সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন : ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউ শহর প্রকৃত অর্থে শাহ মাহবুরের জন্যই অপেক্ষা করে ছিল । সেই দিনের সন্ধাটা বাঙালি কমিউনিটির জন্য শুদ্ধ সংগীতের এক মোহনীয় সময়ের ইতিহাস হয়ে গেল।
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের এই শিল্পীর একক সংগীতসন্ধ্যায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা সুরের সিগ্ধতায় মুগ্ধ হয়ে যান। সম্ভবত এই প্রথম নিউ ইয়র্কের সংস্কৃতির অঙ্গনে ‘একক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে’ শুধুমাত্র বাংলা গান পরিবেশিত হলো । মাহবুব সেই সুরের স্বর্ণময় দিনে ২০ টি গান পরিবেশন করেন। এর মধ্য ১৭টি ছিল একেবারে মাটি ও মানুষের কাছাকাছি থাকা লোকসঙ্গীত।

দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পরিবেশিত শাহ মাহবুবের যেমন গানে উঠে এসেছে মানুষের জীবন গাঁথা উপাখ্যান, তেমনি উদ্ভাসিত হয়েছে প্রকৃতি, প্রেম ,বিরহ, বিচ্ছেদের এক বিশাল প্রান্তর। নিজের লেখা গান “ মাকে যখন দেখি আমি আমার, দেশটা দেখা হয়” দিয়েই গানের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মাহবুব। তারপরই আমাদের জীবনঘনিষ্ঠ কাজী নজরুলের ‘আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান’ গানটি করেন। এই ভাবে চলতে থাকে লোকসঙ্গীত, আধুনিক ও নজরুলের গান। এই ভাবেই সুরতরঙ্গের সাম্পান ভেসে ভেসে যায় মধ্যরাত অবদি।
উপস্থিত সঙ্গীত বোদ্ধারা মাহবুরের গায়কীতে বিমোহিত হয়ে যান। তারা বারবার হাত তালি দিয়ে তাকে ভালবাসায় সিক্ত করেন। মাহবুবও তার স্বভাবসূলভ বিনয়ী ভঙ্গিতে, উপস্থিত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গানের মাঝে মাঝে টুকরো টুকরো কথা বলেন। সে কথা ছিল গান সর্ম্পকিত। ছিল নিজের কথা আর দর্শক-শ্রোতাদের জন্য উচ্চারিত শব্দাবলী । সব মিলিয়ে নিউ ইয়র্কের বাঙালি কমিউটির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর ছিল শাহ মাহবুবের একক সঙ্গিত সন্ধার এক স্বপ্নরাজ্য। যে স্বপ্নঘোরের উৎসভূমে মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে ছিল কিছু মানুষ। আর সেই মানুষদের জীবনকে উজ্জীবিত করতে, মধ্যগগণে উড়ে নিয়ে গিয়েছিল সুরের ফিনিক্স পাখী শাহ মাহবুব।
নিউ ইয়র্কের উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে এই অনন্য একক সংগীতসন্ধ্যার আয়োজনে ছিল শো টাইম মিউজিক। প্রতিষ্ঠানটির সর্বসেবা আলমগীর খান আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে শিল্পীকে মঞ্চে আহ্বান জানান। এরপর গানের অপার সুরে গোটা মিলনায়তকে এক অপার্থিব মায়ায় ভরিয়ে তোলেন শিল্পী শাহ মাহবুব।
অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য শিল্পী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হন শাহ মাহবুব। এ সময় অনেকে ফুল দিয়ে হৃদয়িক ভাবে বরণ করে নেন গানের ‘শাহ’ কে।
শিল্পী মাহবুব গাইবান্ধা জেলার সাঘাটায় নানির বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৪ বছর বয়েস ওস্তাদ নারায়ণ চন্দ্র মন্ডলের কাছে তাঁর সঙ্গীতে হাতেখড়ি। কিছুটা বড় হওয়ার পর ভর্তি হন ঢাকার আব্বাস উদ্দিন একাডেমীতে। ১৯৯৬ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সঙ্গীতের উপর ৫ বছরের ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেন নিউইয়র্কের এই জনপ্রিয় শিল্পী। শিল্পী মাহবুব ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ বেতার ও ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পী হিসাবে তালিকাভূক্ত হন। বেতার ও টেলিভিশনে গান গাইতে প্রতি বছরই সময় করে দেশে যান এই বরেণ্য শিল্পী।