সন্ধান২৪.কম : ৩০ ডিসেম্বর আসতে আর মাত্র চারদিন বাকি । একাদশ সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির । এই দিনে আওয়ামী, বিএনপি ও বাম রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদা কর্মসূচী গ্রহন করেছে । ”দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিন “ হিসেবে পালন করবে ক্ষমতাসীন দল আওযামী লীগ । অন্যদিকে ”গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করবে একসময়কার তিনবারের দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়া বিএনপি। অন্যদিকে বাম দলগুলো দিনটিকে গণতন্ত্র বাঁচাও দিবস হিসেবে কর্মসূচী গ্রহন করবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতারোহণের দুই বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি দিনটিকে কলঙ্কময় ও কালো দিবস আখ্যা দিয়ে ওইদিন সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে । বামপন্থী দলগুলোর বৃহৎ ঐক্য বাম গণতান্ত্রিক জোটও একইদিনে সারা দেশে আলাদা ভাবে বিক্ষোভ করবে। তারাও কালো দিবস আখ্যা দিয়ে দিনটিতে সরকার পতনের কর্মসূচি দিয়েছে। ফলে ৩০ ডিসেম্বরকে ঘিরে বহুদিন পর রাজনীতির ময়দানে কিছুটা উত্তাপের আভাস মিলছে। কি ঘটতে যাচ্ছে ৩০ তারিখ সেদিকেই নজর এখন সবার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ ডিসেম্বরকে ঘিরে মূলত দুই মেরুতে ভাগ হয়ে গেছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। গণতন্ত্রের বিজয় উদযাপনের জন্য সরকারপন্থীরা যেমন ওইদিন মাঠে অবস্থান নেবে, তেমনি গণতন্ত্র হরণের প্রতিবাদ জানাতে সরকারবিরোধীরাও থাকছে মাঠে। যদিও করোনা মাহামারির কারণে অনুমতি ছাড়া সারা দেশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারবিরোধী দলগুলো ওইদিন কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি করার অনুমতি পাবে কি নাÑ এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক। তবে ইতোমধ্যে অনুমতি নিয়ে বিএনপি ও বামপন্থী দলগুলোকে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দেখা গেছে। তবে অনুমতি মিলুক বা না মিলুক বিএনপি ও বামজোট যে প্রতিবাদে মাঠে নামবে তা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে বিএনপি ও বামজোট প্রথম থেকেই ভোটারবিহীন নৈশ নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট সম্পন্ন করেছে। ফলে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন ভোটারের প্রয়োজন পড়েনি। তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের একের পর এক ‘প্রহসন’ এর কারণে ভোটে সাধারণ মানুষের অনাস্থা জন্মেছে বলেও দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো।
তবে ভোটের পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা দাবি করেছিলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে গড়ে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয় ২৫৯টি আসনে। তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পায় ২৮৮ আসন। অপরদিকে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র সাতটি আসন। কারচুপির অভিযোগ এনে ওইসময় ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল তারা। সাংবিধানিক পন্থায় গণতান্ত্রিকভাবে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বৃহৎ শরীক জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় চলে যায়।
এবার ৩০ ডিসেম্বরকে ঘিরে বিএনপি যে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তাতে একই ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে বিএনপিসূত্র বলছে তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিই করে আসছে। এবারও তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছে। গত ২১ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করবে।
বিএনপি’র কর্মসূচি দেওয়ার দুইদিন পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোটও ৩০ ডিসেম্বরকে ঘিরে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারাও দিনটিকে কালো দিবস আখ্যায়িত করে ওইদিন পুরানা পল্টন মোড়ে সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দেয়। এছাড়া সারা দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। গত বৃহস্পতিবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ কাফি রতন বলেছেন, এবার সরকার পদত্যাগ না করলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। ৩০ ডিসেম্বর অবৈধ সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে কালো পতাকা হাতে রাজপথে নেমে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেইসঙ্গে ২০১৮’র ভোট ডাকাতির নির্বাচনের আয়োজক ‘নির্বাচন কমিশন’ কে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, যদি ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তবে রাষ্ট্রপতির কর্তব্য হবে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ‘নির্বাচন কমিশন’ কে বরখাস্ত করা।


