সন্ধান২৪.কম : পালাতে গিয়ে সাধের দাড়ি কামিয়ে ফেলে রেখেছিলেন গোঁফ। তবে শেষরক্ষা হয়নি তার। অপরিচিত গাড়িতে ঢাকা শহরে এসে যখন ফেলতে যাচ্ছিলেন মুক্তির নিঃশ্বাস ঠিক সেই সময়ে ধরা পড়ে যান তিনি। কারণ, তার জন্যই বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন গোয়েন্দা পুলিশ।
জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার ও লাশ পুড়িয়ে ছাই করার একদম শুরুতে ছিলেন তিনি। এ ঘটনা কিভাবে ঘটলো তার প্রথম ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি এবং শুরু যে তিনি করেছিলেন তা গোপন করেননি। তবে দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর অথবা আসামি হতে যাচ্ছেন এমনটা আঁচ করতে পেরে বুড়িমারী থেকে পালিয়ে যান আলোচিত হোসেন ডেকোরেটরের মালিক আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলী।

সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাকিম মোছা. ফেরদৌসী বেগমের আদালতে আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীকে সোপর্দ করা হয়। এসময় দেখা যায় আবুল হোসেনের মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি নেই কিন্তু গোঁফ আছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার এড়াতে দাড়ি কেটে গোঁফ রেখেছিলেন হোসেন। এছাড়াও বেশভুষা পাল্টাতে টুপি ও পাঞ্জাবি পরা ছেড়ে দেন হোসেন। এভাবে নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনেও শেষরক্ষা হয়নি তার।
লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি ওমর ফারুক বলেন, গত শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকায় আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে তিনি বুড়িমারী থেকে পালিয়ে লোকজনের চোখ এড়িয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারীতে এসে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। সেখানেই নিজের মুখের দাড়ি কেটে ফেলেন এবং গোঁফ রাখেন। এছাড়া টুপি, পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি বাদ দিয়ে শার্ট এবং প্যান্ট পরে রংপুর চলে যান। সেখান থেকে বাসে চেপে ঢাকায় আসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বসবাসরত আপন ছোট ভাই আব্দুর রহমানের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু, শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকায় বাস থেকে নামার সময়ই গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে সেখানকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন শরিফ অবমাননার গুজব ছড়িয়ে আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ছাই করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হত্যা মালাসহ পৃথক তিনটি মামলা রুজু করা হয়। এতে ১১৪ জনকে এজাহার নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত শত শত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এ তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন ।


