সন্ধান২৪.কম : ‘একটি অসৎ গোষ্ঠী কর্তৃক অব্যাহত মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য’ চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকার একাংশ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

অপর দিকে এই সংবাদ সম্মেলনকে “সাংবাদিক সম্মেলনের নামে মানুষের চরিত্র হনন এবং অর্থের ( ফান্ডের ) অভাব দেখিয়ে ৩ লক্ষ ডলার আত্মসাতের নতুন ফন্দি ! শোভাপতি পুতুল আর আতেল বাবুর মিথ্যার ফুলঝুরি,বর্ন চোরার আর্তনাদ”বলেছেন চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকার অপর গ্রুপের একজন নেতা মাকসুদুল এইচ চৌধুরী।
গত ৮ জুন সন্ধায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে মাহমুদ আবু তাহের-মো:আরিফুল ইসলাম গ্রুপ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অপর অংশের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

এদিকে এই সংবাদ সম্মেলকে অর্থ আত্মসাত করার এক নতুন কৌশল বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে ) অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী গ্রুপের অপর অংশ।
একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ির এই পাল্টাপাল্টি বিষয় সংগঠনের সদস্যরা ভালোভাবে গ্রহন করতে পারছে না। নিউইয়র্কে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসী ও চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকার সাধারণ সদস্যরা মনে করছেন দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এই ধরণের নোংরা রাজনীতি সংগঠনের ভাবমূর্তি দিন দিন ধংস হতে চলেছে।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র, আদর্শ উপেক্ষা করে দুটি গ্রুপ এখন প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। অতীতে এমন বিভক্তি থাকলেও এবারের বিভক্তির স্ফূলিঙ্গ দেখে প্রবাসীরা হতচকিত হয়ে পড়েন। এই দ্বন্দ্ব কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা।
দীর্ঘদিন থেকে সমিতিতে অচল অবস্থা দেখে একজন সমাজ সেবক মন্তব্য করেন, এই সংগঠনে নানাভাবে বিভক্তি রেখা স্পষ্ট হয়ে আছে এবং যেটা শেষ নির্বাচনের আগে বিশেষ করে তপশিল ঘোষণার পর থেকে তা উৎকট আকারে দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য শুনলে বোঝা যায়, সম্পর্কের অবনতি কতটা মারাত্মক পর্যায়ে গেছে।
চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সমিতির মধ্যে সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা ভেতরের দলাদলি। নেতাকর্মীদের ভেতরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংঘাতের যেসব সংবাদ গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা রীতিমতো শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে হয় যেন দ্বন্দ্বের কালো মাকড়সা দিন দিন বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে।
গত ৮ জুন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আরিফুল ইসলাম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি মাহমুদ আবু তাহের, ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য কামাল হোসেন মিঠু ও মো: আরিফুল ইসলাম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মো; হানিফ, মনির আহমেদ,মোরেশদ রেজভী,সেলিম, এনাম চৌধুরী, শিহাব উদ্গিন চৌধুরী লিটন, মতিউর রহমান চৌধুরী, আবু তালের চৌধুরী চান্দু, শাজাহান, জামাল চৌধুরী,কালাম, মতি, টি আলম, শফিক, নুরুল আমিন, খলিবুল্লা তামীম মহসিন প্রমুখ। সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য বলা হয়,দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্রমাগত মিথ্যাচার, গোয়েবেলসিও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে এই আয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিবাদদমান সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি অর্থবহ নির্বাচন করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বতীকালীন কমিটি গঠন, তফসিল অনুযায়ী ২০শে অক্টোবর – ২০২৪ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, নির্বাচনে দুইটি প্যানেলের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,ফলাফল ঘোষণা করার পরপরই নির্বাচনে পরাজিত একজন সভাপতি পদপ্রার্থী নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় কিছু পত্রপত্রিকায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। এই অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে ফেসবুক লাইভে এসে ওই ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের প্রধানসহ সম্মানিত চট্টগ্রামবাসীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে নানা ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য করেন যদিও চট্টগ্রামবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবং জনরোষের ভয়ে ওই পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,পরবর্তীতে ১৯শে ফেব্রুয়ারী,২০২৫ ,রাতের অন্ধকারে ভবনের তালা ভেঙে কতিপয় ব্যক্তি চট্টগ্রাম ভবনে প্রবেশ করলে সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক লোকাল প্রিসিঙ্কট এ অভিযোগ দায়ের করেন। গোয়েন্দা তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের সনাক্ত করে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি নিজ উদ্যোগে ক্রিমিনাল মামলা দায়ের করেন এবং এর ফলশ্রুতিতে কেউ কেউ গ্রেফতার ও হন। উপরোক্ত ক্রিমিনাল মামলার ফলশ্রুতিতে কারোর কারোর বিরুদ্ধে অর্ডার অফ প্রটেকশনও জারি করা হয়।
অনাদায়ী ভাড়া আদায়ের মামলা সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, – চট্টগ্রাম ভবনের ছয়টি এপার্টমেন্টের ভাড়া বিবাদমান দুই দলের পক্ষ এবং বিপক্ষ নিয়ে কতিপয় অসাধু ভাড়াটিয়া সুযোগ গ্রহণ করে আসে এবং এবার ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আজ অবধি এই তিনজন ভাড়াটিয়ার কাছে চট্টগ্রাম সমিতির পাওনা ভাড়ার পরিমান $৯৭৭১১.২০ ( সাতানব্বই হাজার সত্য এগারো ডলার বিশ সেন্টস)। বর্তমানে এই অনাদায়ী ভাড়ার মামলাটি ট্রায়াল এর জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে,‘চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান কার্যক্রম – নভেম্বর,২০২৪ এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আজ অবধি তাহের -আরিফ এর নেতৃত্বে বর্তমান কার্যকরী কমিটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করেছেন। ট্রাস্টি বোর্ড এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন , প্রথম বারের মতন কুইন্স এ ইফতার মাহফিল , পিকনিক, পবিত্র ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাঃ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল এবং চাটগাইয়া মেজবান , দুইটি পহেলা বৈশাখ উদযাপন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এর দ্বিতীয়বারের মতন নির্বাচিত কাউন্সিলওমেন শাহানা হানিফ কে সংবর্ধনা প্রদান, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন ইত্যাদি।’ কর্মসূচীর ফিরিস্থি তুলে ধরা হয়। এছাড়া ও যেই উদ্দেশ্য নিয়ে এই জনকল্যাণমুখী সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই অন্যতম প্রধান কাজ – মৃতের দাফন / সৎকাকের কথা বলা হয়। বাস্তবে রূপ দেবার জন্য একটি শক্তিশালী উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২১ সালে অন্তবর্তীকালীন কমিটি গঠনের পূর্বে ভুয়া নির্বাচন দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ৩৫০০০ হাজার ডলার। নয়শো সদস্য প্রদর্শন করে নির্বাচনের প্রহসন করে “অনেস্ট ব্যালট” কে ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বলে দাবি করলে ও সদস্য ফি ‘র অর্থ কোথায় জমা হয়েছে তার হদিশ এখনো তৎকালীন নেতৃবৃন্দ দিতে পারেননি। চুরি করতে করতে এই অসৎ গোষ্ঠীটি চুরি বিদ্যায় ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করেছে।
তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন,চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান নেতৃত্ব দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং এই অবস্থান অব্যাহত থাকব। চট্টগ্রামবাসীর হকের অর্থ, লাশ দাফনের অর্থ যারা মেরে দিয়েছেন- তাদের কোনো ভাবেই রেহাই দেয়া হবে না, বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং হয়েছে।


