জনরোষে সরকারি বাসভবন ছেড়ে পালানোর পর প্রথমে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে কোথায় আছেন, তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। সরকারি একটি সূত্রের দাবি, তিনি পালান নি। তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সরকারি বাসভবন যখন বিক্ষুব্ধ জনতার দখলে, তখন শ্রীলঙ্কার জলসীমায় নৌবাহিনীর একটি নৌযানে অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সোমবার ভূ-ভাগে ফিরে আসেন গোটাবাইয়া। তখন পর্যন্ত তাকে কোনো মিডিয়াতে দেখা যায়নি। এর ফলে তার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার গুজব ডালপালা মেলে। তিনি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে স্পিকার মাহিন্দ ইয়াপা আবেওয়ার্ডেনেকে জানিয়েছেন আজ বুধবার তিনি পদত্যাগ করবেন। ওদিকে একই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে। তিনিও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তবে তার আগে সর্বদলীয় একটি সরকার চান তিনি, যারা দেশকে সামনে এগিয়ে নেবে। তার এ কথায় দ্বিমত প্রকাশ করেছে এসজেবি পার্টি। তারা বলেছে, আগে প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী রণিলকে পদত্যাগ করতে হবে। এমন অবস্থায় দেশটির পর্যটন ও ভূমি বিষয়ক মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো এবং শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী মনুশা নানায়েক্কারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে তারা জানিয়েছেন। তারা যৌথ এক চিঠিতে বলেছেন, সর্বদলীয় একটি সরকার গঠনের জন্য তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, শ্রীলঙ্কায় এখন রাষ্ট্রযন্ত্র অচল। প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী কারও ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। কারণ তারা কোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারছেন না। খাদ্যের অভাব। ওষুধ নেই। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের। এর ফলে সরকার স্কুল বন্ধ করেছে। সরকারি অফিস বন্ধ করেছে। জ্বালানি দেয়া হচ্ছে শুধু চিকিৎসক ও খাদ্য পরিবহনের কাজে যারা জড়িত তাদেরকে। এর অর্থ কি? এর অর্থ একটি রাষ্ট্র অচল হয়ে পড়া। কোনো মেকানিজম সেখানে কাজ করছে না। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দেন-দরবার করেও সহায়তা আনতে পারছে না সরকার। আর্থিক সংকটে জনগণের এখন জীবন বাঁচানো কঠিন। তা যখন পারছেন না তখন জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা চড়াও হয়েছেন প্রেসিডেন্টের বাসভবনে।
তার বাইরে বিক্ষোভ করতে করতে তারা ভেতরে প্রবেশ করেছে। এ সময় তাদেরকে গোটাবাইয়া বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ভেতরে সুইমিং পুলে মনের আনন্দে অনেককে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। অবাধে তারা পুরো প্রাসাদের এ রুম-ও রুম ঘুরে বেড়াতে থাকেন। এ সময় গোটাবাইয়া রাজাপাকসের বাসভবন থেকে কয়েক লাখ রুপি উদ্ধারের দাবি করেছে জনতা।


