নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

নিরাপত্তা টহল চায় আতঙ্কিত ওজোন পার্কের বাংলাদেশীরা

সন্ধান২৪.কম: নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকায় বন্দুকের মুখে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিতে আতঙ্কিত সেখানকার বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাটিতে নিয়মিত পুলিশের টহলসহ নিরাপত্তা চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও এলাকবাসীরা। গত ১৭ মে শুক্রবার লিটল বাংলাদেশ ওয়ে, ১০১ এভিনিউতে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় সিটিলাইন-ওজোন পার্ক বিজনেস এসোসিয়েশন।


এর আগে গত ১২ মে সন্ধ্যায় ওজোন পার্কের ‘জারা লাইফস্টাইল’ নামক পোশাক বিক্রি ও মানি এক্সচেঞ্জ দোকানে অস্ত্রের মুখে নগদ ১০ হাজার ডলার লুট করে ডাকাতরা। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা লুটের অন্তত ৫টি ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় রাস্তায় নামে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম খোকনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিস্ট্রিক্ট ৩২ এর কাউন্সেলর জোয়েন এরিওলা, এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর নূর, আল-আমিন মসজিদের প্রেসিডেন্ট কবীর চৌধুরী, ওজোনপার্ক কম্যুনিটির লিডার মিসবাহ আবদিন, কমিউনিটি এ্যাক্টিভিষ্ট আনোয়ার হোসেন খান, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সেক্রেটারী ও কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে জানান, দিনটি বরোর সংযোগস্থল হওয়ায় এ এলাকা অনেক অবহেলিত। কোন ঘটনা ঘটলে একজন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপায়, এতে দুর্বৃত্তরা সুযোগ পাচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেক রাস্তায় লাইট থাকে না। অন্ধকারে পথ চলার সময় অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। দিনের বেলায় পুলিশের টহল একেবারেই কম থাকায় নির্জন এলাকায় দুর্বৃত্তরা বন্ধুক নিয়ে হামলা করে সব ছিনিয়ে নিচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই দিনই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ডাকাতি ও চিনতাইয়ের ঘটনায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও কমিউনিটিতে আতংক ও উঠকণ্ঠা বিরাজ করছে। তেমন কোন প্রতিকার না পাওয়ায় অনেকেই ঘাটনা চেপেও যায়। বিষয়টি নিয়ে সিটি পুলিশের সক্রিায়তা চান তারা। কারণ শুধু বাংলাদেশিরাই নন অন্যান্য কমিউনিটর মানুষরাও আক্রমণের স্বীকার হচ্ছেন।
সমাবেশে প্রশাসনের প্রতি উপস্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে, সিটি লাইন ওজোন পার্কের মাঝামাঝি স্থানে পুলিশের স্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা। তার আগ পর্যন্ত পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করা। সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, কমিউনিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি ইত্যাদি।
বিজনেস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর নূর বলেন, এ ধরনরে আর কোন ঘটনা আমরা চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাসকরতে চাই ও সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা চাই। এ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনির উপস্থিতি কম থাকায় অন্যরা সুযোগ নিচ্ছে। তাই পুলিশের টহল বাড়াতে হবে।
খাইরুল ইসলাম খোকন বলেন, কিছুদিন ধরে একই ধরনের ঘটনা ঘটছেই। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দা কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। এক সপ্তাহেই তিনটি ঘটানা ঘটেছে। অথচ নিরাপত্তা দিতে সীমাহীন গড়িমসি চলছে। বার বার আবেদন জানিয়েও পুলিশের টহল বৃদ্ধির সাড়া মেলেনি। অথচ মানুষের ট্যাক্সে প্রশাসন চলছে।
কাউন্সেলর জোয়েন এরিওলা বলেন, এই এলাকায় বাংলাদেশিরা সর্ববৃহৎ কমিউিনিটি। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সবার জন্যই সমান। তাই এটি সব কমিউনিটর বিষয়। সিটি করপোরেশেনের সঙ্গে আলোচনা করে এই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে জোর চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপনের বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।

 

 

 

 

Exit mobile version