুজিব ইউ রহমান পেয়েছেন ১ শত ২৩ ভোট এবং মাইকেল আর্ল ব্রাউন পেয়েছেন ৭৪ ভোট।

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ২৪ এর বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস এফ জিনারো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এই আসনে ইতিপূর্বে নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান ছিলেন। উল্লেখ্য, সিটি কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ এর বর্তমান কাউন্সিলম্যান ররি লেন্সম্যান পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়।

সিটি কাউন্সিম্যান নির্বাচিত জেমস এফ জিনারো ইতিপূর্বে ২০০২- সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ২৪ এর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ২০০১ সালে প্রথম, ২০০৫ সালে দ্বিতীয় এবং ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো সিটি কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন।

 

 

 

 

 

Exit mobile version