সন্ধান২৪.কম : বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
এছাড়া অভিযোগপত্রভুক্ত অন্যতম আসামি প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
১২ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মহিতুল আলম, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শাহপরান তুষার ও শুভাশীষ প্রামাণিক, অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ওমর ফারুক আসিফ সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ৯ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে বিচারক তাদের অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। ফলে এ মামলার অনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
অভিযোগ গঠনের আদেশের বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মতিউর রহমানসহ অপরাপর আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালতকে বলেছিলাম, এই মামলা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর কারণ নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ওই মামলা থাকা অবস্থায় ঘটনার পাঁচ দিন পর আদালতে আরেকটি নালিশি মামলা করা হয়। নালিশি মামলার আদেশে দেখা যায়, থানায় করা অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন না নিয়েই নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাকিম আদালত, যা ফৌজদারি কার্যবিধি ২০৫-এর (ঘ) ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হাকিম আদালতের উচিত ছিল অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নালিশি মামলাটি আমলে নেয়ার অথবা উভয় মামলা একত্রে তদন্ত করার আদেশ দেয়া। এক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নালিশি মামলা তদন্তের আদেশ দেয়া হয়। এছাড়া এ মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি টর্ট আইনে বিচারযোগ্য। কোনভাবেই ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। নালিশি মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষীর তালিকা একান্ত প্রয়োজন। অথচ এই মামলার আরজিতে কোন সাক্ষীর তালিকা নেই। নালিশি মামলায় শুধু প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে আসামি করা হয়। অথচ সেদিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাই আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তিনি অব্যাহতি পাবেন। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই অভিযোগ গঠনের এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ নভেম্বর ঢাকার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান ছিল। সেদিন মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় নাইমুল আবরার। এ ঘটনায় নাইমুলের বাবা মজিবুর রহমান গত বছরের ৬ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে নালিশি মামলা করেন।


