সন্ধান২৪.কম: নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজোন পার্ক এলাকার দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ১৩ মে রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংঘঠিত এ ঘটনায় বন্দুকের মুখে দোকানীকে জিম্মি করে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ, মোবাইল ও ওয়ালেট ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির প্রতিবাদ র্যালির আয়োজন করেছে। এলাকায় পুলিশের টহলটিম চান ব্যবসায়ীরা
৭৪-১৩ ১০১ এভিনিউতে অবস্থিত পোশাকের দোকান জারা লাইফস্টাইলে এ ঘটনা ঘটে। দোকানে বিভিন্ন দেশে টাকা পাঠানোর মানিএক্সচেঞ্জ ব্যবসাও রয়েছে। বন্ধুক ঠেকিয়ে ক্যাশ থেকে সব টাকা নিয়ে দোকানদারকে বাথরুমে আটকে রেখে সটকে পড়ে ডাকাতরা। এছাড়া তাকে শাররিক আঘাতও করা হয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও কমিউনিটিতে আতংক ও উঠকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা বলছেন প্রায়ই ওজোন পার্ক এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটানা ঘটছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য অনেকেই ঘাটনা চেপেও যায়। বিষয়টি নিয়ে সিটি পুলিশের সক্রিায়তা চান তারা। এর আগের সপ্তাহেও একই এলাকা অন্য একটি দোকানে একই ধরনের ঘট্না ঘটে।
জারা লাইফ স্টাইলে ঘটনার সময় দোকানে দায়িত্বে থাকা আখলাকুর রহমান আজকালকে জানান, ‘সন্ধ্যা ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। দোকনে একজন কাস্টমার ছিল, তিনি চলে যাবার পর দোকানে আমি একাই ছিলাম। এমন সময় দুইজন ডাকাত দোকানে আসে। একজন আমার কাছে এসে পিস্তাল বের করে, তাক করে। অন্যজন দোকানের বাইরে পাহারায় ছিল। দোকানের ভিতরের ডাকাত পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখায়। সে আমার বুকে ও মাথায় আঘাত করে ক্যাশে যা আছে তা বের করে দিতে বলে। ক্যাশ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি নিয়ে যায়। এছাড়া আমার আইফোন ১৪ প্রোম্যাক্স এবং ওয়ালেটও ছিনিয়ে নেয়। দোকানের কাস্টমারের টাকা ও দোকান ভাড়া ছিল সবই নিয়ে গেছে। টাকা নেয়ার পর ডাকাত আমাকে পিস্তলের মুখে বাথরুমে আটকে রাখে। কোন ধরনের চিৎকার না করতে বলে। না হলে গুলির ভয় দেখায়। কিছুক্ষণ পর দোকান থেকে কোন শব্দ না পেয়ে আমি জোরে ধাক্কা ধাক্কি করলে, বাথরুমের দরজা খুলে যায়। পরে দোকানে থাকা একটি ইমার্জেন্সি ফোন অন করে মালিককে কল দিই।
জানা গেছে, স্টাফের কল পেয়ে মালিক রাজু আহমেদ পুলিশে কল করে ঘটনাটি বলেন। পরে পুলিশ এসে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার বিস্তারিত জেনে যায়। পরের দিনও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
জারা লাইফ স্টাইলের মালিক রাজু আহমেদ বলেন, মঙ্গলবারও পুলিশ আসে কিন্তু এ ঘটনার কোন অগ্রগতি নেই বলে জানায়। এমন ঘটানা প্রায়ই ঘটছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। অন্যান্য এলাকায় পুলিশের সিকিউরিটি ক্যাম্প আছে, টহল দল আছে। কিন্তু ওজোন পার্ক এলকায় নাই। তাই আমরাও এই এলাকায় পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল টিম চাই।
এদিকে একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়েল ঘটানা নিয়ে এক জরুরি সভা করে সিটিলাইন-ওজোন পার্ক বিজনেস এসোসিয়েশন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কমিউনিটি একটিভিস্ট ও স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দও এতে উপসিস্থত ছিলেন। সভায় প্রতিবাদ র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়। এসোসিয়েশন নেতারা বলেন, বেশ কিছু দিন ধরেই এই এলকায় অপরাধের ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই সময় হয়েছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিলে এর প্রতিবাদ করা। লিটল বাংলাদেশ ওয়ে, ১০১ এভিনিউ, ড্রিউ স্ট্রিটে স্থানয়ি আল-আমিন মসজিদ, ওজোন পার্ক ১১৪১৬ এলাকায় শুক্রবার জুমার পর দুইটার দিকে এ প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে। এতে সিটি কাউন্সিল থাকবেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওজোন পার্কে এক পথচারীকে ধরে ছিনতাইকারীরা তার সবকিছু কেড়ে নেয়। তিনি কাজ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এ সপ্তাহেই ৮০ স্ট্রিটের একটি দোকানে ঢুকেও টাকা কেড়ে নেয় দুর্বিত্তরা।
বিজনেস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর নূর বলেন, এমন ধরনরে ঘটনা কখনোই আশা করি না। কিন্তু ঘটছেই। ডাকাতির ঘটনায় মঙ্গলবার আমরা জরুরি বৈঠক করেছি। সেখানে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে র্যা লি করা হবে। সিটির গুরুত্বপূর্ণ লোকজন সেখানে উপস্থিত থাকবেন। আমরা আমাদের দাবি ও প্রতিবাদ জানানো। এ ধরনরে আর কোন ঘটনা আমরা চাই না।
বিজনেস এসোসিয়শেনের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম খোকন আজকালকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় এমন ঘাটনা বেড়ে গেছে। কিন্তু ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দা কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। এক সপ্তাহেই তিনটি ঘটানা ঘটেছে। দোকান।
নিউইয়র্কে বন্দুক ঠেকিয়ে বাঙালির দোকানে দুধর্ষ ডাকাতি
