
সন্ধান২৪.কম : ‘২৫ মার্চ গণহত্যা’ দিবসে নিউইয়র্কে আলোচনা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলসহ আলোর মিছিল করেছে সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদ,নিউইয়র্ক।
গত ২৫ মার্চ রাতে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এই সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতেই বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার সকল শহীদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।

সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদ,নিউইয়র্ক‘র আহ্বায়ক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মুজাহিদ আনসারী।
প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক-কলামিষ্ট সুব্রত বিশ্বাস,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধি মিথুন আহমেদ ও উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সভাপতি ক্লারা রোজারিও।

সমাবেশে অংশ নেন একুশের চেতনা পরিষদের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ জাকির হোসেন বাচ্চু, উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ,মহিলা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল, উদীচী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায় ও সাধারণ সম্পাদক হিরো চৌধুরী, প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ‘র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, অনুপ ড্যান্স একাডেমী নিউইয়র্ক‘র আলপনা গুহ, শিল্পকলা একাডেমী যুক্তরাষ্ট্র‘র মিলন কুমার রায়, গাইবান্ধা সোসাইটি অব আমেরিকার প্রতীমা সরকার ও দীলিপ মোদক,বাচিক শিল্পী গোপন সাহা, সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদ,নিউইয়র্ক‘র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজল মাহমুদ,সনজীবন কুমার, সুমন আলম,সৈয়দ মিজানুর রহমান, সাবিনা হাই উর্বি, সংবাদপত্র প্রজ্ঞার সম্পাদক উত্তম সাহা,সংগঠক আবুল হোসেন, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, গণহত্যা করে পৃথিবীতে কেউ রক্ষা পায় না। যারা এ ধরণের অপরাধ করে তারা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়। জন্মভূমির জন্য আত্মত্যাগ শহীদের মর্যাদা এনে দেয়। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও সেবাকে ব্রত ধারণ করে সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান তিনি।

মিথুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিকল্পিত গণহত্যা চালায়। সেদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হয়। হত্যা করা হয় হাজার হাজার মানুষকে।

ক্লারা রোজারিও নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকহানাদার বাহিনীর দ্বারা এদেশে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় শুরু হয়। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের পর বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করে। গণহত্যার এই দিনটি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা হয় এবং নতুন প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানানো অপরিহার্য।


