সন্ধান২৪.কম: নিউ ইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের সুপরিচিত চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকারের বিরুদ্ধে পাঁচ নারী যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছেন । নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে এ মামলাটি দায়ের করেন তারা। এদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। এরা সবাই জ্যাকসন হাইটসে থাকেন।
আদালতে দায়েরকৃত একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলা থেকে জানা গেছে, ফেরদৌস খন্দকার বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার নামে রোগীদের যৌন নির্যাতন করেছেন। তিনি ১৪ বছরের কমবয়সী মেয়েদের অযৌক্তিক স্তন পরীক্ষার নামে শ্লীলতাহানি করেছেন। নারী রোগীদের পরীক্ষার নামে শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রায় বিশ বছর ধরে চালিয়ে আসছেন। বাদীদের অভিযোগ, ফেরদৌস খন্দকার কয়েক দশক ধরে চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রচেষ্টায় কয়েক ডজন নারী ও তরুণীকে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি করেছেন। এজন্য ফেরদৌস খন্দকারকে ‘একজন সিরিয়াল যৌন শিকারি’ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন।
গত বছর কয়েকজন মহিলা ডা. ফেরদৌসের অশোভন আচরণের বিরুদ্ধে অনলাইনে পোস্ট দিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি তিনজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ ডলারের মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে বিবাদির আইনজীবীর পারিশ্রমিক পরিশোধ করার জন্য ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নির্দেশ দেন। সে প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হলো। ওই পাঁচ নারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী সুসান ক্রুমিলার বলেন, মানহানির মামলা করার জন্য ডা. খন্দকারকে বাকি জীবন অনুশোচনা করে যেতে হবে। খন্দকার মনে করেছিলেন, তিনি মামলা করলে তার হয়রানির শিকার নারীরা চুপসে যাবেন। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়েছে। অবমাননার শিকার অন্যান্য নারীরাও এখন এগিয়ে এসেছেন।
কয়েক মাস আগে নিউ ইয়র্কের ২৩ বছর বয়সী এক নারী ডা. খন্দকারের চেম্বারে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে গেলে সেখানে ‘যৌন হয়রানির শিকার হন’ বলে অভিযোগ আনেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নিগ্রহের’ কথা জানান। তার ওই পোস্টের পর আরও ক’জন নারী একই অভিযোগে সরব হন। পরে ডা. খন্দকারের মেডিকেল সনদ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তারা চেঞ্জ.অর্গ পিটিশন করেন, যাতে সাড়ে চার হাজারের বেশি লোক স্বাক্ষর করেন।
‘নিগ্রহের’ অভিযোগ আনা একজন নারী বলেন, ওই ঘটনা কয়েক দিন পর্যন্ত আমার কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার বয়স ছিল খুবই কম। কিভাবে বলতে হবে, বুঝতে পারছিলাম না। আবার আমি একেবারে অজ্ঞও ছিলাম না। আমি জানতাম, এভাবে কোনো চিকিৎসক কাউকে পরীক্ষা করে না। আমি বুঝতে পারছিলাম, আমার সাথে কিছু একটা হয়েছে। ওই সময় আমার কথাগুলো শেয়ার করতে প্রস্তুত ছিলাম না।
গত বছর কয়েকজন মহিলা ডা. ফেরদৌসের অশোভন আচরণের বিরুদ্ধে অনলাইনে পোস্ট দিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি তিনজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ ডলারের মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে বিবাদির আইনজীবীর পারিশ্রমিক পরিশোধ করার জন্য ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নির্দেশ দেন। সে প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হলো।
পাঁচজন নারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবি ও নারীবাদী লিটিগেশন সংস্থা ক্রুমিলার পিসি’র পরিচালক সুসান ক্রুমিলার দ্যা সিটিকে জানান, খন্দকার ফেরদৌস ভেবেছিলেন মামলা করলে হয়রানির শিকার নারীরা মুখ বন্ধ করে ফেলবে কিন্তু হয়েছে তার বিপরীত। তারা সামনে এগিয়ে এসে প্রতিবাদী হয়েছেন। তিনি বলেন, মানহানির মামলা করার জন্য খন্দকার ফেরদৌসকে বাকি জীবন অনুশোচনা করতে হবে।
তার মতো লোকের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য সাহস দরকার ছিল যা পাঁচ নারী দেখিয়েছেন। অ্যাটর্নি সুসান ক্রুমিলার বলেন, আমাদের একটা ধারণা যে, ডাক্তাররা সম্মানিত ও ভাল মানুষ। তারা মানুষকে সাহায্য করার জন্য সেখানে আছে। শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা নিয়ে কেউ যখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে অপ্রয়োজনে কাপড় খুলতে হয়, শরীর সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করতে হয় – সেটা অন্য কোন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অপব্যবহারের চেয়েও অনেক বেশি আপত্তিকর।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউ ইয়র্ক কমিউনিটির এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘মেডিসিন বিশেষজ্ঞের দাবিদার ও নামধারী ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার সব ধরনের রোগের চিকিৎসা করেন। নারী রোগীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইউটিউব এবং ফেসবুক খুললেই দেখা যায় তার বিভিন্ন ধরনের ভিডিও। কী নেই তার ভিডিওতে? যৌন চিকিৎসা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক করোনা চিকিৎসায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসার নামে ভিডিও বানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে হিরো বনে যান রাতারাতি।’


