সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : কৃষ্ণের মূর্তি বাঁকা, সোজা দাঁড়াতে পারেন না…। কৃষ্ণের হাতে বাঁশি থাকলেও রামের হাতে রয়েছে ধনুক। বাঁশি কোনও কাজে লাগে না, রামের ধনুকই আসল। কৃষ্ণ ঘাড়, কোমর বাঁকিয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন!তো বাঁশি যে কেউ বাজাতে পারে, ভগবানের কাছে ওসব কোনও ব্যাপার নয়।
ফের এমন বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, তথা বাগেশ্বর বাবা। এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নিন্দার ঝড়।

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা বলে বসেন, ‘তোমাদের ঠাকুরজি তো সোজা দাঁড়াতে পারেন না। সব ছবিতেই তিনি বক্র ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। তাঁর পা একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িয়ে, তারপর তাঁর কোমর ব্যাঁকা, এরপর ঘাড়ও বক্র। আমাদের ঠাকুর রাম কিন্তু সব জায়গায় সোজা দাঁড়িয়ে। তাঁর নাম সোজা, তিনি তাকান সোজা এবং হাঁটেন সোজা। তোমাদের কৃষ্ণের দৃষ্টিও বক্র, চলনও বক্র।’
এরপর কৃষ্ণের বাঁশি নিয়েও মন্তব্য শোনা যায় তাঁর মুখে। তিনি বলেন, ‘বাঁশি বাজানো তো একটা খেলা, কিন্তু তির-ধনুক চালানো কোনও খেলা নয়। তোমাদের ঠাকুরের বাঁশি বাজানো এমন কোনও বড় ব্যাপার নয়। এই মঞ্চেই এমন লোক রয়েছেন, যিনি একই রকম বাঁশি বাজাতে পারেন।’
এ ভাবে রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে তুলনা টানায় আপত্তি জানিয়েছে মথুরার ধর্মীয় সংগঠনগুলি। ধর্মবিরোধী বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মথুরা-বৃন্দাবনের সাধু সন্যাসিরাও । তারা বলেন,কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনামের মতোই তাঁর বহুবিধ রূপ। বংশীধারীকে নিয়ে এমন মন্তব্যে সেই রূপকেই অপমান করা হয়েছে, ভক্তের অনুভূতিতে চরম আঘাত করা হয়েছে।এরজন্য ভন্ড বাগেশ্বরের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, এর আগে কলকাতায় এসে দুর্গাপুজোয় আমিষভোজী বাঙালিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,পুজোয় যারা মাছ-মাংস খায় তারা ‘পাষণ্ডী’ বা ভণ্ড। সেই অনুষ্ঠানে পশ্চীমবঙ্গের মৃখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপির অনেক নেতাকে ভন্ড বাগেশ্বরের বাবার পায়ের নিচে বসে থাকতে দেখা গেছে।
অন্য দিকে বিজেপি নেতা সৌমিক ভট্টাচায্য ও দিলীপ ঘোষেরা বাগেশ্বরের এমন কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, বাঙালি তাঁর পছন্দমতো আমিষ বা নিরামিষ খেয়েই পুজো পালন করবে। বাগেশ্বরের কথায় ধর্ম পালন করতে হবে না।
তড়িঘড়ি তিনি ক্ষমা চাইলেও বাঙালি সাধু সন্যাসীরা ধর্ম অবমাননার জন্য তার শাস্তির দাবী করছেন।
একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন
ভন্ড বাগেশ্বরের বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ভক্তদের অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি নানা দাবি করে দেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে অবৈজ্ঞানিক বলে দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়াও ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, চিকিৎসা ও ওষুধের পরিবর্তে আশীর্বাদ এবং মন্ত্রপাঠের উপর বেশি গুরুত্ব দেন বাগেশ্বর বাবা। নারী ঘটিত ব্যাপার নিয়েও অনেকে নানা মন্তব্য করছেন।
জানা যায়, প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য আড়াই থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন বাগেশ্বর। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা।