সন্ধ্যান প্রতিবেদন : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ‘বিতর্কিত’ কর্মকান্ড নিয়ে দলের ভিতরে চলছে চরম অসন্তোষ।
সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে খোদ দলের ভিতর থেকে পদবাণিজ্য,তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে । তিনি সংগঠনের রীতি-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেককে দলে অর্ন্তভুক্ত করেছেন। এর ফলে দলে অনেক ভূ্ঁইফোড় নেতার সৃষ্টি হয়েছে। এদের জন্য দলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে বলে, দলের অনেক নেতা-কর্মী সোসাল মিডিয়ায় সরব হয়ে উঠৈছে।

এ ছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদের স্মরণে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ও জ্যাকসন হাইটসে শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না ড. সিদ্দিকুর রহমান। এই নিয়ে চলছে নানা চর্চা। অনেকে বলেন, ইচ্ছা করেই তিনি এসময় তিনি বিনোদন সফরে পরিবার নিয়ে অন্য ষ্টেটে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ আজাদের মাধ্যমে ভুঁইফোড় হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীদের উত্থান হওয়ায় দলের দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ অনেক দিনের । এর কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দলের ত্যাগী নেতারা। বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। হঠাৎ আওয়ামী লীগ হয়ে যাওয়া ধান্দাবাজ ও ভুঁইফোড় অনেকেই কেউ মূল দলে কেউ অঙ্গ সংগঠনে ঢুকে গেছেন। এই ভুঁইফোড়দের বাড়বাড়ন্তে অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতা পেছনের সারিতে পড়ে গেছেন। অন্যদিকে, এ অসন্তোষ খন্ড-বিখন্ডতার রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ড. সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে সাকাওয়াত আলী ফেসবুকে মন্তব্য করেন, ‘উনার ভুমিকা সব সময়ই কিছুটা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে ১৫ বছর স্বপদ ধরে রাখা কি সমীচীন? …এখানে অনেকে ই যোগ্য আছেন। সিদ্দিকুর রহমান নয়, উনার ১৫ বছর এক পদ ধরে রাখার বিপক্ষে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একজন উচ্চপর্যায়ের নেতা বলেন, গঠনতন্ত্রের বাইরে অননুমোদিত দোকান খুলে অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর নেয়া দরকার। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা নেতাই হোন না কেন, এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের একজন নেতা ফেসবুকে বলেন, দলের সঙ্কটকালে এদের কাউকে পাওয়া যায় না ।
তুরান রহমান তার ফেসবুকে লেখেন, ‘২০২৩ সালে ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার হোটেলের সম্মুখে বি এন পি জামাতের সঙ্গে গোঁন্ডগোলের মামলায় অভি নামের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গত এক মাস ধরে নিউইয়র্ক জেলে দেখার কেউ নেই. নেত্রীর সামনে নিজাম চৌধুরী বলেছিলো সে সব খরচ বহন করবে কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
এর উত্তরে মো. আনিসুজ্জামান সবুজ মন্তব্য করেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা । যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভিতরে এতো গ্রুপ সব গ্রুপ মিলে যদি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা অভির জন্য ফান্ড রেইজিং করে, তাহলে তো অভির এই মামলা নিষ্পত্তি করতে সমস্যা হওয়ার কথা না । আর একটা সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রে যেসব আওয়ামী লীগ পন্থী ব্যবসায়ীরা আছে তারা দলের নেতা কর্মীদের পিছনে টাকা খরচ করার চাইতে বিভিন্ন পিকনিক, মেলা ও গান বাজনার পিছনে টাকা খরচ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ।’
সাইফুল আলম বলেন,‘নেত্রী যাকে টাকার মালিক বাড়িয়েছিল সেই নিজাম চৌধুরী কোথায় ? সুসময়ে তারা আবার আসবে ?’
রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে এখন অনেকে শেখ হাসিনাকে খুশি করতে তোষামোদীতে ব্যস্ত। নিচের স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ স্তর পর্যন্ত একই চিত্র । রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, দল যখন ক্ষমতায় না থাকে তখন তাদের দেখা মেলে না। ক্ষমতায় এলেই ওরা গড়ে তোলে নিত্যনতুন লীগ।


