কামরুল হাসান পাভেল
———————–
দ্বিমত করবেন জানি; বলবেন, ফুটবল জায়ান্ট ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা অনুন্নত, গরীব কেন তাইলে? সহজ কারণ হলো ওরা পেশাদার খেলোয়াড়, খেলার জন্য খেলেনা; সাদা কথায়, টাকার জন্য খেলেে।
ফুটবল মূলত: আমাদের চারটা জিনিস শেখায়:
এক, টিম-ওয়ার্ক তথা মিলেমিশে দায়িত্ব গ্রহন।
দুই, স্বার্থত্যাগ।
তিন, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা তথা সময় নিয়ন্ত্রণ। চার, খেলাকে (জয়/পরাজয়) সহজভাবে নেওয়া।
শরীর ভাল থাকে, মন প্রফুল্ল হয় – এগুলো ফুটবলের এডেড বেনেফিট। টিমে সবার মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার দরকার হয় জয়ের জন্য। টিম এবং জাতির জন্য না খেলে শুধু নিজের জন্য (উদাহরণ, আর্জেন্টিনার মেসি, ব্রাজিলের নেইমার ইত্যাদি) খেলতে গেলেই পরাজয় অনিবার্য। এক একজন খেলোয়াড় যত বড়ই হোকনা কেন, ব্যক্তিগত কারিশমা দেখাতেই যখন মেধা ব্যয় করে, তারা আর বিজয়ী হয় না এবং ফলে, ওরা জাতিগগভাবেও পেছানোই থাকে।
২.
নব্বই দশক পর্যন্ত আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে ফুটবল খেলাটা নিয়মিত চালিয়ে গেছি বলে আমাদের সাথে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর একটা বিশাল ফারাক দেখবেন কর্মক্ষেত্রেও: সবাই কেবল নিজেরটা জাহির করে বাহবা নিতে চায়, সমালোচনা সহ্য করতে পারেনা এবং চরম মাত্রায় স্বার্থপর বিধায় প্রতিষ্ঠান এক পা সামনে বাড়লে দুইপা পিছিয়ে যায় – টিমওয়ার্কের কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও বাস্তবে টিমওয়ার্ক কাজ করেনা, একে অন্যের পিছনে চোগলখোরি করেই কুল পায়না, যাদেরকে বসেরা আবার মেসি/রোনাল্দো নামে ডাকেন আদর করে; অর্থাৎ টিমের সবাই খেটে কাজটা করলে, যেহেতু তিনি গোলটা দিছেন সে বা তারা টিমের কথা চিন্তা করবে কেমনে?
আমাদের নব্বইয়ের পরের প্রজন্ম মাঠে-ঘাটে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলে নাই। ফলে, তাদের সাথে আমাদের চিন্তা ও কর্মপ্রকৃয়ার বিরাট ফারাক। ওদিকে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের বাইরে জার্মানি, ফ্রান্স, ইটালী, ইংল্যান্ড এমনকি কোরিয়ার ফুটবলের দিকে দেখলেও এই সত্যটা টের পাওয়ার কথা।
আরকেটা ফারাক দেখবেন বিজয় উদযাপনে।
অসভ্য জাতির খেলোয়াড়রা পরাজিত হলে নিজের দেশে নিগৃহীত হন নানা উপায়ে; সভ্য দেশে এরকমটা হইতে শুনছেন কখনো? সেফুদা এ কারণে আমাদের “গরীব” বলে তা কিন্তু না! ফুটবলের মনস্তত্ব না বুঝায়, মানে আমরা মননে গরীব বলে তিনি বাঙালিকে গরীবের বাচ্চা গরীব (প্রজন্ম প্রজন্মান্তরে) বলে যথাযথ গাইলটাই দেন তিনি! আবার, গরীব গরীবকেই সাপোর্ট করে সব বিষয়ে; খেলা বিষয়ক সিনেমা কি নাটকেও দেখবেন, গরীবদলটাকেই সাপোর্ট করে গরীবেরা – চায় গরীবের দলটা জিতুক; হাত দিয়া গোল করুক, কি নিজের ঠ্যাংয়ের লগে উষ্টা খাইয়া পইরা পাওয়া পেনাল্টি কিক!
আচ্ছা, আসেন প্যাঁচাল বাদ্দেই!
সভ্যতার মাপকাঠিতে ১৯৫০ সালের ইংল্যান্ডের থেকে এখনো আমরা ৭৫ বছর পিছায়ে আছি। তাই শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন, জামাতি তান্ডবে তারেক জিয়া দেশ চালাইতে পারবেন কী না, এনসিপির বাটপারদের টাকা মারার নতুন খবর লিক হলো কি-হলোনা, শাওন কেন জুলাই-বিরোধী, মাদেসার বলাৎকার কবে থামবে, জুলাই বাটপাররা মাইর খাওয়ার ভং ধরছে ক্যান হঠাৎ কইরা, নয়া বুদ্ধিসেবীদের স্বাধীনতার নয়া ন্যারেটিভ মানুষ আদৌ খাবে কী না, উচ্ছিষ্টভোজী বুদ্ধিবেশ্যারা কবে বিপ্লব আর অভ্যুত্থানের পার্থক্য করতে শিখবে – ইত্যাদি চিন্তা বাদ দিয়ে আসেন কিছুদিন ফুটবলে মজে থাকি!


