নিউইয়র্কে আ.লীগ-বিএনপি মুখোমুখি,১০ গাড়ি পুলিশ, কমিউনিটির ধিক্কার !

সন্ধান২৪.কম : জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মুখোমুখি অবস্থান ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনা স্থলে প্রায় ১০ গাড়ি পুলিশ আসে। পুরো এলাকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। ৭৩ ও ৭৪ স্ট্রীট এবং ৩৭ এভিনিউ বন্ধ হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই মারমুখী ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটি ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। অনেকেই এই দুইদলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন।
ঘটনার সুত্রপাত হিসেবে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র শহীদ তৌহীদ স্মৃতি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাদল মির্জা ও বৃহত্তর নোয়খালীর জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাহিমুল ইসলাম প্রিন্স-এর বাড়ীতে সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপির সমাবেশ হয়। প্রায় ২ ঘন্টা পর সমাবেশের কয়েকজন নবান্নতে চা খেতে আসলে আওয়ামী লীগ সমর্থিক কয়েকজন তাদের উদ্দেশ্যে উস্কানীমূলক কথা বলতে থাকে বলে, অভিযোগ করা হয়।


অপর দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপির কয়েকজন কর্মী আমাদেরকে দেখে নানা রকম কটু মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়। এর সাথে তারা নারায়নগঞ্জের শামীম ওসমানকে নিয়েও অশালীন কথা বলে। আমরা এর প্রতিবাদ করি।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়,হৈ-হট্টগোলের স্থানে আব্দুল হাসিব মামুন,শাখাওয়াত বিশ্বাস, জেড এ জয়,নুরুজ্জামান সরদার,কাজী আজিজুল হক খোকন,মমতাজ শাহনাজ,হোসেন রানাসহ শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অপর পক্ষে ভিডিওতে বিএনপির জাকির এইচ চৌধুরী,ভিপি আলমগীর, মিজানুর রহমান,সবুজ, রাজু,হাবিবুর রহমান সেলিমসহ বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতা কর্মীকে দেখা যায়।

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু,বিএনপির দালালেরা হুশিয়ার সাবধান, খালেদা জিয়ার আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও,চোর চোর বড় চোর তারেক জিয়া বড় চোর।
ভোট চোর ভোট চোর শেখ হাসিনা ভোট চোর,জিয়ার সৈনিক এক হও জোট বাধো,বিএনপির এ্যাকশন ডাইরেক্ট এ্যাকশন, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান।
এক সময় দুই দলের পক্ষ হাততালি দিতে দিতে থেকেই ‘ভূয়া’ ‘ভূয়া’ শব্দ উচ্চারণ করতে থাকে। এক সময় পুলিশ দুই দলের সমর্থকদের দুইদিকে বিভক্ত করে দেয় ।
এদিকে আওয়ামী লীগের দুই নেতা কর্মীকে অপদস্থ করায় প্রতিবাদে ডাইভারসিটি প্লাজায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ।


বিএনপির নেতা-কর্মীরাও এই ঘটনার প্রতিবাদ করে একটি সমাবেশ করে এবং দোষীদের শাস্তির দাবী জানায়।
ফটো সাংবাদিক নীহার সিদ্দিকী তার ফেজবুকে দেয়া ভিডিওতে বলেন,নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং কুরুক্ষেত্র। ১ শতের মতো পুলিশ এসে এই রণক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে আনে।
আওয়ামী লীগের নেতা হোসেন রানা বলেন, বিএনপির কিছু সন্ত্রাসী নবান্নের সামনে শামীম ওসমান ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করে। আমাদের প্রিয় নেত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চোর বলেন। এর প্রতিবাদে আমরা সবাই প্রতিহত করলে তারা পালিয়ে যায়।


বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিজান বলেন, গত কয়েক দিন আগে সাংসদ শামীম ওসমান এই এলাকায় এসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধ্বংস করে ফেলেছে। আজও বাকশালী কায়দায় আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদেরকে আক্রমণ করে কথা বলে। প্রবাসী বাংলাদেশীসহ প্রতিহত করেছি। জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা এলাকা ছাড়ে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেছে।

Ullah Sm Wali বলেছেন, ‘আমি সাতাশ বছর নিউ ইয়র্কে ছিলাম। সপ্তাহে ছয়দিন কাজ করেছি, একটা ম্যাকানিকেল লাইফ ছিলো। সপ্তাহে একদিন ছুটি-ছুটির দিনে আরো বেশী ব্যাস্ত কারন গ্রোসারি/এপার্টমেন্ট ক্লিন/লন্ড্রি সব কিছু মিলিয়ে আমার হাতে কোন অলস সময়ই থাকতোনা যে জ্যাকসন হাইটসে গিয়ে আড্ডা দেবো/পলিটিক্স করবো। ভাবতে অবাক লাগে নিউ ইয়র্কের বাঙ্গালীদের হাতে কত অলস সময়। এতো অলস সময় কিভাবে এফোর্ড করে?’

Md Torikul Islam-Mithu ‘আমি একটু ফাঁকায় দাড়িয়ে দেখছিলাম। এই দুই দলের স্লোগান আর মারামারি দেখে একজন এদেশীয় মানুষ আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে গালি দিয়ে আমার বাংলাদেশী জাতির চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছে। বুঝলাম, আমাকেই শোনাচ্ছে। খুব খারাপ লাগলো, অপমান বোধ করতে লাগলাম। এই অপমান আমার একার নয়, যারা এখন এই পোস্টটি দেখছেন, আপনাদের সবার অপমান। লোকটি চিৎকার করে পুরো জাতির মা তুলে গালি দিচ্ছিলো, তার মধ্যে আপনার মা’ও আছেন, কারণ আপনিও সেই জাতির একজন।’

Sheikh Rahman : বিদেশের মাটিতে যারা আওয়ামীলীগ,বিএনপি করে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হোক।

Mahbub Bond : আমরা কি অসভ্য জাতি ? নাকি সভ্য জাতি । দেশে এসে জনগণের সাথে আন্দোলন করলে খুসি হতাম। বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে নাতো ??

Mohammad Amir Hossan : কি লাভ এখানে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করে! এ দেশে সবাই কাজ করতে হয়! So কেন আমরা নিজের ও দেশের ক্ষতি করছি?


Exit mobile version