সন্ধান২৪.কম : মিশরের এক দল প্রত্নতত্ত্ববিদ খুললেন কফিনের ঢাকনা। তা সরতেই দেখা মিলল আড়াই হাজার বছরের পুরনো মমির। শুইয়ে রাখা আছে কফিন। মিশরের সাকারা এলাকা থেকে পাওয়া গিয়েছে ওই মমি।

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ১৬৫ মাইল দূরে আল-গোরিফা নামে একটি পাণ্ডববর্জিত জায়গায় খনন কাজ চালাচ্ছিলেন একদল গবেষক। তাঁদেরই প্রথম নজরে পড়ে। মাটির নিচে চাপা দেওয়া আছে প্রায় ২৫০০ বছর পুরনো একটি পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র। যাকে কেন্দ্র করে সেই পরিবারের সমাধিক্ষেত্র, তিনি ছিলেন তখনকার দিনের একজন উচ্চশ্রেণির পুরোহিত। তাঁর দেহ মমি করে রাখা ছিল একটি সারকোফেগাসের মধ্যে। সারকোফেগাস অর্থাৎ পাথরের তৈরি কফিন। যার মধ্যে মমি করে সযত্নে দেহ রাখা হত সে সময়ে। ওই মমির দেহ জুড়ে মিলেছে প্রচুর সোনার অলঙ্কার। হাতে তৈরি জিনিসপত্র।

মমির চারদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে উৎসাহী জনতা। অনেকেই ক্যামেরা তাক করে রেখেছেন কফিনের দিকে। উন্মোচনের ভিডিয়ো সেখানে উপস্থিত জনতার মতোই হামলে পড়ে দেখেছেন উৎসাহী নেটাগরিকরা।
মিশরের পর্যটন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে ওই এলাকা থেকে ৫৯টি কফিন বন্দি মমি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই কফিনগুলো ভাল অবস্থাতেই রয়েছে। সেই যুগের পুরোহিত, সমাজের সম্মানীয় ব্যক্তিদের মমিই কফিনে রয়েছে বলে মত প্রত্নতত্ত্ববিদদের। সাকারাতে ১৩টি কফিন এখনও অবধি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে থাকা আরও ১৪টি কফিনের খোঁজও মিলেছে।
জনতার সামনে কফিন খুলে মমি বের করার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়েছে। সোমবার আপলোড হতেই ৯০ লক্ষেরও বেশি বার দেখা হয়েছে সেটি। নেটাগরিকরা তা দেখে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করেছেন।
বিরল দৃশ্য দেখে নিজেদের বিস্ময় গোপন করেননি নেটাগরিকদের একটি বড় অংশ। কেউ কেউ আবার ভয়ও পেয়েছেন কিছু সম্ভাবনার কথা ভেবে। একজন লিখেছেন, ‘‘এ রকম জিনিসে বহু বছরের পুরনো ভাইরাস বা জীবাণু থাকতে পারে। যা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।’’ অপর এক জন লিখেছেন, ‘‘এমনিতেই বছরটা এ রকম যাচ্ছে, খোলার জন্য আর ক’দিন অপেক্ষা করা যেত না?’’ তবে কফিন খুলে মমি দেখাতে নেটাগরিকরা মজেছেন, এতে কোনও সন্দেহ নেই।


