সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : প্যারিসের আইফেল টাওয়ার থেকে সমস্ত মহিলা কর্মীকে সরানোর শর্ত দিয়েছিল কট্টর হিন্দুবাদী সংগঠন ‘বোচাসন্ন্যাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ (BAPS)। গোটা প্যারিসে প্রবল প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত হিন্দু সংস্থার তরফ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছে। লিঙ্গ বৈষম্যবাদী এই সংস্থাটির ১০০ জনের একটি দল মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে প্যারিসে যায় ।
সোমবার, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রটি ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার একটি হিন্দুত্ববাদী প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় মহিলা কর্মীদের উপস্থিতি সীমিত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশকে ইউনিয়ন কর্তারা “অগ্রহণযোগ্য” বলে সোচ্চার হন। তারই প্রতিবাদে ধর্মঘট ইউনিয়নের তরফে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

‘বোচাসনবাসী শ্রী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ প্রতিনিধিদের ,সামনে আইফেল টাওয়ারের মহিলা কর্মীদের আনা যাবে না। এই ফতোয়ার জেরেই সরিয়ে দেওয়া হয় টাওয়ারের মহিলা কর্মীদের। সিজিটি ইউনিয়নের ডায়ান ডেভয়েন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, সপ্তাহান্তে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তারপরই সোমবার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ফলে সোমবার বন্ধ ছিল এই পর্যটনস্থলটি।
আইফেল টাওয়ার সফরের আগে তাঁদের সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়, সফরের সময়ে কোনও মহিলা কর্মীদের ওই চত্বরে রাখা যাবে না। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। আইফেল টাওয়ার পরিচালন সংস্থা SETE জানায়, এই শর্তাবলি তাদের আদর্শের পরিপন্থী এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকারের বিরোধী। তবুও BAPS-এর ‘শর্ত’ মেনে নেওয়া হয়েছিল।
নারীদের তুচ্ছ ও অবহেলা করে শর্ত দেয়া বোচাসন্ন্যাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (BAPS) বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় আইফেল টাওয়ারের কর্মীসহ প্যারিসের বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থা, নারী সংগঠন ও প্রগতীশীল সাধারণ জনগণ। নারীদের নিয়ে অবমাননাকর শর্ত দেয়ার জন্য কট্টর হিন্দু সংগঠনটির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা জানিয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য বন্ধ করে দেন তাঁরা। একটা গোটা দিন এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের দরজা খোলেনি দর্শনার্থীদের জন্য। শেষ পর্যন্ত হিন্দু সংস্থার তরফ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছে গোটা বিষয়টিতে। তারপর অবশেষে খুলে গিয়েছে আইফেল টাওয়ার।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ফ্রান্সের রাজনীতিতে হইচই পড়ে যায়। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগরি। সরব হয়েছেন ফ্রান্সের একাধিক রাজনৈতিক নেতৃত্বও। মন্ত্রী অরোরে বার্জ বলেছেন, ফ্রান্সে মহিলাদের মুছে ফেলা হয় না। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন লে পেনও বলেছেন, মহিলাদের ‘সরিয়ে দেওয়া’ কখনও মেনে নেবে না ফ্রান্স। আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের কথায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে একঝাঁক সেলিব্রিটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে অতীতে। কিন্তু এমন নারীবিদ্বেষী ঘটনা কখনও ঘটেনি বলেই তাঁদের দাবি।


