সন্ধান২৪.কমঃ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরে নিতে জাতিসংঘে নিযুুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন জাতিসংঘের সাথে কাজ করবে। নিউইয়র্কে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত তার লিখিত বক্তব্যে একথা বলেন।
গত ১৭ জানুয়ারী সন্ধায় নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, “ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি যারা এখানেে আশ্রয়ে আছে,তাদেরকে দেশে ফেরত নেয়ার সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করতে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন প্রস্তুত থাকবে।”
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুহিত বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্ম স্বিকৃত খুনীরা যে দেশে আছে,সে সব দেশ জাতিসংঘের সদস্য। তাই আমরা সেইসব দেশের সাথে পারস্পারিক আলোচনা করবো। খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনগত দিকগুলো নিয়ে কথা বলবো। এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাব।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি ২০২২ সালের কার্যক্রম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। সেই সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ২০২৩ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০২২ সালটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কর্মমূখর একটি বছর ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ , জলবায়ু পরিবর্তন, করোনা মহামারিসহ অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য সংস্থাসমূহ বিশ্বের সকল মানুষের দুঃখ-দুর্দশা কমিয়ে, ভবিষ্যতে সকলের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে গেছে। এসকল বৈশ্বিক ইস্যুতে এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যু, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন,নারীর ক্ষমতায়ন, জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ আমাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে আমাদের মিশনসরব ছিল।
রোহিঙ্গা সমস্যার কথা তুলে ধরে আব্দুল মুহিত লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২২ সালে মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আমাদের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টাঅব্যাহত রাখা। রাশিয়া ও ইউক্রেণ যুদ্ধ, আফগানিস্তানসংকটসহ অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখেও আমরা আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে এ বিষয়টি আলোচনায় রেখেছি।
সাধারণ পরিষদে এবার আমরা গতবছরের চাইতেও জোরালো একটি রেজুল্যুশন এনেছি যা বিপুল সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়েছে। রেজুল্যুশনটি ১০৯ টি দেশ কো-স্পন্সর করেছে যা ২০১৭ সাল থেকে এ যাবত সর্বোচ্চ।
বিগত ২১ ডিসেম্বর ২০২২ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মত “মিয়ানমারের পরিস্থিতি” বিষয়ক একটি রেজুল্যুশন গৃহীত হয়। মিয়ানমারের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জরুরি অবস্থা, বন্দি মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। রেজুল্যুশনটির উপর ভোট আহবান করা হলে তা ১২-০ ভোটে অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য, এই প্রস্তাবনার বিপক্ষে কোন সদস্য ভোট দেয়নি অথবা কোন স্থায়ী সদস্য ভেটো প্রদান করেনি। বলা বাহুল্য, এই রেজুল্যুশনটি রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের প্রতি জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অঙ্গটির শক্তিশালী সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটসহ অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে গৃহীত রেজুল্যুশনটি রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আরো সুসংহত করতে সহায়ক হবেবলে আশা করা যায়।
এ ছাড়া মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি, জাতিসংঘের রেজুলেশনে জাতির পিতার মহান উক্তি “ সকলের সাথে বন্ধুত্ব,কারো সাথে বৈরিতা নয়’ সন্নিবেশিত করা, শান্তি রক্ষা কার্যক্রম, জাতিসংঘে নেতৃত্ব প্রদানের ভূমিকা,জাতিসংঘ এবং বিভিন্নি সংস্থার নির্বাচন, জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন,জনকুটনীতি,মিডিয়ার সাথে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে আনেন।
অনুুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন।
শেষে আগত সাংবাদিকদের নৈশ ভোজে আমন্ত্রণ জানান।


