সন্ধান২৪.কম: বিয়ানীবাজারবাসীর ব্যানারে মিসবাহ-অপু পরিষদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি নির্বাচন কমিশন আর একটি পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
গত ৩০ অক্টোবর সচেতন বিয়ানীবাজারবাসীর ব্যানারে মিসবাহ-অপু পরিষদের নেতৃবৃন্দ গত ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সমিতির নিরপেক্ষ ও শুষ্ঠু নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এক সাংবাদিক সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিত্তোর দিতেই গত ১৩ নভেম্বর সোমবার নির্বাচন কমিশন আর একটি সংবাদ সম্মেনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহি উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার হেলাল আহমদ, ছালেহ আহমদ মনিয়া, মোহাম্মদ আব্দুন নূর ও নূরুল ইসলাম ।
নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মিসবাহ-অপু পরিষদের
একক ভাবে ভূয়া তথ্য উত্থাপন, অসত্য ও কূরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করার প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে বিয়ানীবাজারবাসীকে হেয় করার জন্য বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,গত ২২ অক্টোবর সমিতির ২০২৪-২৫ সালের “কার্যকরী পরিষদ” নির্বাচনের জন্য একটি শুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়। শুরু থেকে সংগঠনটি গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। গঠনতন্ত্রের ১৩নং ধারা অনুযায়ী সমিতির উপদেষ্ঠা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে আমাদের উপর দায়িত্ব অর্পন করেন।
শুরু থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্ব›দ্বী উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে সকলের মতামতের সমন্বয়ে নির্বাচনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাই।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর সোমবার ওজনপার্কস্থ মমোস পার্টি হলে সচেতন বিয়ানীবাজারবাসীর ব্যানারে মিসবাহ-অপু পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সদ্য সমাপ্ত বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচনে নির্বাচিত অনেক প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দ, গত ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে হীন লক্ষ্যে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার মানষে এক সাংবাদিক সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। ওই সাংবাদিক সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভায় একক ভাবে ভূয়া তথ্য উত্থাপন, অসত্য ও কূরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান সহ যে ভাষা ব্যবহার কওে,আমরা নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্যবৃন্দ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি । মিথ্যা তথ্য সম্বলিত বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। সেই সাথে সমগ্র বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিয়ানীবাজারের মানুষের নির্বাচন নিয়ে গঠনমূলক, ইতিবাচক এবং প্রশংসামূলক মন্তব্যের পর, এমনকি নির্বাচনে মিছবাহ-অপু পরিষদের নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জয়-পরাজয়ে ভোটারগনের রায়ই চূড়ান্ত। এখানে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটের কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যকরী পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং প্রতিদ্ব›িদ্ব উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে টেস্টিং ভোট গ্রহণ করে সকলের সম্মতিতে ভোটের কার্যক্রম শুরু করেন। ভোটিং মেশিন বন্ধ করার আগে প্রতিদ্ব›দ্বী উভয় পক্ষ এবং নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সর্বশেষ ভোট গ্রহনের মধ্য দিয়ে ভোটিং মেশিন বন্ধ হবার চূড়ান্ত ঘোষনা দেন। ভোটিং মেশিনের সম্পূর্ন কাজ বন্ধ হবার পর মূল মেশিন থেকে ফলাফল সিট বিধি মোতাবেক প্রিন্ট করে স্বাভাবিক নিয়মে বেসরকারী ফলাফল ঘোষনা করা হয়।
এখানে নির্বাচন কমিশনের বা কোন কমিশনারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নাই। উল্লেখ্য যে, ফলাফল পুনরায় প্রিন্ট করার অনুরোধ আসলে কমিশনের পক্ষে মেশিনের অপারেটরকে সাবার সম্মুখে হাজির করে পুনরায় ফলাফল প্রিন্ট করার নির্দেশ দিলে অপারেটরের উত্তর ছিল ”একই ফলাফল প্রিন্ট আসবে” বিধায় আমরা সময় ক্ষেপন না করে ফলাফল ঘোষনা করি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠক করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যা অবান্তর ও অসাংবিধানিক। বরঞ্চ নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠকে অযাচিত কারো অনুপ্রবেশ বা অবস্থান করা অসাংবিধানিক ও অন্যায়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উভয় প্যানেলের এজেন্ট থাকা স্বত্বেও কোন প্রার্থী কিভাবে জাল ভোট সনাক্ত করতে কেন্দ্রের ভিতরে গাঁয়ের জোরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অবস্থান করেন তা আমাদের প্রশ্ন। দ্বিতীয়তঃ ২০২১ সালের জনৈক সাবেক নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে মিছবাহ-অপু পরিষদের এজেন্টের দায়িত্ব পালন করে জাল ভোটের যে অসত্য তথ্য বা বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।
